ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। ছবি: সমাজমাধ্যম।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে ভারতীয় দলের মানসিকতা স্পষ্ট করে দিলেন সূর্যকুমার যাদব। জানালেন, সব প্রতিযোগিতাতেই একই রকম মানসিকতা নিয়ে খেলতে নামে তাঁর দল। সে কারণেই সাফল্য পাচ্ছেন তাঁরা। একই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, ওয়াশিংটন সুন্দরকে নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে নারাজ তাঁর দল।
বিশ্বকাপের আগে অধিনায়কদের সাংবাদিক বৈঠকে সূর্যকুমার বলেছেন, “আমরা গত ২-৩ বছর ধরে ভাল ঘরানার ক্রিকেট খেলছি। তবে ইদানীং মানসিকতা একটু বদলেছে। আগে আমরা আইসিসি প্রতিযোগিতার থেকে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় আলাদা করে দেখতাম। এখন আইসিসি প্রতিযোগিতা, এশিয়া কাপ বা দ্বিপাক্ষিক ম্যাচ একই ভাবে খেলার চেষ্টা করি।”
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে এই ফরম্যাটে সব দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় জিতেছে ভারত। পাশাপাশি এশিয়া কাপও ঘরে তুলেছে। সূর্যকুমারের কথায়, “আমরা আগের বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার সময়েও আলাদা কিছু মনে হয়নি। মনে হয়েছিল, গত এক বছর ধরে তো এ ভাবেই খেলছি। গত বছর থেকে যে ঘরানার ক্রিকেট খেলছি, বিশ্বকাপেও তেমনই খেলব। ভাল খেললে ফলাফল আমাদের পক্ষেই যাবে।”
ভারতীয় দলের মানসিকতা বদলে দেওয়ার নেপথ্যে কোচ গৌতম গম্ভীরকে কৃতিত্ব দিয়েছেন সূর্যকুমার। জানিয়েছেন, ব্যক্তির আগে দল, এই নীতিতেই বিশ্বাস করেন গম্ভীর। সূর্যের কথায়, “সাজঘর একই আছে। শুধু কয়েকটা বিষয় বদলেছে। গম্ভীর কোচ হয়ে আসার পর থেকে দারুণ সব জিনিস ঘটছে। সাজঘরে এমন একটা পরিবেশ উনি তৈরি করেছেন যাতে ক্রিকেটকে সত্যিকারের দলগত খেলা মনে হচ্ছে। উনি বলেছেন, ব্যক্তিগত মাইলফলক পাশে সরিয়ে রাখতে হবে। দলের লক্ষ্যই আসল।”
সূর্যের সংযোজন, “তিরুঅনন্তপুরমে আগের ম্যাচে ঈশান ৯০-এর ঘরে ছিল। ছয় মেরে শতরান করল। এটাই গম্ভীর চাইছেন। মাইলফলক সরিয়ে রেখে দলের লক্ষ্যপূরণে সাহায্য করো। সকলে সে ভাবেই ভাবছি। তাই আলাদা করে কিছু করার দরকার পড়েছে। সকলের স্বাধীনতা রয়েছে। ক্রিজ়ে যারা রয়েছে তারাই সিদ্ধান্ত নেয়। সাজঘরে হাসিখুশি পরিবেশ রাখা হয়। আমরা একসঙ্গে নৈশভোজ করি, সিনেমা দেখি। এই ছোট ছোট জিনিসগুলোই অনেক সাহায্য করে।”
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ভারতে শিশিরের প্রভাব নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। তা নিয়ে সূর্যকুমারের মত, “আমরা ভাল ব্যাট করছি, রান তাড়া করছি। সেমিফাইনাল হোক বা ফাইনাল, ম্যাচের দিন যা পরিস্থিতি থাকবে সেটা মেনে নিয়েই খেলতে নামব। প্রথমে ব্যাট করতে হলে সেটাই করব। স্কোরবোর্ডে রান তুলে রাখলে ভালই হয়। আমরা শিশিরের প্রভাব থাকা সত্ত্বেও অনেক ম্যাচে ভাল খেলেছি। দলের অনেকে এই পরিবেশ জানে।”
সূর্যকুমার স্পষ্ট করেছেন, একশো শতাংশ ফিট না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনকে নিয়ে ভাবতে চান না তাঁরা। ভারতের অধিনায়কের কথায়, “তিলক বিরতি পেয়ে ফিরেছে। নিউ জ়িল্যান্ড সিরিজ়ে খেলতে পারেনি। এখন ওকে পুরো আলাদা লাগছে। আশা করি ওয়াশিংটনকেও সে ভাবেই ফেরত পাব। ওর রিহ্যাব ভাল হচ্ছে। ফিরে আসার দোরগোড়ায় রয়েছে। আমরা চাই ও পুরো ফিট হয়ে ফিরে আসুক। ধৈর্য রাখতে হবে।”