IPL 2026

কোহলিকে ছাপিয়ে গেল বৈভব, আইপিএলে প্রথম হার বেঙ্গালুরুর, জুরেলের অর্ধশতরানে টানা চার ম্যাচ জিতে শীর্ষে রাজস্থান

শুক্রবার আইপিএলে রাজস্থান এবং বেঙ্গালুরু মুখোমুখি হয়েছিল ঠিকই। তবে আসল নজরটা ছিল দু’জনের দিকে। বিরাট কোহলি এবং বৈভব সূর্যবংশী। সেই লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসল ১৫ বছরের বৈভবই।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ০০:০৩
Share:

অর্ধশতরানের পর বৈভব। ছবি: পিটিআই।

শুক্রবার আইপিএলে রাজস্থান এবং বেঙ্গালুরু মুখোমুখি হয়েছিল ঠিকই। তবে আসল নজরটা ছিল দু’জনের দিকে। বিরাট কোহলি এবং বৈভব সূর্যবংশী। প্রথম জন ‘জেনারেশন গোল্ড’, দ্বিতীয় জন ‘জেনারেশন বোল্ড’। ম্যাচে ‘গোল্ড’কে হারিয়ে দিল ‘বোল্ড’, অর্থাৎ সাহসী ক্রিকেটই। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে বৈভব ছাপিয়ে গেল কোহলিকে। তার ২৬ বলে ৭৮ রান এবং ধ্রুব জুরেলের অপরাজিত ৮১ রানের সৌজন্যে বেঙ্গালুরুকে ৪ উইকেটে হারাল রাজস্থান। টানা চারটি ম্যাচ জিতে উঠে গেল আইপিএলের শীর্ষে। চলতি আইপিএলে প্রথম হারল বেঙ্গালুরু।

Advertisement

ম্যাচের আগে সম্প্রচারকারী চ্যানেলের তরফে বার বারই এই দু’জনকে দেখানো হচ্ছিল। কোহলি হালকা ‘নকিং’ করলেও ব্যাট হাতে দেখা যায়নি বৈভবকে। দলের সাপোর্ট স্টাফের সঙ্গে গল্প করছিল সে। তখনও টস হয়নি। অর্থাৎ আগে না পরে, কখন ব্যাট করতে হবে জানত না বৈভব। তবু অতিরিক্ত পরিশ্রম করেনি সে। তখনও বোঝা যায়নি ব্যাটিংয়ের সময় এমন মূর্তি ধারণ করবে সে।

২০২ তাড়া করতে নেমে নিজের প্রথম বলেই ভুবনেশ্বর কুমারকে চার মেরে স্বাগত জানায় সে। এর পর যত সময় এগিয়েছে, তত আগ্রাসন বেড়েছে বৈভবের। অভিনন্দন সিংহ, জশ হেজ়লউড, ভুবনেশ্বর— কেউ বাদ যাননি। ভুবনেশ্বরকে বড় ছয় মেরে ১৫ বলে অর্ধশতরান করে বৈভব। এর আগে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে ১৫ বলে অর্ধশতরান করেছিল সে। অর্থাৎ ধোনি এবং কোহলি, আইপিএলের দুই তারকার দলের বোলারদের কোনও সম্মানই দেখায়নি সে।

Advertisement

বৈভবের মতোই খেলছিলেন জুরেলও। যশস্বী জয়সওয়াল (১৩) আউট হওয়ার পর নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু আগ্রাসনে টেক্কা দিচ্ছিলেন বৈভবকে। অভিনন্দনের দ্বিতীয় ওভারে নেন ২৪ রান। পাওয়ার প্লে-র মধ্যেই রাজস্থান ৯৭ রান উঠে যায়। বেঙ্গালুরু সমর্থকেরা তত ক্ষণে হারের প্রহর গুণতে শুরু করে দিয়েছেন।

পরিস্থিতি বদলে যায় নবম ওভারে। ক্রুণাল পাণ্ড্যের বলে লং-অনের দিকে তুলে মেরেছিল বৈভব। ভাগ্যের এমন পরিহাস, সেই বল জমা পড়ল কোহলিরই হাতে। অর্থাৎ ‘গোল্ড’-এর হাতেই তালুবন্দি হয়ে সাজঘরে ফিরতে হল ‘বোল্ড’কে। বৈভব ফিরতেই রাজস্থানের রান তাড়া করার গতি এলোমেলো হয়ে যায়। ক্রুণালের বুদ্ধিতে পরের বলেই আউট হন শিমরন হেটমায়ার (০)। পরের ওভারে ফিরে যান রিয়ান পরাগ (৩)। অর্থাৎ ১২৯/১ থেকে ১৩৪/৪ হয়ে যায় রাজস্থান।

Advertisement

রিয়ান ফেরার পরেই জুরেল এবং রবীন্দ্র জাডেজা ধরে খেলার সিদ্ধান্ত নেন। যে রাজস্থানের প্রতি ওভারে একাধিক চার-ছয় হচ্ছিল, তারাই ১৪ বলে কোনও চার মারেনি। সেই খরা কাটান জাডেজা। প্রশংসা করতেই হবে জুরেলের। একটা সময় তিনি অত্যন্ত আগ্রাসী ক্রিকেট খেলছিলেন। তবে দলের প্রয়োজনে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলেছেন। অক্রিকেটীয় শট খেলেননি। সেই মুহূর্তে দলের ভিত শক্ত করার দরকার ছিল। জুরেলও নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। দলকে জিতিয়ে তবেই মাঠ ছাড়লেন।

বেঙ্গালুরুর দিনটা কেমন যেতে পারে, তা বোঝা গিয়েছিল প্রথম বলেই। জফ্রা আর্চারের সামান্য উঁচু হয়ে আসা বল কোনও মতে ব্যাট দিয়ে ঠেকিয়েছিলেন ফিল সল্ট। ব্যাটের কানায় লেগে বল উঠে যায়। সহজ ক্যাচ ধরেন জুরেল। এর পরে অবশ্য কয়েক বল রাজস্থানকে দাঁড়াতে দেয়নি বেঙ্গালুরু। প্রথম ওভারেই আর্চারকে তিনটি চার মারেন দেবদত্ত পডিক্কল। একটি চার মারেন কোহলি।

নান্দ্রে বার্গার এবং আর্চারের দ্বিতীয় ওভারেও তিনটি করে চার হয়। যখন মনে হচ্ছে খেলা বেঙ্গালুরুর নিয়ন্ত্রণে তখনই আবার আঘাত হানেন আর্চার। তাঁর বল তুলে খেলতে গিয়ে শিমরন হেটমায়ারের হাতে ক্যাচ দেন পডিক্কল (১৪)।

পডিক্কল ফেরার পর দলের দায়িত্ব নেন কোহলি। একের পর এক দর্শনীয় শট মেরে দলের রান রেট বাড়িয়ে নেন। কিন্তু রবি বিশ্নোইয়ের একটি গুগলিতে সম্পূর্ণ বোকা বনে ফিরতে হয় তাঁকে। স্টেডিয়াম জুড়ে তখন নিস্তব্ধতা। তার আগে পর্যন্ত কোহলির (১৬ বলে ৩২) প্রতিটি শটে চিৎকার করে উঠছিলেন সমর্থকেরা।

কোহলি ফেরার পর বেঙ্গালুর ব্যাটিং তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে থাকে। ক্রুণাল পাণ্ড্য (১), জিতেশ শর্মা (৫), টিম ডেভিড (১৩) সকলে ব্যর্থ। এই অবস্থায় দলের হাল ধরেন পাটীদার। সঙ্গে পান রোমারিয়ো শেফার্ডকে (২২)। দু’টি চার এবং একটি ছয় মেরে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন শেফার্ড। ফেরেন রবীন্দ্র জাডেজার বলে।

রাজস্থান বোলারদের চাপে ফেলে পাটীদার অর্ধশতরান করে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত ৪০ বলে ৬৩ করে ফিরে যান সন্দীপ শর্মার বলে। শেষের দিকে বেঙ্কটেশ আয়ার (১৫ বলে ২৯) বেঙ্গালুরুর রান ২০০ পার করে দেন। রাজস্থানের হয়ে দু’টি করে উইকেট আর্চার, বিশ্নোই এবং ব্রিজেশ শর্মার।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement