বেঙ্কটেশ আয়ার (বাঁ দিকে) ও বিরাট কোহলি। ছবি: রয়টার্স।
ঘরের মাঠে আবার কঠিন লড়াইয়ের সামনে পঞ্জাব কিংস। দুপুরের খেলায় প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২২২ রান করেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ধর্মশালার মাঠে আরও এক বার দেখা গেল ব্যাটারদের দাপট। অর্ধশতরান করলেন বিরাট কোহলি। সুযোগ পেয়ে ৭৩ রান করলেন বেঙ্কটেশ আয়ার। রান পেলেন দেবদত্ত পড়িক্কলও। তাঁদের ব্যাটে ভর করে বড় রান করেছে বেঙ্গালুরু।
রজত পাটীদার এই ম্যাচে খেলেননি। ফলে বেঙ্গালুরুর অধিনায়কত্ব করছেন জিতেশ শর্মা। টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন পঞ্জাবের অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার। বেঙ্গালুরুর দুই ওপেনার কোহলি ও জেকব বেথেল দ্রুত রান তোলা শুরু করেন। কিন্তু বেশি ক্ষণ টেকেনি সেই জুটি। তৃতীয় ওভারে হরপ্রীত ব্রারের বলে ১১ রানের মাথায় আউট হন বেথেল।
গত ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও বেঙ্গালুরুর ইনিংস টানেন কোহলি ও পড়িক্কল। রান তোলার গতি এক বারের জন্যও কমতে দেননি তাঁরা। পাওয়ার প্লে কাজে লাগিয়ে বড় শট খেলছিলেন দুই ব্যাটার। একটা সময় কোহলির থেকেও এগিয়ে যান পড়িক্কল। সেই জুটি ভাঙেন ব্রার। ৪৫ রানের মাথায় পড়িক্কলকে আউট করেন তিনি। যে ম্যাচে ব্যাটারেরা দাপট দেখালেন, সেই ম্যাচে ভাল বল করলেন ব্রার। চার ওভারে ৩৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নিলেন তিনি।
আগের ম্যাচে কেকেআরের বিরুদ্ধে ম্যাচ জেতানো শতরান করেছিলেন কোহলি। এই ম্যাচেও করলেন অর্ধশতরান। কিন্তু তার পর বেশি ক্ষণ থাকতে পারেননি কোহলি। যুজবেন্দ্র চহলের বলে ৫৮ রান করে ফেরেন কোহলি।
এ বারের নিলামে বেঙ্গালুরু বেঙ্কটেশকে কিনলেও তেমন সুযোগ পাননি এই বাঁহাতি ব্যাটার। এই ম্যাচে পাটীদার না খেলায় তাঁকে খেলানো হয়। বেঙ্কটেশ দেখালেন, তিনি কী করতে পারেন। এক বারের জন্যও মনে হয়নি, দিনের পর দিন বেঞ্চে বসে কাটিয়েছেন তিনি। মনে হল, বেঞ্চ থেকে সেট হয়ে এসেছেন। শুরু থেকে একের পর এক বড় শট খেললেন। কোহলি আউট হলেও বেঙ্গালুরুর রান তোলার গতি যে কমেনি, তার অন্যতম কারণ এই বেঙ্কটেশ। চলতি মরসুমে প্রথম অর্ধশতরান করলেন তিনি।
১৮তম ওভারেই ২০০ রান পার হয়ে যায় বেঙ্গালুরুর। ক্রিকেটীয় ব্যকরণ মেনে শট খেলার পাশাপাশি রিভার্স সুইপ, র্যাম্প, স্কুপ— সব ধরনের শট খেলছিলেন বেঙ্কটেশ। বোলারকে থিতু হতে দিচ্ছিলেন না। অপর প্রান্তে থাকা টিম ডেভিডও হাত খোলা শুরু করেন।
দুই ব্যাটারের দাপটে শেষ পর্যন্ত ২২২ রান করে বেঙ্গালুরু। বেঙ্কটেশ ৪০ বলে ৭৩ রানে অপরাজিত থাকেন। ১২ বলে ২৮ রান করে ইনিংসের শেষ বলে আউট হন ডেভিড। আইপিএলের প্লে-অফের লড়াইয়ে এগোতে হলে ২২৩ রান করতে হবে শ্রেয়সদের।