India Wins ICC T20 World Cup 2026

বিশ্বকাপের আগে ঈশানকে ফোন করে একটিই প্রশ্ন করেছিলেন সূর্য, জবাব দিয়েছিলেন ঈশান, বিশ্বজয়ের পর প্রকাশ্যে সেই কথোপকথন

ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল খেলায় সরাসরি নিউ জ়িল্যান্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজ় এবং বিশ্বকাপের দলে নিয়ে নেওয়া হয় ঈশানকে। বিশ্বকাপে ২৪১ রান করে আস্থার দাম রেখেছেন তিনি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ ১৯:৪১
Share:

ঈশান (বাঁ দিকে) এবং সূর্যকুমারের উচ্ছ্বাসের মুহূর্ত। ছবি: পিটিআই।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি খেলতে পারবেন কি না তা জানতে চেয়ে ঈশান কিশনকে ফোন করার সময় একটিই প্রশ্ন করেছিলেন সূর্যকুমার যাদব, “কী রে, বিশ্বকাপ জেতাতে পারবি?” খুব শান্ত গলায় ঈশান উত্তর দিয়েছিলেন, “ভরসা করতে পারবে?” বিশ্বকাপ জয়ের পর দুই ক্রিকেটারের এই কথোপকথন প্রকাশ্যে এসেছে ঈশানের সৌজন্যে।

Advertisement

ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল খেলার সুবাদে ভারতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেছিলেন ঈশান। তাঁকে সরাসরি নিউ জ়িল্যান্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজ় এবং বিশ্বকাপের দলে নিয়ে নেওয়া হয়। বিশ্বকাপে ২৪১ রান করে আস্থার দাম রেখেছেন ঈশান।

বিশ্বকাপের পর এক সাক্ষাৎকারে ঈশান বলেছিলেন, “দল নির্বাচনের আগে সূর্য ভাই আমাকে ফোন করেছিল। ও যে বিশ্বকাপের দলের ব্যাপারেই আমাকে ফোন করেছে, সেটা ভেবেই স্ক্রিনশট নিয়ে রেখেছিলাম। জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘বিশ্বকাপ জেতাবি’? আমি পাল্টা ওকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ‘ভরসা করবে’? ও বলল, ‘হ্যাঁ’। সেখানেই ব্যাপারটা শেষ হয়ে যায়।”

Advertisement

ফাইনালের আগে ঈশান জানতে পারেন তাঁর তুতো বোন এবং জামাইবাবুর মৃত্যু হয়েছে পথ দুর্ঘটনায়। সেই ঘটনায় কতটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন তা উঠে এসেছে ঈশানের কথায়। তিনি বলেন, “ম্যাচের আগে এটা বলব না ঠিক করেছিলাম। এখন বলতেই হচ্ছে, আমার তুতো বোন গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছে। কয়েক দিন আগে সেটা জানতে পারি। ও সব সময় চাইত আমি প্রচুর রান করি। গত কাল আমার ভাল লাগছিল না একদম। আজকের (রবিবার) দিনটা খুব বড় ছিল। তাই আবেগ সরিয়ে রেখে ম্যাচে মন দিয়েছিলাম। ঠিক করেছিলাম, রান করে ওকে উৎসর্গ করাই শ্রেষ্ঠ কাজ হবে।”

কথা বলতে বলতে গলা ধরে আসছিল ঈশানের। সে কারণেই পঞ্চাশের পর তিনি প্রয়াত বোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। ঈশান বলেছেন, “আমার অর্ধশতরান ছিল ওর জন্য। মনে মনে সেটাই বোনকে বলছিলাম। আজ জিততে পেরে খুব খুশি। মনে পড়ছে ওর পরিবারের কথা। তবে আমার বন্ধুরা ওখানে সব দেখভাল করছে। অনেক কিছু চলছিল নিজের মনের মধ্যে। আমি শুধু ভাল খেলতে চেয়েছিলাম। গত কাল রাত থেকেই মনটা ভাল ছিল না। বার বার ভাবছিলাম, কী করে এ সব হল। তবে দলকে তো আগে রাখতেই হবে। তাই বোনের জন্য যতটা বেশি সম্ভব রান করতে চেয়েছিলাম।”

আড়াই বছর পর ভারতীয় দলে ফিরেই নজর কেড়েছেন তিনি। কেমন ছিল ফিরে আসার যাত্রা? ঈশান বলেছেন, “সত্যি বলতে গত দু’বছর কিছু ভাবিইনি। কোথায় ব্যাট করব বা কাল দলে থাকব কি না, এগুলো তো আমার হাতে নেই। আমি একটাই জিনিস শিখেছি। কঠোর পরিশ্রম করে যাও। ফলের ব্যাপারে ভেবো না।”

ফিরে আসার শক্তি পেয়েছেন বিরাট কোহলির থেকেই। ঈশান বলেছেন, “বিরাটকে খুব সমীহ করি। যে ভাবে এত বছর নিজের শক্তি কাজে লাগিয়েছে তা অবিশ্বাস্য। কোথায় নিজেকে বদলাব সেটা বুঝতে এই জিনিসগুলো জানা খুব দরকার ছিল।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement