রাজস্থানের অধিনায়ক রিয়ান পরাগ। ছবি: সমাজমাধ্যম।
সাজঘরে বসে ধূমপান করায় বোর্ডের নির্বাসন এড়িয়েছেন রিয়ান পরাগ। তাঁকে স্রেফ জরিমানা করা হয়েছে। তবে সহজে ছাড় পাচ্ছেন না তিনি। রাজস্থানের অধিনায়কের বিরুদ্ধে কড়া তদন্তের দাবি তুলেছে ধূমপান বিরোধী মায়েদের সংগঠন ‘মাদার্স এগেন্সট ভেপিং’। তাদের মতে, পরাগ ইচ্ছাকৃত ভাবে এই কাজ করেছেন কি না তা নিয়ে তদন্ত করা দরকার।
মায়েদের ওই সংগঠন ই-সিগারেট, ভেপার বা আধুনিক নিকোটিন যন্ত্রপাতি ব্যবহারের বিরোধী। তারা একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের আইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে কারও কাছে ই-সিগারেট থাকা অপরাধ। নিয়ম ভাঙলে ছ’মাস পর্যন্ত জেল বা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে এক বছরের জেল বা এক লক্ষ টাকা নির্বাসনের বিধানও রয়েছে।
সংগঠনের দাবি, ভারতের মতো দেশে আইন সকলের ঊর্ধ্বে। খ্যাতনামীই হোন বা সাধারণ মানুষ, সকলের জন্যই নিয়ম সমান। সংগঠনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, গোটা দেশে যে নিয়ম রয়েছে তাতে প্রকাশ্যে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছেন এক খ্যাতনামী, এটা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২০১৯-এর একটি বক্তৃতার কথা তুলে এনেছে সংগঠনটি। সেখানে মোদী বলেছিলেন, এখন খ্যাতনামীদের কাছে ই-সিগারেট থাকা লোকদেখানো বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ভুল করে পরাগ এই কাজ করেছেন না কি ইচ্ছা করে সেটা তদন্ত করে দেখা দরকার। এর একটাই কারণ, বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থাই দীর্ঘ দিন ধরে ই-সিগারেটের উপর নির্বাসন ওঠানোর চেষ্টা করে আসছে। তারা চায় আবার ই-সিগারেট বৈধ হোক। সে রকম কোনও সংস্থা পরাগকে দিয়ে নিজেদের পণ্যের বিজ্ঞাপন করিয়েছে কি না সেটা তদন্ত করে দেখার অনুরোধ করা হয়েছে।
তারা এ-ও জানিয়েছে, পরাগের যদি কোনও অসদুদ্দেশ্য না থাকে তা হলে নিজেই প্রকাশ্যে এসে ব্যাখ্যা দিন। কারণ তাঁর মতো ক্রিকেটারদের আদর্শ মানে ছোটরা। এই ঘটনার তাদের উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।