Vinesh Phogat

স্বস্তি বিনেশের! কুস্তি সংস্থার নির্দেশের পরেও এশিয়ান গেমসের ট্রায়ালে নামার অনুমতি আদালতের

দিল্লি হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, খেলাধুলো ও ন্যায়বিচারের কথা মাথায় রেখে বিনেশ ফোগাটকে এশিয়ান গেমসের যোগ্যতা অর্জন পর্বে নামার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ মে ২০২৬ ২১:৩২
Share:

বিনেশ ফোগাট। —ফাইল চিত্র।

অবশেষে আদালতে গিয়ে স্বস্তি পেলেন বিনেশ ফোগাট। তাঁর কুস্তিতে প্রত্যাবর্তনের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল ভারতীয় কুস্তি সংস্থার নতুন নিয়ম। ভারতীয় কুস্তি সংস্থা নির্দেশ দিয়েছিল, নিয়ম অনুযায়ী এশিয়ান গেমসের যোগ্যতা অর্জন পর্বে নামতে পারবেন না বিনেশ। কিন্তু দিল্লি হাই কোর্ট তাঁকে ট্রায়ালে নামার অনুমতি দিয়েছে।

Advertisement

দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি ডিকে উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ বিনেশকে ট্রায়ালে নামার অনুমতি দিয়েছে। বিচারপতিরা বলেন, “খেলাধুলো ও ন্যায়বিচারের কথা মাথায় রেখে বিনেশ ফোগাটকে এশিয়ান গেমসের যোগ্যতা অর্জন পর্বে নামার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, বিনেশের সন্তান হওয়া ও ভারতীয় কুস্তি সংস্থার নতুন নিয়মের কারণেই এই প্রতিযোগিতায় বিনেশ নামতে পারছেন না। এই দুই পরিস্থিতিই তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিল না। তাই বিনেশকে ট্রায়ালে নামার অনুমতি দেওয়া উচিত বলেই আদালতের মনে হয়েছে।”

আদালতের মনে হয়েছে, বিনেশের মতো এশিয়ান ও কমনওয়েলথ গেমসে সোনাজয়ী কুস্তিগিরের ক্ষেত্রে নিয়মের কড়াকড়ি একটু কমানো যেতে পারে। বিচারপতিরা বলেন, “বিনেশের মতো কিংবদন্তি কুস্তিগিরদের ক্ষেত্রে কুস্তি সংস্থার নতুন নিয়মে একটু ছাড় দেওয়া যেতেই পারে। এটা স্পষ্ট, অন্তঃস্বত্ত্বা অবস্থায় কেউ কুস্তির আখাড়ায় নামতে পারেন না। কিন্তু তার জন্য তাঁর কেরিয়ার নষ্ট করে দেওয়া উচিত নয়। বিনেশের মতো কিংবদন্তি কুস্তিগিরকে কিছু ছাড় দেওয়া উচিত। বিনেশকে ট্রায়ালে নামতে না দিলে তা দেশের পক্ষে লজ্জার। তাই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

Advertisement

বিচারপতিরা আরও নির্দেশ দিয়েছেন, পুরো ট্রায়ালের ভিডিয়ো রেকর্ডিং করা হবে। কেন্দ্রীয় ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রক দু’জন নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষককে সেখানে পাঠাবে। তাঁরা পুরো ট্রায়াল খতিয়ে দেখে দিল্লি হাই কোর্টে একটি রিপোর্ট জমা দেবেন।

৩০ ও ৩১ মে উত্তরপ্রদেশের গোন্ডায় হবে ন্যাশনাল ওপেন র‌্যাঙ্কিং প্রতিযোগিতা। এশিয়ান গেমসে নামার জন্য এটিই শেষ সুযোগ। ১৮ মাস পরে সেই প্রতিযোগিতা দিয়ে কুস্তিতে ফেরার লক্ষ্য নিয়েছিলেন বিনেশ। সন্তান হওয়ার পর আবার কুস্তিতে ফেরার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন তিনি। কিন্তু নাম নথিভুক্ত করতে পারেননি তিনি। ফেডারেশনকে আবেদন করেও সুরাহা হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।

ভারতীয় কুস্তি সংস্থা জানিয়েছে, ডোপবিরোধী আইন অনুযায়ী, অবসর ভেঙে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় ফিরতে হলে ছ’মাসের নোটিস পিরিয়ড কাটাতে হয় কুস্তিগিরদের। সেই নিয়ম অনুযায়ী বিনেশ ২৬ জুনের আগে খেলতে পারবেন না। কিন্তু বিনেশের দাবি, এই নিয়ম তাঁর ক্ষেত্রে কার্যকর নয়। কারণ, তিনি ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড রেসলিং-কে (ইউডব্লিউডব্লিউ) গত বছর জুন মাসে জানিয়েছিলেন যে, আবার কুস্তিতে ফিরতে চান। ফলে অবসর ভেঙে কুস্তিতে ফেরার প্রক্রিয়া পূর্ণ করে ফেলেছেন তিনি। বিনেশ গোন্ডায় পৌঁছেও গিয়েছেন।

কিন্তু তার পরেও জানা গিয়েছে, বিনেশের জবাবে সন্তুষ্ট নয় কুস্তি সংস্থা। কারণ, বিনেশ শুধুমাত্র তাঁর প্রত্যাবর্তনের নিয়মের জবাব দিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গ, ডোপ পরীক্ষা না দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তার কোনও জবাব দিতে পারেননি এশিয়ান গেমস ও কমনওয়েলথে সোনাজয়ী কুস্তিগির। সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে এক আধিকারিক বলেন, “এই জবাব যথেষ্ট নয়। কারণ, শো-কজ়ের পুরো জবাব বিনেশ দেননি। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগের তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত বিনেশ প্রতিযোগিতায় নামতে পারবেন না।” এই ঘটনার পরেই দিল্লি হাই কোর্টে আবেদন করেন বিনেশ।

এর মাঝেই সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়োবার্তায় দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপের দাবি করেন অলিম্পিক্সে পদকজয়ী কুস্তিগির তথা বিনেশের ভাল বন্ধু সাক্ষী মালিক। সাক্ষী বিভিন্ন দেশের উদাহরণ টেনে নিয়ম শিথিল করার অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেন, “আমি অনেক দেশের ক্রীড়া সংস্থার উদাহরণ দিতে পারি, যেখানে মহিলা ক্রীড়াবিদদের জন্য নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। পরবর্তীকালে তাঁরা পদকও জিতেছেন। কিন্তু আমাদের দেশে তা হচ্ছে না। বিনেশের প্রত্যাবর্তনের দু’দিন আগে একটা নিয়ম জানানো হল, যাতে সে প্রতিযোগিতায় নামতে পারবে না।”

সাক্ষী আরও বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী ও ভারতীয় কুস্তি সংস্থাকে অনুরোধ করছি, বিনেশকে ট্রায়ালে নামার অনুমতি দিন। ও দেশের জন্য পদক আনতে পারে। মা হয়ে যাওয়ার পরেও যে একজন মহিলা পদক জিততে পারে, সেই দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে বিনেশ। দয়া করে একজন মায়ের লড়াইয়ের অধিকার কাড়বেন না।” মানবিকতার খাতিরে বিনেশকে ট্রায়ালে নামার অনুমতি দিয়েছে দিল্লি হাই কোর্ট।

২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিক্সে মহিলাদের ৫০ কেজি বিভাগের ফাইনালে উঠেছিলেন বিনেশ। কিন্তু ফাইনালের দিন সকালে তাঁর ওজন ১০০ গ্রাম বেশি হওয়ায় বিনেশকে বাদ দেওয়া হয়। মামলা করেও কোনও লাভ হয়নি। তার পরেই কুস্তি থেকে অবসর নেন তিনি। ভারতীয় কুস্তি সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগও করেন বিনেশ। ১৮ মাস পরে আবার কুস্তিতে ফেরার চেষ্টা করছেন বিনেশ। এখন দেখার আদালতের নির্দেশের পর কুস্তি সংস্থা কী বলে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement