ট্রেভর জেমস মর্গ্যানের ইচ্ছেপূরণ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে ইস্টবেঙ্গল। ডু ডংকে ছেঁটে ফেলা হবে এটা ঠিক হয়ে গেলেও, কোরিয়ান মিডিও কিছুতেই বশ্যতা মানছেন না। প্রচুর টাকা নাকি দাবি করে বসে আছেন তিনি।
সোম এবং মঙ্গল-দু’দিন ডংয়ের সঙ্গে আলোচনায় বসেও কোনও সমাধানসূত্র বের না হওয়ায় বিপাকে কর্তারা। যাঁকে মরসুমের শুরুতে জামাই-আদর করে আনা হয়েছিল, এ দিন রাতে বিদায়ী আলোচনার পর সেই ডং-কে দেখা গেল ক্লাবের এক কোণে দাঁড়িয়ে। মুখ ফ্যাকাশে। হবে নাই বা কেন। ইস্টবেঙ্গল বাতিল করে দেওয়ায় তাঁর হাতে যে কোনও ক্লাব নেই।
সোমবার আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ান তারকাকে এ দিন বিকেলে ক্লাবে আসতে বলেছিলেন লাল-হলুদ কর্তারা। মনে করা হচ্ছিল ডংয়ের হাতে রিলিজ অর্ডার ধরিয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু কিছুই হয়নি। ক্লাবের প্রায় সব বড় কর্তা-ই এ দিন উপস্থিত ছিলেন ডং-জট কাটাতে। কিন্তু প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনার পরেও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং ক্লাব তাঁবুতে গিয়ে দেখা গেল কর্তারাও যেন বিভক্ত। ডং-কে কি ছেড়ে দিল ক্লাব? প্রশ্ন করা হলে লাল-হলুদের ফুটবল সচিব সন্তোষ ভট্টাচার্য বলছেন, ‘‘কী করে এখনই বলব রিলিজ হয়ে গিয়েছে। শেষ মুহূর্তে অনেক কিছু হতেই পারে।’’ বকেয়া টাকার জন্য কি ঝুলে থাকল দক্ষিণ কোরিয়ানের ভবিষ্যৎ? সন্তোষবাবু যোগ করেন, ‘‘ডংয়ের সঙ্গে কথাবার্তা একটা জায়গায় এসেছে। আশা করছি বৃহস্পতিবার সব কিছু চূড়ান্ত হয়ে যাবে। ডং যে টাকা দাবি করেছে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। একটু বেশি-কম তো হতেই পারে।’’
লাল-হলুদে ডং-য়ের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তা সত্ত্বেও কোরিয়ান তারকাকে দেখতে এ দিন সমর্থকরা জড়ো হয়েছিলেন তাঁবুতে। সেলফিও তোলেন ডংয়ের সঙ্গে। ডং এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। কত টাকা দাবি করছেন জিজ্ঞেস করা হলে ‘নো কমেন্টস’ বলে এড়িয়ে যান তিনি। গাড়িতে উঠে দ্রুত ক্লাব তাঁবু ছেড়ে বেরিয়ে যান।
ডংকে রিলিজ করার ব্যাপারে অবশ্য কর্তারা এক-একজন এক-এক রকম কথা বলছেন। ইস্টবেঙ্গল সচিব কল্যাণ মজুমদার যেমন কোনও মন্তব্যই করতে চাননি। আবার ইউবি প্রতিনিধি অমিত সেনের দাবি, ডংয়ের সঙ্গে নাকি টাকা সংক্রান্ত সমস্যা মিটে গিয়েছে।
আই লিগে ডংকে দলে চান না সেটা কর্তাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ট্রেভর মর্গ্যান। এরপরই ডংকে ছাঁটতে উঠেপড়ে লেগেছেন ক্লাব কর্তারা। হাইতির ওয়েডসন-কে আগেভাগেই সই করিয়েছে লাল-হলুদ। হাওয়ায় ভাসছে ডংয়ের পরিবর্ত হিসেবে অ্যান্ড্রু বরিসিচের নাম। সেই বরিসিচ যিনি আগেও ইস্টবেঙ্গলে খেলেছেন।