(বাঁ দিকে) কল্যাণ চৌবে ও ভালেঙ্কা আলেমাও (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
আবার বিতর্কে কল্যাণ চৌবে। এ বার সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার সভাপতির বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ করেছেন ফেডারেশনেরই মহিলা কমিটির প্রধান ভালেঙ্কা আলেমাও। চিঠি লিখে পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন তিনি। মুখ খুলেছেন কল্যাণও। ভালেঙ্কার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেছেন তিনি।
ভালেঙ্কার অভিযোগ, ২৯ মার্চ ফেডারেশনের দফতরে এগ্জ়িকিউটিভ কমিটির বৈঠক চলাকালীন বার বার তাঁকে হেনস্থা করেন কল্যাণ। শুধু কল্যাণ নন, ফেডারেশনের সহ-সভাপতি এনএ হ্যারিস ও সহ-সচিব এম সত্যনারায়ণের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছেন ভালেঙ্কা।
এগ্জ়িকিউটিভ কমিটিকে চিঠিতে ভালেঙ্কা লিখেছেন, “এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে, সহ-সভাপতি এনএ হ্যারিস ও সহ-সচিব এম সত্যনারায়ণ আমার সঙ্গে যে জঘন্য ব্যবহার করেছেন তা সকলের সামনে আনতে চাই। আমার বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করা হয়েছে। বার বার আমাকে থামানোর চেষ্টা করেছেন সভাপতি।”
চিঠিতে ভালেঙ্কা আরও লিখেছেন, “সভাপতি আমার বিরুদ্ধে অযৌক্তিক ও সম্মানহানিকর মন্তব্য করেছেন। আমাকে ভয় দেখানোর জন্য সভাপতি ও সহ-সচিব বার বার চিৎকার করে কথা বলছিলেন। গোটা বৈঠক জুড়ে আমাকে বার বার আক্রমণ করা হয়েছে।”
এই বিষয়ে আনন্দবাজার ডট কম কল্যাণের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পাল্টা ভালেঙ্কাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। কল্যাণ বলেন, “উনি আমার এবং ফেডারেশনের উপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছেন। ওঁর প্রধান লক্ষ্য, ওঁর দলকে আইএফএলে খেলানো। কিন্তু সেটা বেআইনি। ক্যাস-এর নির্দেশ, একমাত্র নীচের ডিভিশনের চ্যাম্পিয়ন দলই উপরের ডিভিশনে খেলতে পারবে। এই মামলাটা ক্যাস-এ গিয়েছিল। ক্যাস-এর নির্দেশও চার্চিলের বিরুদ্ধে গিয়েছে। কোন যুক্তিতে ওদের ফেডারেশন খেলতে দেবে? তাই ওরা চাপ দিচ্ছে।”
নতুন বাণিজ্যিক সহযোগী খুঁজছে ফেডারেশন। বড় চুক্তির পথে তারা। এই পরিস্থিতিতে ভালেঙ্কা যা করেছেন, তার নিন্দা করেছেন কল্যাণ। তিনি বলেন, “ফেডারেশন ২১০০ কোটি টাকার যুগান্তকারী চুক্তি করতে চলেছে। এমন সময় এই ঘটনা অনভিপ্রেত। এতে ভারতীয় ফুটবলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। তা-ও যদি সঠিক ভাবে উনি হাতে সময় রেখে আবেদন করতেন, ব্যবস্থা করতাম। কিন্তু যে দিন আইএফএল শুরু হচ্ছে, তার কিছু ক্ষণ আগে উনি আবেদন করেন। তার আগে উনি দুটো মিটিং করেছিলেন। সেগুলোও অবৈধ।”
ভালেঙ্কা বর্তমানে মহিলা কমিটির প্রধান হলেও ফুটবলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। তিনি গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা চার্চিল ব্রাদার্স ক্লাবের মালিক আলেমাও চার্চিলের কন্যা। দীর্ঘ দিন চার্চিলের সিইও-র দায়িত্ব সামলেছেন ভালেঙ্কা। ২০২৫-২৯ পর্যন্ত ফিফার মহিলাদের ফুটবল ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য তিনি। প্রথম ভারতীয় হিসাবে এই নজির গড়েছেন ভালেঙ্কা।
কল্যাণের সঙ্গে ভালেঙ্কার বিরোধ নতুন নয়। অস্ট্রেলিয়ায় মহিলাদের এশিয়ান কাপ প্রতিযোগিতার সময় জার্সির সমস্যা হয়েছিল। ফুটবলারদের জার্সির মাপ ঠিক না থাকায় স্থানীয় বাজারে জার্সি কিনে খেলতে হয়েছিল তাঁদের। এই ঘটনায় ফেডারেশনকে কাঠগড়ায় তুলে কল্যাণকে চিঠি দিয়েছিলেন ভালেঙ্কা।
সম্প্রতি আরও অভিযোগ তুলেছিলেন ভালেঙ্কা। তিনি জানিয়েছিলেন, ফেডারেশনের কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সকলের সঙ্গে আলোচনা করা হয় না। কল্যাণ-সহ কিছু কর্তা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন। সেই বিষয়েই হয়তো এগ্জ়িকিউটিভ কমিটির বৈঠকে কথা উঠেছিল। এখন দেখার, ভারতীয় ফুটবলে এই নতুন বিতর্কের জল কত দূর গড়ায়।