(বাঁ দিক থেকে) ব্রুকলিন, ডেভিড বেকহ্যাম ও ভিক্টোরিয়া। তখনও ভাঙন ধরেনি ফুটবলারের পরিবারে। ছবি: এক্স।
ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ফুটবলার ডেভিড বেকহ্যামের পরিবারে ভাঙন ধরেছে। এই জল্পনা বেশ কিছু দিন ধরে চলছিল। এ বার তা প্রকাশ্যে এল। নেপথ্যে সমাজমাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের কর্মকাণ্ড। সমাজমাধ্যমে জ্যেষ্ঠপুত্র ব্রুকলিনকে ‘আনফলো’ করলেন বেকহ্যাম ও তাঁর স্ত্রী ভিক্টোরিয়া। জানা গিয়েছে, ব্রুকলিনও তাঁর নামের পদবি থেকে বেকহ্যামের নাম সরাতে চান।
কয়েক দিন আগে বেকহ্যাম ও ভিক্টোরিয়াকে ইনস্টাগ্রামে ‘ব্লক’ করে দিয়েছিলেন ব্রুকলিন। এ বার পুত্রকে ‘আনফলো’ করেছেন দু’জন। শুধু পিতা-মাতাকে নয়, দুই ভাই রোমিও ও ক্রুজ়কেও নাকি ‘ব্লক’ করে দিয়েছেন ব্রুকলিন ও তাঁর স্ত্রী নিকোলা পেল্টজ় বেকহ্যাম।
চলতি বছর বেশ কয়েকটি ঘটনায় এই ভাঙন সামনে আসে। মে মাসে বেকহ্যামের ৫০তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আসেননি ব্রুকলিন। পরে অগস্ট মাসে নিকোলাকে আরও এক বার বিয়ে করেন ব্রুকলিন। সেই অনুষ্ঠানে পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। নভেম্বর মাসে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ সম্মান ‘নাইটহুড’ পান বেকহ্যাম। সেই অনুষ্ঠানেও ব্রুকলিন ও নিকোলা যাননি। চলতি বছর নিজের পরিবার ছেড়ে ফ্লরিডায় নিকোলার পরিবারের সঙ্গে বড়দিন পালন করেছেন ব্রুকলিন।
তবে বেকহ্যাম ও ভিক্টোরিয়ার ব্রুকলিনকে ‘আনফলো’ করার খবর সত্যি নয় বলে দাবি করেছেন ক্রুজ়। তিনি সমাজমাধ্যমে লেখেন, “এই খবর সত্যি নয়। আমার বাবা-মা কখনওই ওদের সন্তানকে আনফলো করতে পারে না। ওদেরই ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। সত্যি খবর সকলকে জানানো উচিত।”
২০২২ সালের ব্রুকলিন ও নিকোলার বিয়ের সময় থেকেই এই ভাঙনের শুরু। বিয়েতে হবু শাশুড়ি ভিক্টোরিয়ার ডিজ়াইন করা পোশাকের বদলে ভ্যালেন্টিনোর পোশাক পরেন নিকোলা। সেটা ভাল ভাবে নেননি ভিক্টোরিয়া। জানা যায়, বিয়েতে মার্ক অ্যান্থনির একটি নাচ পরিবেশন করার কথা ছিল। সেটি হতে দেননি ভিক্টোরিয়া। তার পর থেকেই বেকহ্যামদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন ব্রুকলিন ও নিকোলা। এমনকি, ব্রুকলিন জানান, তিনি নিজের নাম ব্রুকলিন পেল্টজ় করে নেবেন। বেকহ্যামের নামের সঙ্গে যোগ রাখবেন না। যদিও এখনও তা করেননি তিনি। তবে পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে, তাতে এই সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলতে পারেন তিনি।
রোমিওর বান্ধবী কিম টার্নবুলের কয়েকটি অনুষ্ঠানেও যাননি ব্রুকলিন। জানা গিয়েছে, রোমিওর আগে ব্রুকলিনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল কিমের। যদিও সেই দাবিও খারিজ করেছেন ক্রুজ়। ‘পিপল্স’ ম্যাগাজ়িনে একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, বেকহ্যামের সঙ্গে ব্রুকলিনের সম্পর্ক ছোট থেকেই খারাপ। ব্রুকলিনের মতে, তাঁর বরাবর মনে হয়েছে, বেকহ্যামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যেন কোনও ব্যবসায়িক চুক্তি। পিতা-পুত্রের ভালবাসা সেখানে নেই। সেই সম্পর্ক ক্রমশ খারাপ হচ্ছে।