এ ভাবেই অরল্যান্ডো গিলের হাতে আটকে গিয়েছে জার্মানি। ছবি: রয়টার্স।
কাই হাভার্ৎজ়, নিক ওল্টেমেড, জোনাথন তাহ শট নেওয়ার সময় কী ভাবছিলেন অরল্যান্ডো গিল? তাঁর কি তখন মনে পড়ে যাচ্ছিল সন্তানের জন্মের কথা? তখন না মনে পড়লেও দলের জয়ের পর তা মনে পড়তে বাধ্য। কারণ, তত ক্ষণে বিশ্বকাপের নতুন চমক হয়ে উঠেছেন তিনি। হয়ে উঠেছেন প্যারাগুয়ের নতুন নায়ক। তাঁর হাতেই জার্মানিকে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠেছে প্যারাগুয়ে। কিন্তু মাঠের এই লড়াইয়ের অনেক আগে জীবনের যুদ্ধে জিতে গিয়েছেন গিল।
শুধু টাইব্রেকারে নয়, তার আগে ১২০ মিনিট ধরে একের পর এক গোল বাঁচিয়েছেন গিল। এক বারই মাত্র পরাস্ত হয়েছেন তিনি। আর এক বার বল জালে জড়িয়েছিল। কিন্তু তার আগে তাঁকে ফাউল করায় সেই গোল বাতিল হয়।
প্যারাগুয়ের সিনিয়র দলে খেলার আগে অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়েও বিশ্বকাপ খেলেছেন গিল। তাঁর সন্তানের জন্মের সময় চিকিৎসকেরা জানান, সন্তানের জটিল রোগ হয়েছে। চিকিৎসার খরচ অনেক। বাধ্য হয়ে তাঁর প্রিয় গ্লাভস, জুতো, ফুটবল খেলার কিট, এমনকি, অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের জার্সি বিক্রি করতেও বাধ্য হয়েছিলেন। সর্বস্ব বিক্রি করে সন্তানকে বাঁচিয়েছিলেন গিল। সেই ফুটবলার যে বিশ্বকাপের যুদ্ধে জিতবেন, তা আর এমন কী।
২৬ বছরের গিল ফুটবলে বিশেষ পরিচিত নাম ছিলেন না। আর্জেন্টিনার ক্লাব সান লোরেঞ্জোতে খেলেন তিনি। চলতি মরসুমে ক্লাবের হয়ে ২২টি ম্যাচ খেলেছেন। প্যারাগুয়ের জাতীয় দলে খেলেছেন ১০টি ম্যাচ। কিন্তু দশম ম্যাচে যে কীর্তি তিনি করেছেন, তাতে নায়ক হয়ে উঠেছেন গিল।
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আর্জেন্টিনার ক্লাবে খেলার আগে প্যারাগুয়ের একটি ক্লাবেই খেলতেন গিল। ২০২০ সাল থেকে সেখানে খেলার পর ২০২৩ সালে তাঁকে লোনে নেয় আর্জেন্টিনার ক্লাব। তার পর থেকে সেখানেই খেলছেন তিনি। হিমশীতল মানসিকতার এই গোলরক্ষক বিশ্বকাপে জার্মানিকে বিদায়ের দরজা দেখিয়েছেন। তবে তার আগে জীবনের যুদ্ধে জিতে গিয়েছেন তিনি।