suruchi sangha

মহিলা ফুটবলারদের নিয়ে হঠাৎ বিতর্কে সুরুচি সঙ্ঘ, জবাব দিলেন ক্লাবকর্তা স্বরূপ বিশ্বাস

মহিলা ফুটবলারদের নিয়ে আচমকাই বিতর্কে সুরুচি সঙ্ঘ। ফুটবলারেরা ক্লাবের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন। পাল্টা একটি ভিডিয়োয় সমস্যা মিটে যাওয়ার কথা বলা হয়। ক্লাবকর্তা স্বরূপ বিশ্বাসের দাবি, বদনাম করতেই এই প্রয়াস।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ ১২:০৮
Share:

ফুটবলারদের অভিযোগ খণ্ডন করলেন স্বরূপ বিশ্বাস। — ফাইল চিত্র।

ক্লাবের মহিলা ফুটবলারদের নিয়ে আচমকাই বিতর্কে সুরুচি সঙ্ঘ ক্লাব। একটি ভিডিয়োয় মহিলা ফুটবলারেরা ক্লাবের ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু অভিযোগ তুলেছিলেন। কিছু ক্ষণ পরে পাল্টা আরও একটি ভিডিয়ো দিয়ে সমস্যা মিটে যাওয়ার কথা বলা হয়। সুরুচির সচিব স্বরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, ক্লাবের বদনাম করতেই এমন কাজ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ফুটবলারদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Advertisement

মঙ্গলবার বিকেলে একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। দেখা যায়, ট্রেনের কয়েকটি আসনে গাদাগাদি করে বসে কিছু মহিলা ফুটবলার। বেশির ভাগের পরনেই সুরুচির সঙ্ঘের লোগো দেওয়া জার্সি। ভিডিয়োয় তারা জানান, ফেরার জন্য ক্লাবের তরফে মাত্র ১২৫ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। ম্যানেজারকে ফোন করার পর তিনি নাকি জানিয়েছেন, এই টাকাটাই দিতে পারবে ক্লাব। এক ফুটবলার প্রশ্ন তোলেন, “মাত্র ১২৫ টাকায় কী হবে? একটা বিস্কুট কিনতে গেলেও ২০ টাকা লাগে। লাঞ্চের জন্য ১২০ টাকা লাগে। কী করে এই খরচ সামলাব?”

আর এক ফুটবলার বলেন, “আমাদের রাত ২টোয় ট্রেনে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ম্যানেজার বলেছেন, কয়েক জন বেতন পাব না। এটা কী ধরনের ব্যবহার? আমরা কি এখানে নিজের জন্য খেলতে আসি, না ক্লাবের জন্য?”

Advertisement

কিছু ক্ষণ পরে আরও একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে এক ফুটবলার বলেন, “আমাদের ৪৮০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। ক্লাবকে অনেক অনেক ধন্যবাদ আমাদের পাশে থাকার জন্য। এতে আমাদের হয়ে যাবে।” ধন্যবাদ জানান আরও কয়েক জন ফুটবলারও।

বুধবার এ প্রসঙ্গে স্বরূপের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই। স্বরূপ বলেন, “একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। যে ম্যানেজার গিয়েছিলেন তাঁকে তো একটু সময় দিতে হবে। গোটা বিষয়টাই ক্লাবকে বদনাম করার চেষ্টা। রাজ্যে সরকার বদল হয়েছে। সুরুচিকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা চলছে। আমরা কিছু ক্ষণ পরেই সমস্ত পাওনা মিটিয়ে দিয়েছি।”

তাঁর আরও দাবি, “এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অন্যান্য ক্লাব ফুটবলারদের স্লিপার শ্রেণিতে নিয়ে যায়। আমরা প্রত্যেকের জন্য থার্ড এসি-র টিকিট কেটেছি। বেঙ্গালুরুতে খেলতে গিয়েছিল। ওখানে যে জায়গায় রেখেছিলাম তা যথেষ্ট ব্যয়বহুল। মাঠ থেকে যাতায়াতের জন্য আলাদা বাসের ব্যবস্থা ছিল। যে ব্যবস্থা করা হয়েছিল তা আর কেউ করবে না। ৪০ লক্ষ টাকা খরচ করা হয়েছে দলের জন্য। ফলাফলে কী পেলাম? বেঙ্গালুরু থেকে পাঁচটা ম্যাচেই হেরে ফিরছে। ১৫টা গোল খেয়েছে। এখনকার সময়ে ক্লাব চালাতে কতটা খরচ সকলেই জানেন। প্রতিদানে আমরা কী পেলাম?”

স্বরূপ জানিয়েছেন, যে ফুটবলারেরা ক্লাবের অব্যবস্থার দিকে আঙুল তুলেছিলেন তাঁদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “যারা অভিযোগ করছে তারা ওখানে গিয়ে নিজেদের দায়িত্বই পালন করতে পারেনি। ম্যাচের পর ঘুরে বেড়িয়েছে। বেতন পেয়েও নিজের দায়িত্ব পালন করতে না পারলে জবাব দিতেই হবে। ওদের সকলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইএফএ-কেও অনুরোধ করব, যাতে ওদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement