প্রতীকী চিত্র।
মঙ্গলবার ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) দাবি করেছিল, সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতেই তারা নিট ইউজি ২০২৬ বাতিল ঘোষণা করছে। কিন্তু বুধবারই পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হল দ্য ফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (এফএআইএমএ)।
বুধবার চিকিৎসক সংগঠনের তরফে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হয় যাতে বিচার বিভাগের তত্ত্বাবধানে নিট ইউজি পরীক্ষা নতুন করে পরিচালিত হয়। এরই পাশাপাশি এনটিএ-র পরিবর্তে কোনও শক্তিশালী, প্রযুক্তিগত ভাবে উন্নত এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাকে পরীক্ষা পরিচালনার জন্য নিযুক্ত করার দাবিও উঠেছে।
নতুন পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা এই মুহূর্তে গড়া সম্ভব না-ও হতে পারে। তাই সংগঠনের তরফে আবেদন করা হয়েছে, যেন নিট ইউজি ২০২৬-এর পরীক্ষা নেওয়া হয় সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে এবং একজন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও একজন ফরেনসিক বিজ্ঞানীর পর্যবেক্ষণে। এ ছাড়া, প্রশ্নপত্র যাতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা যায় এবং খাতায়-কলমে পরীক্ষার পরিবর্তে কম্পিউটার ভিত্তিক পরীক্ষা (সিবিটি) নেওয়া যায়, সে আবেদনও করা হয়েছে।
গত ৩ মে সারা দেশে এবং বিদেশের কয়েকটি কেন্দ্রে আয়োজন করা হয়েছিল নিট ইউজি-র। দ্বাদশের পর যাঁরা চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে চান, তাঁদের কেন্দ্রীয় ভাবে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির দ্বারা আয়োজিত এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। এ বার সেই পরীক্ষার জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কৃত্রিম মেধা ব্যবহার করে নজরদারি চালানো হয়েছিল পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে। প্রশ্নপত্রে ছিল বিশেষ জলছাপ। প্রশ্নপত্র পরিবহণে ব্যবহার করা হয়েছিল জিপিএস ট্র্যাকিং-সহ যান।
কিন্তু তার পরও বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠতে শুরু করে। প্রথম তদন্ত শুরু করে রাজস্থান পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে তারা দাবি করেছিল, এমন কিছু সম্ভাব্য প্রশ্নের সংকলন পরীক্ষার এক মাস আগে থেকে বাজারে পাওয়া যাচ্ছিল, যার সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের মিল রয়েছে অনেকাংশেই। এমনকি পরীক্ষার ৪২ ঘণ্টা আগে হোয়াটস্অ্যাপ, টেলিগ্রামের মতো অ্যাপ্লিকেশনে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর পরই নড়ে বসে এনটিএ। পরীক্ষার ৯ দিনের মাথায় কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেন, পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং নিয়ামক সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে ৩ মে-র পরীক্ষাটি বাতিল করা হচ্ছে। ফের পরীক্ষা নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত ভার তুলে দেওয়া হয় সিবিআইয়ের হাতে। ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে বলে খবর।