প্রতীকী চিত্র।
পরীক্ষার ন’দিন পর বাতিল করা হল গোটা পরীক্ষা। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি মঙ্গলবার বিবৃতি জারি করে জানাল, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং তথ্য প্রমাণের দিকে তাকিয়ে তারা ওই পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হল। নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হবে সারা দেশের লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলেই সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে চিকিৎসাবিদ্যায় শিক্ষালাভের যোগ্যতা অর্জন করতেন পরীক্ষার্থীরা।
এ বার নিজ ইউজি বাতিল হল পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার ন’দিন পর। রাজস্থান পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল জানিয়েছে, পরীক্ষার অনেক আগেই প্রায় ৪১০টি প্রশ্ন সম্বলিত একটি তথাকথিত প্রশ্নপত্র বাজারে বিক্রি হচ্ছিল। পরীক্ষার পর দেখা যায় রসায়নের প্রায় ১২০টি প্রশ্ন মিলে গিয়েছে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার মাত্র ৪২ ঘণ্টা আগেও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কাছে এই প্রশ্ন পৌঁছেছিল বলে অভিযোগ।
তবে এই প্রথম নয়। ২০২৪-এ নিট পিজি-র পরীক্ষা বাতিল করতে হয়েছিল নির্ধারিত সময়ের মাত্র একদিন আগে। কারণ, সে বারও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল। মিলেছিল কিছু প্রমাণও। সে বার অ্যাডমিট কার্ডও হাতে পেয়ে গিয়েছিলেন পরীক্ষার্থীরা। সব স্থির থাকলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে পরীক্ষা স্থগিত করে দেন কর্তৃপক্ষ। তাঁরা মনে করেছিলেন প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে।
নিট-পিজির আয়োজক প্যানেল দ্য ন্যাশনাল বোর্ড অফ এগ্জ়ামিনেশন ইন মেডিক্যাল সায়েন্সেস পরীক্ষার দু’দিন আগে পড়ুয়াদের সতর্ক করে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, সমাজমাধ্যমে কেউ বা কারা প্রশ্ন বিক্রি করার নামে পড়ুয়াদের বোকা বানাতে চাইছে। পাতা ফাঁদে যেন কেউ পা না দেন।
প্যানেল বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তারা নিট-পিজির আগে রুটিনমাফিক নজরদারি চালিয়েছিল। সেখান থেকেই জানা গিয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি এই পরীক্ষার প্রশ্নের কথা বলে পড়ুয়াদের সঙ্গে প্রতারণা করার চেষ্টা করছেন। তাঁরা দাবি করছেন, এই পরীক্ষার প্রশ্ন নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে হাতে পেয়ে যেতে পারেন পড়ুয়ারা। এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করা হয় প্যানেলের তরফে।
এই বিজ্ঞপ্তি জারির এক দিন পরেই জানিয়ে দেওয়া হয়, নির্দিষ্ট রবিবার পরীক্ষা হচ্ছে না, তা পরে হবে। পরীক্ষা স্থগিতের কারণ হিসাবে অবশ্য সে বার প্রশ্নফাঁসের কথা বলা হয়নি। বরং স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়, এনটিএ-কে নিয়ে একের পর এক অভিযোগ প্রকাশ্যে আসছে। সেই কথা মাথায় রেখেই পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাতে অবাধ, স্বচ্ছ ভাবে পরীক্ষা নেওয়া যায়।
তারও আগে স্থগিত হয়েছে সিএসআইআর নেট পরীক্ষাও। তার আগে ইউজিসি নেট পরীক্ষা হয়ে যাওয়া পর তা বাতিল করে দেওয়া হয়।
বার বার এনটিএ আয়োজিত পরীক্ষায় এমন অভিযোগ উঠতে থাকায় প্রতিবাদ বিক্ষোভে নেমেছে ছাত্র সংগঠনগুলি। দিল্লিতে সোমবার দুপুর থেকেই বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে।