ভারতের দাবাড়ু আর বৈশালী। ছবি: পিটিআই।
ক্যান্ডিডেটস দাবার মহিলাদের বিভাগে জিতলেন ভারতের আর বৈশালী। ফলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে লড়ার অধিকার পেলেন এই দাবাড়ু। চলতি বছরের শেষের চিনের জু ওয়েনজুনের বিরুদ্ধে বিশ্বসেরার লড়াই রয়েছে তাঁর।
২৪ বছরের খেলোয়াড় ০.৫ পয়েন্টে প্রতিযোগিতায় জিতেছেন। শেষ রাউন্ডে সাদা ঘুঁটি নিয়ে ক্যাটেরিনা লাগনোকে হারিয়েছেন। প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই ধারাবাহিক ভাবে ভাল খেলেছেন বৈশালী। অথচ মেয়েদের বিভাগে তিনি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন র্যাঙ্ক থাকা খেলোয়াড় ছিলেন। ২০২৪-এ ভারতের ডি গুকেশ জিতেছিলেন ক্যান্ডিডেটস। এ বার বৈশালী জিতলেন মেয়েদের বিভাগে। ২০২৪-এ বৈশালী ৭.৫ পয়েন্ট নিয়ে যুগ্ম ভাবে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেছিলেন। এ বার ৮.৫ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম স্থানে শেষ করলেন।
বৈশালী সম্পর্কে ভারতের দাবাড়ু আর প্রজ্ঞানন্দের দিদি। তাঁর কোচ আরবি রমেশ বলেছেন, “বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করা খুবই সম্মানের ব্যাপার। ও এতদূর এসেছে দেখে খুব ভাল লাগছে। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে স্নায়ু ধরে রেখে জিতেছে ও।”
ক্যান্ডিডেটসের শেষ রাউন্ডে যথেষ্ট শান্ত মাথায় খেলেছেন বৈশালী। শুরু থেকে নিজের পরিকল্পনা কাজে লাগিয়ে গিয়েছেন। আত্মবিশ্বাস ধরা পড়েছে তাঁর প্রতিটি চালে। ম্যাচের শেষের দিকে একের পর এক বুদ্ধিদীপ্ত চাল দেন বৈশালী, যা তাঁকে ম্যাচ জিততে সাহায্য করেছে। সাহায্য পেয়েছেন স্বদেশি সতীর্থের থেকেও। শেষ ম্যাচে ভারতের দিব্যা দেশমুখ যদি বিবিসারা আসাউবায়েভার সঙ্গে ড্র না করতেন তা হলে ক্যান্ডিডেটস জেতা হত না বৈশালীর।
অথচ একটা সময়ে বৈশালী ভেবেছিলেন ক্যান্ডিডেটসে খেলবেনই না। গত অগস্টে চেন্নাই গ্র্যান্ড মাস্টার্স প্রতিযোগিতায় মাত্র ১.৫ পয়েন্ট পেয়ে বৈশালী এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে গ্র্যান্ড সুইস প্রতিযোগিতায় খেলবেন না ঠিক করেই নিয়েছিলেন। অথচ সেই গ্র্যান্ড সুইস জিতেই ক্যান্ডিডেটসের যোগ্যতা অর্জন করেন বৈশালী। ভাই প্রজ্ঞানন্দ এবং গ্র্যান্ডমাস্টার কার্তিকেয়ন মুরলী যদি অনুপ্রাণিত না করতে গ্র্যান্ড সুইস খেলার জন্য, তা হলে ক্যান্ডিডেটসেও খেলা হত না বৈশালীর।