গালাগালি, হাতাহাতি থেকে শেষ পর্যন্ত রক্তারক্তি কাণ্ড! কোনও রাজনৈতিক দলের ঝামেলা নয়। নেহাতই ফুটবল মাঠের ঘটনা। কলকাতা লিগের তৃতীয় ডিভিশনের দুর্বার ওয়াইএমসিএ বনাম বিএসএস স্পোর্টিং ক্লাবের ম্যাচের পর দু’দলের মধ্যে ঝামেলার জের এতটাই গড়াল যে মাউন্টেড পুলিশ শেষ পর্যন্ত লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়।
ঠিক কী ঘটেছিল এই ম্যাচে? তৃতীয় ডিভিশনের লিগের টেবল অনুযায়ী ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বিএসএস। কিন্তু দুর্বারকে চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ খেলতে হলে বুধবার বিএসএসকে হারাতেই হত। সেই দিক থেকে ম্যাচটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিরতির পর এক গোলে দুর্বার এগিয়েও যায়। নির্ধারিত সময়ে গোলশোধ করতে পারেনি বিএসএস। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পরই ঝামেলার সূত্রপাত হয়। দুর্বার কর্তৃপক্ষের দাবি, ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে পৌঁছতে পেরেছেন বলে আনন্দ করছিলেন ফুটবলাররা। সেই সময় নাকি বিএসএসের কোচ রাজদীপ নন্দী এবং তাঁর দলের ফুটবলাররা চড়াও হয় দুর্বারের ফুটবলারদের উপর। শুরু করে মারধর। দুর্বারের সচিব রবি কর্মকার বলছিলেন, ‘‘ওরা এমন মেরেছে যে আমাদের টিমের ফুটবলার সুরজিৎ ভট্টাচার্যের মাথা ফেটে গিয়েছে। মুন্না ঘরামির বুকে লেগেছে। পুরো অমানবিক ভাবে আমার টিমের ফুটবলারদের উপর চড়াও হয়েছিল ওরা।’’
বিএসএসের সচিব জয়দীপ মুখোপাধ্যায় আবার বলছেন, ‘‘ মাঠে ছিলাম না। তবে যেটুকু শুনেছি তা থেকে জানতে পেরেছি, হেরে গিয়ে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিল আমার টিমের ফুটবলাররা। ওরা কিছু খারাপ অঙ্গভঙ্গিও করে। যা থেকেই ঝামেলা শুরু হয়।’’
বিএসএসের টিডি আবার রাজদীপের বাবা রঘু নন্দী। তিনি নিজে এ দিন বিজি প্রেস মাঠে ছিলেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমার ছেলেরা মারামারি করেনি। দুর্বারের ফুটবলার এবং কর্মকর্তারা আমাদের গালাগাল করছিল। সেখান থেকেই ঝামেলা।’’
কলকাতা লিগে প্রিমিয়ার ডিভিশনের ম্যাচ গড়াপেটার ঘটনার পর ছোট টিমের ম্যাচে এ ধরণের মারামারির ঘটনা ময়দানকে আরও এক বার কলঙ্কিত করল। আইএফএ সচিব উৎপল গঙ্গোপাধ্যায় পুরো ঘটনাটিই শুনেছেন। তিনি বলছেন, ‘‘যেহেতু ঘটনাটি ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ঘটেছে স্বভাবতই দু’ ক্লাবের মধ্যে কেউ যদি অভিযোগ করে, তবেই আইএফএ কিছু ব্যবস্থা নিতে পারবে।’’