স্টার্কের আগুনে বাউন্সারে বিপন্ন মর্গ্যান। ছবি: গেটি ইমেজেস।
ফিল হিউজ-কাণ্ড নিজের চোখে দেখেছেন। সেই অভিশপ্ত দিনে মাঠেই ছিলেন মিচেল স্টার্ক। রবিবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে তাঁর এক তীব্র গতির বাউন্সারে তেমনই আর এক দুর্ঘটনা ঘটার উপক্রম হয়েছিল। এ বার স্টার্কের হাত থেকে ছুটে যাওয়া প্রায় ১৪৫ কিমি গতির বাউন্সার সজোরে ধাক্কা মারে ইংল্যান্ড ক্যাপ্টেন ইয়ন মর্গ্যানের হেলমেটে। অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড শেষ ওয়ান ডে-র শুরুতেই এই কাণ্ড। ওই আঘাত পাওয়ার পর আর মাঠে ফিরতে পারেননি ইংরেজ অধিনায়ক। স্টার্ককেও মানসিক ভাবে ভেঙে পড়তে দেখা গেল। হিউজের দুর্ঘটনার স্মৃতিই বোধহয় ভেসে উঠল তাঁর মনের পর্দায়।
চলছে চিকিৎসা। ছবি: রয়টার্স।
ঘটনাটি সপ্তম ওভারে। স্টার্কের বাউন্সার এড়াতে গিয়েছিলেন মর্গ্যান। বলের বিপজ্জনক লাইন থেকে মাথা সরিয়ে নিতে যান তিনি। কিন্তু পুরোপুরি সরাতে পারেননি। ১৪৫ কিমি-র বেশি গতিতে আসা বল তাঁর হেলমেটের ডান দিকে গিয়ে সজোরে লাগে। তৎক্ষনাৎ নিজেকে সামলে নিলেও প্যাভিলিয়নের দিকে ইশারা করেন। সঙ্গে সঙ্গে দলের ডাক্তার ও ফিজিও ছুটে আসেন। কয়েক মিনিট আলোচনার পর মর্গ্যানকে ফিরিয়ে নিয়ে যান তাঁরা। কিছুক্ষণ পর ইংল্যান্ড শিবির থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, মস্তিষ্কে আঘাত পেয়েছেন ইংল্যান্ড ক্যাপ্টেন, জ্ঞানও হারিয়েছেন দু-একবার। তার চিকিৎসা চলছে। আর মাঠে নামতে পারবেন না। রাতে জানা যায়, তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।
মাঠে থাকা অজি ক্রিকেটারদেরও উদ্বিগ্ন দেখায়। সবচেয়ে বেশি স্টার্ক। ওই ওভারের পরই বাউন্ডারি লাইনের ধারে এসে অস্ট্রেলিয়ার কোচ ডারেন লেম্যানকে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। এই সিরিজেই আরও দু’বার শর্ট বলে আঘাত পেয়েছিলেন মর্গ্যান। লর্ডস ও ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে আগের ম্যাচে। দু’বারই তাঁর গ্লাভসে আঘাত লাগে। লর্ডসের ঘটনার পরই ঘাড়ে কভার লাগানো আরও সুরক্ষিত হেলমেট ব্যবহার শুরু করেন তিনি। কিন্তু তাতেও আঘাত আটকানো গেল না। ম্যাচটাও ইংল্যান্ড আট উইকেটে হারল। ফলে ৩-২ সিরিজও হারতে হল তাদের। বিপক্ষকে ১৩৮-এ অলআউট করে ২৪.২ ওভারে মাত্র দু’উইকেট হারিয়ে রান তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। সিরিজ সেরা মিচেল মার্শ।