Valentines Day 2026

ভালবাসার দোসর হোক প্রকৃতি, চেনা গণ্ডি পেরিয়ে ৫ ঠিকানা হতে পারে প্রেম দিবসের গন্তব্য

প্রেম দিবসে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে প্রকৃতির কোলে কাটিয়ে আসুন দু’টি দিন। নদী, পাহাড়, সবুজের সান্নিধ্য পেতে শেষবেলায় কোথায় যাবেন?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৩৯
Share:

সপ্তাহ শেষে প্রেম দিবস, আবার শনি-রবি ছুটি। শেষ বেলায় কোথায় ঘুরে আসতে পারেন? ছবি: সংগৃহীত।

চোখে চোখ, হাতে হাত রেখে এক সময় যে প্রেম শুরু হয়, সংসার করতে গিয়ে দায়-দায়িত্বের চাপে সেই প্রেমই যেন হারিয়ে যায়। ভালবাসা থাকলেও, বদলে যায় তার বহিঃপ্রকাশ।

Advertisement

ব্যস্ত জীবনে সময়ের বড় অভাব। তবে এ বার যখন প্রেম দিবস শনিবার, তখন সপ্তাহশেষের ছুটি কাজে লাগিয়ে প্রেম নতুন করে ঝালিয়ে নিতে বেরিয়ে পড়ুন সঙ্গীর সঙ্গে। মান-অভিমান সরিয়ে রেখে প্রকৃতির কোলে কাটিয়ে আসুন দু’টি দিন। নদী, পাহাড়, সবুজের সান্নিধ্যে বিশেষ মানুষটির সঙ্গে একলা হতে কোথায় যাবেন?

শ্রীনিকেতন

Advertisement

ঘুরে নিতে পারেন তিলপাড়া ব্যারেজ। বিকেলের দিকটি বেশ উপভোগ্য। ছবি:সংগৃহীত।

বীরভূমের বোলপুর মহকুমার শ্রীনিকেতনকেও বেছে নিতে পারেন ছোট্ট ছুটিতে ঘোরার জন্য। শান্তিনিকেতনের মতো ভিড়ভাট্টা এখানে নেই। শিক্ষা এবং শিল্পকলার পীঠস্থান শ্রীনিকেতনে এলে খুব কাছ থেকে চাক্ষুষ করতে পারবেন এখানকার স্থানীয় হস্তশিল্প। কৃষি উন্নয়ন এবং শিল্পের প্রসারের জন্য রবীন্দ্রনাথ শ্রীনিকেতন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মৃৎশিল্প, বাটিকের কাজ দেখতে পাওয়া যাবে এখানে এলে। প্রেম দিবসে মনের মতো উপহার কিন্তু এখান থেকেই কেনা যেতে পারে।

দিনভর শ্রীনিকেতন, হাট ঘুরলেও বিকেলটা রাখুন নিভৃতে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য। শ্রীনিকেতন থেকে ঘুরে আসুন তিলপাড়া ব্যারেজ। দূরত্ব বড়জোর ৩৮ কিলোমিটার। সিউড়ি শহর থেকে সাড়ে ৫ কিলোমিটার দূরে ময়ূরাক্ষী নদীর উপর নির্মিত ব্যারেজটি। ১৫টি স্লুইস গেট রয়েছে। রয়েছে পার্কও। শীতের মরসুমে এখানে খুব বেশি জল না থাকলেও, অস্তমিত সূর্যের রূপ ভারী চমৎকার লাগবে।

কোথায় থাকবেন?

শ্রীনিকেতন একাধিক হোটেল, রিসর্ট রয়েছে।

কী ভাবে যাবেন?

কলকাতা থেকে গাড়ি নিয়ে শ্রীনিকেতন যেতে পারেন। ট্রেনে বোলপুর গিয়ে সেখান থেকে টোটো বা অটো বুক করেও যেতে পারেন।

ফুটিয়ারি

ফুটিয়ারি জলাধার ঘুরে নিন। ছবি:সংগৃহীত।

জলাধার, পাহাড় আর গ্রামীণ পরিবেশের সান্নিধ্য একই সঙ্গে পেতে চাইলে প্রেম দিবসের গন্তব্য হতে পারে পুরুলিয়ার হুড়ার ফুটিয়ারি জলাধার। নিভৃতে কাটানোর জন্য ঠিক যেমন শর্ত লোকে সাধারণত খোঁজেন, তার সবটাই মজুত এখানে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টান এড়ানো কঠিন। জলাধারের কাছেই থাকার বন্দোবস্ত। চাইলে ঘুরে নেওয়া যায় আশপাশ। আর যদি তেমন ইচ্ছা না করে, অলস যাপনেই কাটতে পারে সময়। পড়ন্ত বিকেলে জলাধারের কাছে গিয়ে প্রকৃতি উপভোগ করতে পারেন, হাঁটতে পারেন গ্রামের পথ-প্রান্তরে। ইচ্ছা হলে এখান থেকে ঘুরে নিন পুঞ্চার পাকবিড়া জৈন মন্দির বা দেউল। ৩টি মন্দির রয়েছে একটি চত্বরে। পাকবিড়ায় ছড়িয়ে রয়েছে বেশ কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। ভোর ভোর চলে যেতে পারেন ফুটিয়ারি ডুংরি। ছোট্ট টিলার মতো পাহাড় রয়েছে। তার মাথা থেকে অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যায়।

কোথায় থাকবেন?

ফুটিয়ারি জলাধারের কাছেই একটি বেসরকারি রিসর্ট আছে থাকার জন্য। পুঞ্চাতেও থাকার জায়গা পেয়ে যাবেন।

কী ভাবে যাবেন?

হাওড়া থেকে ট্রেনে বা বাসে চলুন আদ্রা। সেখান থেকে ফুটিয়ারি মোটামুটি ৩০ কিলোমিটারের মতো রাস্তা। কলকাতা থেকে সরাসরি গাড়িতেও আসতে পারেন।

আসাননগর

ঘুরে নিতে পারেন আসাননগরও। ছবি:সংগৃহীত।

দেখার বলতে নদী আর গ্রামজীবন। আছে সবুজের সান্নিধ্য। দু’টি দিন এমন প্রকৃতির সঙ্গে পেতে চাইলে চলে যেতেই পারেন আসাননগর। কলকাতা থেকে বড়জোর চার সাড়ে চার ঘণ্টার রাস্তা। চাইলে লোকাল ট্রেনেও আসা যায়। তবে নদিয়ার আসাননগর এখন শহুরে মানুষজনের হাওয়া-বদলের ঠিকানা হিসাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আসাননগরের আর এক পরিচিতি সেখানকার বাউল-ফকির পরম্পরার কারণে। ঘোরাঘুরির সময় লালন সাঁইয়ের গান শোনার সৌভাগ্যও হতে পারে।

ঘুরে নিতে পারেন শিবনিবাস। এখানে তিনটি মন্দির রয়েছে। দু’টি শিবের ও একটি রামসীতার। তারই মধ্যে একটি রাজরাজেশ্বর মন্দির। যার অন্যতম আকর্ষণ হল ৯ ফুট উঁচু শিবলিঙ্গ। খুব কাছেই ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্ত। বনবিবি তলার বিশাল অক্ষয় বটবৃক্ষ দেখে নিতে ভুলবেন না। মূল গুঁড়ি নেই, ছ’বিঘা জমি জুড়ে শুধু বটের ঝুরি বিস্তৃত।

কোথায় থাকবেন

থাকার জন্য একটি মাত্র হোমস্টে রয়েছে। সামনে দিয়েই বয়ে গিয়েছে ঝোর নদী।

কী ভাবে যাবেন

জায়গাটি কৃষ্ণনগর শহর ও মাজদিয়ার মধ্যবর্তী। কলকাতা থেকে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে পৌঁছোতে হবে বড়জাগুলি। সেখান থেকে রানাঘাট, ফুলিয়া হয়ে আসাননগর।

যমুনাসুল

নিরালা সৈকতে সবুজ সঙ্গ দেবে। প্রেম দিবসের গন্তব্য হতে পরে যমুনাসুল। ছবি:সংগৃহীত।

বাংলার পড়শি রাজ্য ওড়িশায় রয়েছে এক সুন্দর ও নির্জন সৈকত, যমুনাসুল। সাগরের পারে বসে বসে নৌকা নিয়ে মাছ ধরা, জাল ফেলা আর ঢেউ গুনতে গুনতেই কেটে যাবে বেশ কয়েকটি ঘণ্টা। এখানে সারাদিন শোনা যায় পাখির ডাক। কোলাহলের বদলে সর্ব ক্ষণের সঙ্গী হয় ঢেউয়ের শব্দ। দিঘা-পুরীতে যেমন হইহই ব্যপার আছে, এখানে তেমন নেই। এমনকি বড় বড় ঢেউ সাগরতটে আছড়েও পড়ে না। তবু এখানে আছে এমন কিছু, যার প্রেমে পড়তে পারেন কেউ কেউ। এই ঠিকানা প্রিয়জনের সঙ্গে নিভৃত যাপনের জন্যই।

কোথায় থাকবেন

এখানে থাকার জন্য নানা মানের হোটেল আছে।

কী ভাবে যাবেন ট্রেনে করে হাওড়া বা সাঁতরাগাছি থেকে চলে যান বাস্তা স্টেশন। সেখান থেকে যমুনাসুল সৈকতের দূরত্ব ৩১ কিলোমিটার। অটো ভাড়া করে যাওয়া যায়। থাকার জন্য ক্যাম্পিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

শিবখোলা

শিবখোলা হতে পারে প্রেম দিবসের গন্তব্য। ছবি:ইনস্টাগ্রাম।

দিন দুয়েকের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন এমন এক জায়গা থেকে, যেখানে, নদী-পাহাড়-চা-বাগান, সবই মিলবে। শিলিগুড়ি থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরেই রয়েছে এমনই এক নিসর্গের ঠিকানা, শিবখোলা। ‘খোলা’ শব্দটির অর্থ নদী। কোথাও তা খরস্রোতা, কোথাও আবার স্রোত বেশ কম। নদী পারাপারের জন্য স্থানে স্থানে রয়েছে বাঁশের সাঁকো। মাঝেমধ্যে নদীর শব্দকে ছাপিয়ে যায় পাখির ডাক। প্রকৃতির আঙিনায় বসে থাকলে সময় আপনি কেটে যাবে। এই অঞ্চলেই রয়েছে শিবের পুরনো মন্দির। কেউ বলেন, শিবের নামেই শিবখোলা।

কোথায় থাকবেন

শিবখোলা অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্পে তাঁবু, কটেজ রয়েছে থাকার জন্য। থাকার সঙ্গেই খাওয়ার ব্যবস্থা।

কী ভাবে যাবেন

শিয়ালদহ থেকে রাতের ট্রেন ধরে নিউ জলপাইগুড়ি বা কলকাতা থেকে বাসে পৌঁছোন শিলিগুড়ি। সেখান থেকে শিবখোলা পৌঁছোতে গাড়িতে বড়জোর ঘণ্টা দুই। সেই রাতটা থেকে, পরদিন ঘুরে এনজেপি থেকে সন্ধ্যার ট্রেন ধরলে তার পরের দিন ভোরেই পৌঁছে যাবেন হাওড়া কিংবা শিয়ালদহে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement