হৃষীকেশে নতুন জায়গার সন্ধান চান? গন্তব্য হতে পারে পাঁচ জায়গা। ছবি: সংগৃহীত।
ধর্মীয় জায়গায়য় যাঁরা ঘুরতে ভালবাসেন, তাঁদের কাছে হৃষীকেশ থাকে পছন্দের তালিকার বেশ উপরের দিকেই। হাতে খুব বেশি সময় না থাকলেও ঘোরার জায়গা হিসেবে হৃষীকেশকে বেছে নিতেই পারেন। হৃষীকেশ মানেই লক্ষ্মণ ঝুলা, রাম ঝুলা, পরমার্থ নিকেতন, যোগ আশ্রম এবং গঙ্গা আরতি উপভোগ করা। তবে এর বাইরেও হৃষীকেশ ঘোরার মতো একাধিক জায়গা রয়েছে।
ফুল চট্টি আশ্রম
যোগ ভালবাসলে এই স্থান মন জয় করবে। হৃষীকেশের প্রাচীন এই আশ্রম ১৮৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। যোগ, ধ্যান ও আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য বেশ পরিচিত এই স্থান। গঙ্গার ধারে সবুজ পাহাড়ে ঘেরা এই আশ্রমে কয়েক দিন কাটালে মন শান্তিতে ভরে উঠবে। শহুরে কোলাহল থেকে একেবারে দূরে এই আশ্রমে যোগ ও ধ্যান শিক্ষার বিভিন্ন সেশনও করানো হয়।
পাটনা জলপ্রপাত
হৃষীকেশ থেকে দূরত্ব মাত্র ৬–৭ কিলোমিটার। পাহাড় জঙ্গলে ঘেরা পথে দিয়ে ট্রেকিং করে পৌঁছতে হয় পাটনা জলপ্রপাতে। প্রবল জলধারা, সবুজে মোড়া চারপাশ আর শীতল পরিবেশ মন ভরিয়ে দেয়। জলপ্রপাতের কাছে একটি ছোট গুহাও রয়েছে, যা পর্যটকদের কৌতূহল বাড়ায়।
নীরগড় জলপ্রপাত (দ্বিতীয় স্তর)
উত্তরাখণ্ডের হৃষীকেশের কাছে অবস্থিত এই জলপ্রপাত তিনটি ধাপে নেমে এসেছে, যা একে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। নীরগড়ের নীচের স্তরেই পর্যটকদের বেশি আনাগোনা। তবে উপরে স্তরটিতে তেমন ভিড় চোখ পড়ে না। জলের কলকল শব্দ, পাথুরে পথ আর সবুজে ঘেরা মনোরম পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। ট্রেকিং করে জলপ্রপাতের কাছে পৌঁছনোর অভিজ্ঞতাও বেশ রোমাঞ্চকর।
কুঞ্জপুরী ফরেস্ট ট্রেল
ঘন বন, পাহাড়ি ঢাল আর পাখির আওয়াজে ভরা এই ট্রেলটি ট্রেকিং ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। ট্রেকিংয়ের সময় মাঝেমধ্যেই দেখতে পাবেন গঙ্গা। চোখের সামনে দেখতে পাবেন হিমালয়ের অপূর্ব শোভা। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় এখানকার দৃশ্য বিশেষ ভাবে আকর্ষণীয়। নির্জন পরিবেশ, শুদ্ধ বাতাস ও সবুজে ঘেরা কুঞ্জপুরী ফরেস্ট ট্রেলকে রাখতেই পারেন ভ্রমণের তালিকায়।
বশিষ্ঠ গুহা
হৃষীকেশ থেকে প্রায় ২৫ কিমি দূরে বশিষ্ঠ গুহা উত্তরাখণ্ডের হৃষীকেশের কাছে গঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত এক পবিত্র ও শান্ত সাধনস্থল। স্থানীয় লোকের মতে, মহর্ষি বশিষ্ঠ এখানে ধ্যান ও তপস্যা করেছিলেন। গুহার ভিতরের পরিবেশ অত্যন্ত নীরব ও ধ্যানের উপযোগী। আজও সাধক ও পর্যটকেরা মানসিক শান্তির খোঁজে আসেন এই গুহায়।