Giridih And Madhupur Travel Guide

শেষবেলায় শিমুল-পলাশ দেখতে চলুন বাঙালির হাওয়া-বদলের পুরনো ঠিকানা গিরিডি-মধুপুরে

বইয়ের পাতায় পড়েছেন। নামও শুনেছেন। এইবার ঘুরে আসুন। হাতে দিন তিনেকের ছুটি থাকলেই যেতে পারবেন বাঙালির হাওয়া বদলের পুরনো ঠিকানায়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৬ ১৩:০৯
Share:

শিমুল-পলাশের টানে এই সময় গিরিডি-মধুপুর ঘুরে নিতে পারেন। ছবি: সংগৃহীত।

গা ছমছমে ভূতের গল্পই হোক বা রহস্য-রোমাঞ্চ, বাঙালির সাহিত্যের পাতায় বার বার উঠে এসেছে গিরিডি-মধুপুর। এককালে যখন আধুনিক চিকিৎসার রমরমা হয়নি, তখন চিকিৎসকেরা অনেকেই শরীর সুস্থ করতে ‘হাওয়া বদল’-এর নিদান দিতেন। তখন থেকেই গিরিডি-মধুপুর-দেওঘরের সঙ্গে বাঙালির চিরন্তন সম্পর্ক। পশ্চিমের এই শহরগুলির জল-হাওয়ায় স্বাস্থ্য ফেরাতে যেতেন অনেকে। অনেকে সেখানে বাড়ি-ঘর বানিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি আজও রয়ে গিয়েছে এই স্থানগুলিতে।

Advertisement

দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে পর্যটনের ঠিকানাও বদলেছে। বদল হয়েছে হাওয়া বদলের চরিত্রও। মাসের পর মাস পশ্চিমা জল-হাওয়ায় শরীর সুস্থ করতে যাওয়ার সময় কোথায়? বরং লম্বা ছুটির বদলে বাঙালি ভ্রমণ থমকেছে সপ্তাহশেষের ২-৩দিনে।

মধুপুরে ফুলের বাহার। ছবি: সুদীপ্ত মণ্ডল।

পশ্চিমা প্রকৃতির মালভূমির এই রূপে মুগ্ধ হয়েছেন বিভূতিভূষণ থেকে রবীন্দ্রনাথ-সহ অনেক সাহিত্যিকই। তাঁদের স্মৃতিবিজড়িত মধুপুর এখন আর আগের মতো নেই বটে, তবে এখনও ফুসফুস ভরে অক্সিজেন নিয়ে যাওয়া এখান থেকে। ফিরে যাওয়া যায় অতীতে।

Advertisement

গ্রীষ্মে বড্ড গরম এখানে। তবে গরমের দাপট বেড়ে যাওয়ার আগে এই বেলা ছোট্ট ছুটিতে ঢুঁ মেরে যেতে পারেন গিরিডি-মধুপুর থেকে। বসন্ত এলেই ঝাড়খণ্ডের এই জায়গাগুলি ফুলে ফুলে রঙিন হয়ে ওঠে। পথের ধারে ফোটে পলাশ-শিমুল। এই বছর ফুল কম ফুটলেও, এখন গেলে দেখা মিলবে।

বুরাই পাহাড়ের কোলে জলাশয়। ছবি:সংগৃহীত।

মধুপুরে দর্শনীয় বলতে পুরনো বাড়ি, মন্দির, আশ্রম। পুরনো বাড়িগুলি্র কয়েকটি হাতবদলের পরে নতুন রূপে সেজে উঠেছে। বাড়ি সংলগ্ন কেয়ারি করা বাগানও আছে। এখানকার পুরনো বাড়িগুলিতে একসময় ‘দাদার কীর্তি’-র মতো ছবির শুটিংও হয়েছে। অনেক জনপ্রিয় বাংলা এবং হিন্দি ছবির শুটিং স্থল গিরিডি, মধুপুর, শিমুলতলা।

মধপুর থেকে সকাল সকাল গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে ঘুরে নিতে পারেন আশপাশের জায়গাগুলি। তালিকায় জুড়ে নিন কপিল মুনির আশ্রম। বাগান ঘেরা এই আশ্রম দু’দণ্ড বসে জিরিয়ে নিতে পারেন। কোলাহল বিহীন স্থানটি বড় শান্তির। যেতে পারেন বিবেকানন্দ মঠেও।মধুপুরের কাছেই বুরাই পাহাড়ে। পাহাড় না বলে টিলা বলা ভাল। উপরে উঠলে এক অপূর্ব নিসর্গ চোখে পড়ে। এখান থেকে সূর্যাস্তের দৃশ্যও অনবদ্য। ‘মনোলিথিক রক’ বছরের পর বছর ধরে জল-বায়ুর ক্ষয়ের ফলে প্রাকৃতিক গুহা ও নানা ভূমিরূপের আকার ধারণ করেছে। পাশেই নদী, জল কম থাকলে হেঁটেও পেরোনো যায়।

ঘুরে নিন বুরাই পাহাড়। ছবি:সংগৃহীত।

মধুপুর থেকে চলুন খান্ডোলি জলাধার ঘুরতে। মিনিট চল্লিশেক দূরত্ব। গিরিডিতে জল সংবহনের সুবিধার্থে তৈরি হয়েছিল এই ড্যাম। গা বেয়েই টিলা। চাইলে জলাধারে বোটিং করতে পারেন।

খান্ডোলি ঘুরে চলুন গিরিডিতে। সেই গিরিডি, যেখানে সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী সৃষ্টি ‘প্রফেসর শঙ্কু’-র বাড়ি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সহজপাঠ’-এ পড়া উস্রী নদীর ঝর্নাই এখানকার অন্যতম আকর্ষণ। বর্ষায় ঝর্না উচ্ছ্বল, জলের তোড়ে আশপাশের পাথর চাপা পড়ে যায়। বসন্তে জল কম হলেও, সৌন্দর্য কমে না।

উস্রী নদীর ঝর্না। ছবি: সংগৃহীত।

মধুপুরে একরাত থেকে পর দিন সকালে পায়ে হেঁটে ঘুরে নিন আশপাশ। তৃতীয় দিন খান্ডোলি, গিরিডি ঘুরে সেখান থেকে তোপচাঁচি হয়ে চলে আসতে পারেন ধানবাদে। এক সময় বহু বাংলা ছবির শুটিংয়ের ঠিকানা ছিল তোপচাঁচি হ্রদ। টিলা ঘেরা হ্রদটির সৌন্দর্য এক নিমেষে মন ভাল করে দেবে। তবে যদি ধানবাদ পর্যন্ত না আসতে চান তোপচাঁচি বাদ দিয়ে ফিরতে পারেন মধুপুরেও।

কোথায় থাকবেন

মধুপুরে এক সময় বহু ধনী ব্যক্তি হাওয়া বদলের জন্য অট্টালিকা বানিয়েছিলেন। তারই কিছু সারিয়ে তোলা হয়েছে। এই বাড়িগুলি পর্যটকদের ভাড়া দেওয়া হয়। পুরনো বাড়ির রোমাঞ্চ পেতে চাইলে থেকে যেতে পারেন এমন ঠিকানায়।

কী ভাবে যাবেন

হাওড়া এবং শিয়ালদহ থেকে মধুপুর যাওয়ার একাধিক ট্রেন রয়েছে। স্টেশনের নাম মধুপুর জংশন। সড়কপথে কলকাতা থেকে গেলে দুর্গাপুর, আসানসোল, চিত্তরঞ্জন, জামতাড়া হয়ে মধুপুর।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement