উটেদের পাসপোর্ট। ছবি: সংগৃহীত।
২০২৬ সালে পাসপোর্ট না থাকলে আপনার দিকে তাকিয়ে হাসবে উট! যে উট কাঁটা বেছে খেতে পারে না বলে আপনি ধর্তব্যের মধ্যে ধরেন না, সে উট কিন্তু এখন থেকে পাসপোর্টধারী! তবে সব দেশের উট এখনও এত ভাগ্যবান নয়। সৌদি আরব এখন উটদেরও এক ধরনের নাগরিক-সুলভ পরিচয়পত্র দিচ্ছে, যাতে তাদের জীবন, বাণিজ্য, স্বাস্থ্য ও পরিচয় সবকিছু সুনির্দিষ্ট ভাবে জানা যায়। এর মাধ্যমে এক দিকে যেমন ঐতিহ্য রক্ষা করা সহজ হবে, অন্য দিকে আধুনিক নিয়মে উটপালন নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
উটকে দেশটির ঐতিহ্যের বাহক বললে বাড়িয়ে বলা হয় না। সেখানকার সংস্কৃতি ও জীবনের এক অঙ্গ উট। আর তাই সৌদি আরবের সরকারের পক্ষ থেকে সেই উটেদের জন্য বিশেষ ভাবনার নিদর্শন মিলল। এই সিদ্ধান্ত হাস্যকর মনে হলেও এর নেপথ্যে রয়েছে বিশেষ লক্ষ্য।
সৌদি আরবে লক্ষ লক্ষ উটের বাস। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের পরিবেশ, জল ও কৃষি মন্ত্রক জানিয়েছে, এই পাসপোর্টের মাধ্যমে উটেদের পরিচয়, মালিকানা এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্যকে এক জায়গায় নথিভুক্ত করা যাবে। নতুন এই পদ্ধতিতে প্রতিটি উটের একটি পরিচয়-দস্তাবেজ তৈরি হবে, যাতে তার নাম, জন্মতারিখ, জাত, রং, ছবি এবং মালিকের তথ্য-সহ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নথিও থাকবে। এর মাধ্যমেই উটপালনের কাজে আসবে শৃঙ্খলা। সরকারের ডিজিটাল ডেটাবেসের একটি অংশ হবে উটের পাসপোর্ট। উটের বাণিজ্য, মালিকানা পরিবর্তন, পরিবহন ও রোগ-টিকা ইত্যাদি সমস্ত নথি ভাল ভাবে সংরক্ষণ করা যাবে। এর ফলে মালিক ও ক্রেতার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি কমবে, উটের কেনাবেচা সঠিক ভাবে হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও সৌদি আরবের উটের সুনাম বাড়বে। সে সব ভেবেই এই উদ্যোগ নিয়েছে সে দেশের সরকার। তার উপরে মানুষের পাসপোর্টের মতো প্রত্যেকটি উটেরও ছবি সাঁটা থাকবে এখানে। মুখের দু’দিকের ছবি তোলা হবে তাদের।
সৌদি আরবে লক্ষ লক্ষ উটের বাস। আনুমানিক হিসেব করলে দেখা যাবে, প্রায় ৮০ হাজার ব্যক্তির ২২ লক্ষ উট রয়েছে। অনেক জায়গায় উটের দৌড় প্রতিযোগিতা বা সৌন্দর্য প্রদর্শনীও হয়ে থাকে। তাই এই পাসপোর্ট প্রকল্প তাদের ঐতিহ্যের সম্মানবৃদ্ধি করবে বলে আশা নাগরিকদের।