Krishnagar Cornea Donation

মৃত মায়ের কর্নিয়া বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার সমাজকর্মী পুত্র! কৃষ্ণনগরে শোরগোল, ধৃতের সংখ্যা মোট পাঁচ

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম আমির চাঁদ। এলাকায় সমাজকর্মী হিসাবে পরিচিতি রয়েছে তাঁর। রবিবার আমিরের মা রাবেয়া বিবি প্রয়াত হন। তার পর একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে মায়ের কর্নিয়া দানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন পুত্র।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৪৬
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

মায়ের মৃত্যু হয়েছে বার্ধক্যজনিত কারণে। পারলৌকিক কাজের আগে জনহিতকর কাজে ব্রতী হতে চেয়েছিলেন পেশায় শিক্ষক তথা সমাজকর্মী পুত্র। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রয়াত মায়ের কর্নিয়া দান করবেন। সেই মতো একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের চিকিৎসকেরা মৃতার কর্নিয়া সংগ্রহ করেন। কিন্তু মহৎ উদ্যোগেই চরম বিপত্তি! চক্ষুদান নয়, মৃত মায়ের অঙ্গ ‘বিক্রি’ করেছেন, এই অভিযোগে সরব হলেন পড়শিরা। মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা। শেষমেশ পুলিশ গিয়ে গ্রেফতার করল সমাজকর্মী-শিক্ষক এবং তাঁর পরিবারের পাঁচ সদস্যকে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার সেনপুর শ্যামনগর পাড়ায়।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম আমির চাঁদ। এলাকায় সমাজকর্মী হিসাবে পরিচিতি রয়েছে তাঁর। রবিবার আমিরের মা রাবেয়া বিবি প্রয়াত হন। তার পরএকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে মায়ের কর্নিয়া দানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন পুত্র। কিন্তু প্রতিবেশীদের একাংশের দাবি, কোনও রকম নথিপত্র ছাড়া গোপনে ওই কাজ করেছেন আমির। নেপথ্যে আর্থিক লেনদেন রয়েছে।

ওই খবর চাউর হতেই উত্তেজিত কিছু লোকজন আমিরের বাড়িতে চড়াও হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমির, তাঁর দুই বোন এবং পুত্রবধূ-সহ পরিবারের পাঁচ জনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে অঙ্গ চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হয়েছেন পাঁচ জন।

Advertisement

ধৃত শিক্ষক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন। তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় বিধ্বস্ত আমির বলেন, “মায়ের ইচ্ছাতেই কর্নিয়া দান করেছি। মেডিক্যাল কলেজের সমস্ত বৈধ নথিপত্র আমাদের কাছে রয়েছে। সমাজসেবামূলক কাজ করতে গিয়ে কেন এ ভাবে হেনস্থা হতে হচ্ছে, বুঝতে পারছি না। আমাদের ফাঁসানো হয়েছে।”

জেলার পরিবেশ ও সমাজকর্মী মহলের একাংশ আমিরের পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, পুলিশ সাধারণ মানুষকে অঙ্গদানের মতো বিষয়ে সচেতন করার পরিবর্তে সমাজকর্মীকেই গ্রেফতার করেছে। তবে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার এক আধিকারিক বলেন, ‘‘এলাকাবাসীর নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করা হয়েছে। কর্নিয়া সংগ্রহের ক্ষেত্রে সমস্ত আইনি পদ্ধতি মানা হয়েছিল কি না এবং নেপথ্যে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

ধৃতদের সোমবার আদালতে হাজির করানো হয়েছিল। বিচারক তাঁদের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement