Viral Video

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের দু’দিন আগে ২৪ ঘণ্টায় তিন লক্ষ বজ্রপাত ইউরোপের দেশে! আগে থেকেই সাবধান করছিল প্রকৃতি?

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এই তাণ্ডব ছিল এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা। অনেকেই অবিরাম বজ্রপাতকে আলোর ঝলকানির সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে আকাশকে আলোকিত করে রেখেছিল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ১৫:১০
Share:

ছবি: এক্স থেকে নেওয়া।

২৪ ঘণ্টায় তিন লক্ষ বজ্রপাত! বিরল কাণ্ড নেদারল্যান্ডসে। তা-ও আবার ফুটবল বিশ্বকাপে মরক্কোর কাছে অভাবনীয় পরাজয়ের দু’দিন আগে। ফলে নেটমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, নেদারল্যান্ডস যে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে চলেছে, তা কি আগে থেকেই জানান দিচ্ছিল প্রকৃতি? বস্তুত মরক্কোর মতো একটি দেশের কাছে যে নেদারল্যান্ডস হেরে যাবে, তেমনটা মনে আসেনি বড় বড় ফুটবল বিশেষজ্ঞদেরও।

Advertisement

চলতি বছরের ২৮ জুন এক প্রাকৃতিক আলোক-নাট্যের সাক্ষী হয়েছিল নেদারল্যান্ডস। ২৪ ঘণ্টায় প্রায় তিন লক্ষ বজ্রপাত হয় সেখানে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয় আমস্টারডাম শহরে। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে সেখানকার বাসিন্দারা অবিরাম বজ্রপাত ও প্রবল বর্ষণ প্রত্যক্ষ করেন। সেই ঘটনা সংক্রান্ত একাধিক ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োগুলি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম

নেদারল্যান্ডসের আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ২৮ জুন ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সারা দেশে তিন লাখেরও বেশি বজ্রপাতের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। ঝড়ের তীব্রতার চূড়ান্ত পর্যায়ে, মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে নেদারল্যান্ডস এবং উত্তর জার্মানি জুড়ে প্রায় ৩০ হাজার বার বজ্রপাত হয়েছিল। অর্থাৎ, প্রতি সেকেন্ডে গড়ে ১৭টি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছিল। বলা বাহুল্য, এটি কোনও সাধারণ বৃষ্টির ঘটনা ছিল না। এটি ছিল এক শক্তিশালী বজ্রঝড়, যা কয়েক দিন ধরে চলা তীব্র দাবদাহের অবসান ঘটিয়েছে। কিন্তু আমস্টারডামে এমন তীব্র ঝড়বৃষ্টির কারণ কী ছিল? আবহবিদেরা জানিয়েছেন, উষ্ণ এবং আর্দ্র বাতাস যখন শীতল বাতাসের সংস্পর্শে এসে দ্রুত উপরের দিকে উঠে যায় তখন বজ্রঝড় হয়। এর ফলে বিশাল আকৃতির মেঘ তৈরি হয়, যা থেকে বজ্রপাত, মেঘের গর্জন, বৃষ্টি এবং কখনও কখনও শিলাবৃষ্টি হয়। প্রবল বাতাসও বইতে দেখা যায়।

Advertisement

আর এর পরে মঙ্গলবার ভোরে মরক্কোর সঙ্গে ম্যাচে হেরে যায় নেদারল্যান্ডস। ২০১৪, ২০২২ সালের পর ২০২৬ সালের বিশ্বকাপেও সেই টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হল দেশটিকে। এ বার গ্রুপ অফ ৩২ থেকেই। ফলে ফুটবলপ্রেমী নেটাগরিকদের অনেকেই দাবি তুলেছেন, ‘শক্তিশালী’ নেদারল্যান্ডস ‘দুর্বল’ মরক্কোর কাছে হারবে, তা আগে থেকেই জানত প্রকৃতি। ঘন ঘন বজ্রপাতের মাধ্যমে তা-ই জানান দিচ্ছিল দেশবাসীকে।

ভারতের মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের মতো উষ্ণ এলাকার তুলনায় নেদারল্যান্ডসে এ ধরনের তীব্র ঝড় সচরাচর দেখা যায় না। তবে ইউরোপে প্রচণ্ড গরম পড়ার কারণে এ ধরনের ঝড়ের আশঙ্কা বেড়ে গিয়েছে। ইউরোপ জুড়ে বয়ে যাওয়া রেকর্ড-ভাঙা তাপপ্রবাহের জেরে নেদারল্যান্ডস সম্প্রতি প্রথম বারের মতো ‘কোড রেড’ তাপ সতর্কতার সম্মুখীন হয়েছিল। আমস্টারডামে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে ছিল এবং কিছু জায়গায় তা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছেছিল।

তীব্র গরমের এই সময়টির পর যখন অপেক্ষাকৃত শীতল বাতাস প্রবেশ করে, তখন তা অস্থিতিশীল গরম ও আর্দ্র বাতাসের সংস্পর্শে এসে তীব্র বজ্রঝড়ের সৃষ্টি করে। এই ঝড় কেবল আকাশ জুড়ে সুন্দর অথচ ভীতিকর দৃশ্যই তৈরি করেনি, আরও অনেক কিছু ঘটিয়েছে। বজ্রপাতের ফলে উত্তরের গ্রোনিঞ্জেন থেকে শুরু করে ইউট্রেখট ও আমস্টারডাম পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ল্যান্ডসমিরে একটি বাড়িতে আগুন লেগে একজন আহত হন এবং টর্নওয়ার্ডে একটি গোয়ালঘরে আগুন লেগে দু’টি বাছুরের মৃত্যু হয়। এরই মধ্যে বেশ কিছু জায়গায় পর্যন্ত গলফ বলের আকারের শিলাবৃষ্টি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এই ঝড়ের তাণ্ডব ছিল এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা। অনেকেই অবিরাম বজ্রপাতকে আলোর ঝলকানির সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে পুরো আকাশকে আলোকিত করে রেখেছিল। আবার অনেকে এই আবহাওয়া পরিস্থিতিকে দ্রুত পরিবর্তনশীল জলবায়ুর একটি লক্ষণ হিসাবে দেখেছেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement