ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।
মাঠের আল বেয়ে হেঁটে চলেছে এক বালিকা। তার কোলে একটি ভাম। আর চুপচাপ বালিকাকে অনুসরণ করছে ছোট্ট একটি সজারু। বালিকা যে দিকে যাচ্ছে, সে দিকে যাচ্ছে সজারুটিও। বালিকা এবং ছোট্ট সজারুর বন্ধুত্বপূর্ণ এবং কৌতুকপূর্ণ মুহূর্তের সেই হৃদয়স্পর্শী ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। অনেকেই এই দৃশ্যটিকে ডিজ়নির সিনেমার দৃশ্য বলে অভিহিত করেছেন। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
অনলাইনে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিয়োয় শৈশবের সারল্য এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। হাজার হাজার নেটাগরিক শিশুটিকে ভালবেসে ‘বাস্তব জীবনের ডিজ়নি রাজকুমারী’ তকমা দিয়েছেন। ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, গোলাপি রঙের ফ্রক পরা একটি বালিকা সবুজ ধানক্ষেতের মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া সরু মাটির আল ধরে হাঁটছে। তার কোলে একটি ভাম। তার ঠিক পিছনেই একটি ছোট্ট সজারু সানন্দে হেঁটে চলেছে। চুপচাপ অনুসরণ করছে বালিকাকে। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। জলমগ্ন ধানক্ষেত ও দোদুল্যমান তালগাছের পটভূমিতে এই মনোরম দৃশ্যটি দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। গ্রামের শান্ত পরিবেশ এবং শিশু ও বন্য প্রাণীর মধ্যেকার এই অভাবনীয় বন্ধুত্ব নজর কেড়েছে নেটাগরিকদের।
ভাইরাল ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে প্রভাত সিলভা নামের এক ব্যবহারকারীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। এক নেটাগরিক ভিডিয়োটি দেখার পর লিখেছেন, ‘‘বিশুদ্ধ শৈশব। বালিকাকে দেখে ডিজ়নি সিনেমার রাজকুমারীদের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।’’ অন্য এক জন আবার লিখেছেন, ‘‘চমৎকার একটি ভিডিয়ো। শিশুটি প্রকৃতির সঙ্গে এমন ভাবে মিশে গিয়েছে যা সচরাচর দেখা যায় না।’’
কিছু দর্শক সজারুর অস্বাভাবিক শান্ত আচরণের বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন। আবার কেউ কেউ গ্রামীণ পরিবেশে বন্য প্রাণীর সংস্পর্শে আসার সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কও করেছেন। তবে ভিডিয়োটি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ভিডিয়োটির কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে প্রভাত সিলভাকে এবং এটি প্রথমে শ্রীলঙ্কার একটি সংবাদ বিষয়ক অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা হয়েছিল। সেখানে দাবি করা হয় যে, ভিডিয়োর শিশুটি শ্রীলঙ্কার বাসিন্দা। যদিও বাংলাদেশের বেশ কয়েক জন সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, বালিকা আদতে শ্রীলঙ্কার নাগরিক নয়। ওই নেটাগরিকদের দাবি, ভিডিয়োয় মেয়েটিকে বাংলা বলতে দেখা গিয়েছে। ফলে নিশ্চিত ভাবেই ভিডিয়োটি বাংলাদেশের।