Bengaluru Airport

বিমানবন্দরে পচা মালা, টম্যাটো, অশ্লীল ছবি ভরা পার্সেল! আচার পালনের দাবি ভারতীয় ব‌ংশোদ্ভূত ডাচ ‘ধর্মগুরু’র

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ডাচ নাগরিক এবং ওভারসিজ় সিটিজ়েনশিপ ইন ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডধারী ৬৫ বছর বয়সি সুভাষ জয় আজ়িজ়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রশাসনিক কার্যালয়ে তিনি পার্সেল পাঠিয়েছিলেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ১২:২৬
Share:

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

বিমানবন্দরে এসে পৌঁছোল একটি পার্সেল। খুলতেই চক্ষু ছানাবড়া নিরাপত্তাকর্মী ও বিমানবন্দরের আধিকারিকদের। পচা টম্যাটো, নষ্ট হয়ে যাওয়া ফুলের মালা, লোহার টুকরো এবং অশ্লীল ছবিভর্তি সেই পার্সেলটি নিয়ে ধন্দে পড়ে যান কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রেরকের সন্ধানে তদন্ত শুরু হয়। কয়েক মাস পর পুলিশ প্রেরককে একটি মন্দিরের কাছে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

Advertisement

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ডাচ নাগরিক এবং ওভারসিজ় সিটিজ়েনশিপ ইন ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডধারী ৬৫ বছর বয়সি সুভাষ জয় আজ়িজ়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রশাসনিক কার্যালয়ে তিনি পার্সেল পাঠিয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষ তার ভিতর থেকে টুথপেস্টের একটি মোড়ক, শুকিয়ে যাওয়া ফুলের মালা, পচা টম্যাটো, নানা ধরনের লোহার টুকরো এবং অশ্লীল ছবি উদ্ধার করে। পার্সেলটি পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ভাবে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কারণ প্রাথমিক ভাবে এটিকে একটি অস্বাভাবিক ঘটনা হিসাবেই দেখেছিলেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ৪ মার্চ আনুষ্ঠানিক ভাবে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পার্সেলটি পাওয়ার প্রায় দু’মাস পর পদক্ষেপ করা হয়। সিসিটিভি নজরদারি ও স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের সাহায্যে পুলিশ মাদিওয়ালা এলাকায় আজ়িজ়ের সন্ধান পায়। যেখানে একটি মন্দিরের কাছে তাঁকে ঘুমন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

আজ়িজ় তদন্তকারীদের জানিয়েছেন যে, বিমানবন্দরে কোনও ক্ষতির উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। তাঁর দাবি, বিমানবন্দরে ‘অবাঞ্ছিত ঘটনা’ প্রতিরোধ করার জন্য একটি আচার পালন করেছিলেন তিনি। বিমানবন্দরে পার্সেলে থাকা বস্তুগুলি সেই আচারের অংশ ছিল। আজ়িজ় নিজেকে একজন স্বঘোষিত ধর্মগুরু হিসাবে দাবি করেছেন। তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন যে, এই ধরনের কাজের মাধ্যমে দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়ার মতো আধ্যাত্মিক ক্ষমতা তাঁর রয়েছে।

Advertisement

একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আজ়িজ় পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি অন্যান্য বিমানবন্দরেও একই ধরনের পার্সেল পাঠিয়েছিলেন। তবে সেগুলি কোন কোন বিমানবন্দর পাঠানো হয়েছিল সে বিষয়ে মুখ খোলেনি পুলিশ। মাসে ২,০০০ ইউরো বা দু’লক্ষ টাকার বেশি পেনশন পাওয়া এক জন অবসরপ্রাপ্ত কেন মন্দিরে ভবঘুরের জীবন যাপন করেন তা নিয়েও তদন্ত করছে পুলিশ। একই সঙ্গে আজ়িজ়ের মানসিক স্থিতি সম্পর্কেও সন্দিহান পুলিশ। পুলিশের এক আধিকারিক সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, ‘‘আজ়িজ়কে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত বলে মনে হয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement