সেপসিস হয়ে অঙ্গ বাদ গিয়েছে প্রৌঢ়ার। ছবি: সংগৃহীত।
পোষ্যের আদরও হতে পারে প্রাণঘাতী। বাড়ির পোষা কুকুরের চাটার ফলে সেপসিসে চারটি অঙ্গ হারালেন ব্রিটেনের এক মহিলা। হঠাৎ করেই সেপসিসে আক্রান্ত হন তিনি। হাত-পা অসাড় হয়ে গিয়ে চোখমুখ নীল হয়ে গিয়েছিল তাঁর। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন তাঁর ছোটখাটো ক্ষতস্থানে কোনও সময় পোষ্য চেটে দেওয়াতেই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ৮ মাস হাসপাতালে থাকার পর তাঁর দুটি হাত ও পা কেটে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ৫২ বছরের সেই মহিলা।
সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছরের জুলাই মাসের এক রবিবারে ব্রিটেনের বাসিন্দা ওই মহিলা পোষ্যের সঙ্গে খুনসুটি করছিলেন। পরদিন সোমবার তিনি অফিস যান। সেই দিন রাতেই তিনি কোমায় চলে যান। সোফায় বসে থাকতে থাকতে মনজিৎ সংঘাকে নামের ওই প্রৌঢ়াকে টলে পড়ে যেতে দেখেন তাঁর স্বামী কমলজিৎ। মনজিতের ঠোঁট নীল হয়ে যায় এবং তাঁর হাত ও পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায়। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতেই তাঁকে আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়। সেখানে তিনি ৬ বার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন। তাঁর সেপটিক শক ধরা পড়ে। তাঁকে জীবনদায়ী ব্যবস্থার সাহায্যে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি ডায়ালিসিসও চলছিল।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মনজিতের হাত ও পায়ে পচন ধরতে শুরু করায় দু’টি পা ও হাত কেটে ফেলতে বাধ্য হন চিকিৎসকেরা। প্লীহাও অপসারণ করতে হয়। হাসপাতাল থেকে বাড়ি আসার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মনজিৎ জানিয়েছেন, কয়েক মাসের মধ্যেই হাত-পা হারানোর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা কঠিন। তিনি সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে তার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে তা যে কারও সঙ্গেই ঘটতে পারে। যাঁদের বাড়িতে পোষ্য রয়েছে তাঁদের বিষয়টি হালকা ভাবে না দেখে গুরুত্ব দিয়ে দেখার অনুরোধ করেছেন ভুক্তভোগী প্রৌঢ়া।