ছবি: সংগৃহীত।
পণের দাবিতে অথবা ভোজ নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে পাত্রপক্ষ বিয়ে ভেঙে দিয়েছেন এমন খবর চোখে পড়ে। কিন্তু একটি পোষা কুকুরের জন্য বিয়ে ভেস্তে যাওয়ার ঘটনা প্রায় শোনা যায় না বললেই চলে। উত্তরপ্রদেশের ফতেহপুর জেলায় এমন একটি ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে যেখানে কুকুরের ডাকের ফলে বিবাদ চরমে ওঠে বরপক্ষ ও কনেপক্ষর মধ্যে। শেষমেশ বিয়ে বাতিল করে দেন পাত্রী। সেই ঘটনাটিই সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে পোস্টটি। যদিও এই পোস্টের সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে, বরপক্ষের সদস্যেরা কনের পোষা কুকুরটিকে মারধর করলে বিবাহের অনুষ্ঠান ‘যুদ্ধক্ষেত্রে’ পরিণত হয়। পোষ্য কুকুরকে মারধরের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বরপক্ষের আচরণের প্রতিবাদ করায় তা হাতাহাতিতে পর্যবসিত হয়। প্রথমে তর্কাতর্কি, তার পর লাঠি ও চেয়ার নিয়ে একে অপরের উপর চড়াও হয় দু’পক্ষ। বুধবার রাতে খাগা কোতোয়ালি এলাকার একটি অতিথিশালায় ঘটনাটি ঘটেছে। কনের পরিবার বাস এবং গাড়ি চড়ে প্রয়াগরাজ থেকে ফতেহপুরে পৌঁছোন। অন্য দিকে বরযাত্রীরাও চলে আসেন সেখানে। পাত্র সুমিত কেশরওয়ানি সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি ও কনে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। কিছু দিন আগে তাঁরা কানপুরের আর্য সমাজ মন্দিরে পালিয়ে বিয়ে করেন। পরে, দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনা করে এই সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিক ভাবে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়। ফতেহপুরে একটি জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের আয়োজন করা হয়। মালাবদল-সহ প্রাথমিক আচার-অনুষ্ঠানও শান্তিপূর্ণ ভাবে হয়েছিল।
মণ্ডপে বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন ভোর ৪টের দিকে এই বিবাদ শুরু হয়। কনের পোষা কুকুরটিকে অতিথিশালার কিছু দূরে বেঁধে রাখা হয়েছিল। হঠাৎ করে উচ্চৈস্বরে সেটি ডাকতে শুরু করে। কুকুরের ডাকে বিরক্ত হয়ে বরযাত্রীদের এক জন তাকে মারধর করে। কনের পরিবার এতে তীব্র আপত্তি জানায়। বিবাদ এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে, অনুষ্ঠানের চারপাশ থেকে চেয়ার এবং লাঠি ছুড়ে মারা হয়। সংঘর্ষের ফলে কনেপক্ষের তিন সদস্যের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। তাঁরা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকেন। বরপক্ষের কয়েক জন সদস্য সামান্য আহত হন। বিশৃঙ্খলা বাড়তে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ আসার আগেই অনেক অতিথি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে খাগা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। আহতদের চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষ থানায় একটি বৈঠকে বসে, যেখানে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে একটি মিটমাট পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এই সময়, কনে দৃঢ় ভাবে জানিয়ে দেন যে তিনি আর এই পরিবারে বিয়ে করতে চান না। কনের এই সিদ্ধান্তের পর, উভয় পক্ষ মীমাংসা করে নেয়। বিয়ের সময় প্রদত্ত উপহার এবং নগদ অর্থ একে অপরকে ফেরত দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি।