ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।
প্রতিবেশী গ্রামপ্রধানের বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা জারমাল সিংহ (৫০)। বাগানের টেবিলে বসে অন্য অতিথিদের সঙ্গে গল্পে মশগুল ছিলেন তিনি। হঠাৎ পিছন থেকে দুই তরুণ আসেন। জারমালকে লক্ষ্য করে গুলি চালান এক জন। টেবিলে লুটিয়ে পড়ে জারমালের দেহ। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমের পাতায় বিয়েবাড়ির সিসিটিভি ফুটেজের ভিডিয়ো (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম) পোস্ট করে দুঃখপ্রকাশ করেছেন শিরোমণি অকালি দলের সভাপতি সুখবীর সিংহ বাদল। এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করে আইনশৃঙ্খলার জন্য রাজ্য সরকারকে দায়ী করেছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, অমৃতসরের ভালতোহা গ্রামের প্রধান ছিলেন জারমাল। পার্শ্ববর্তী অমরকোট গ্রামের প্রধান হরজিৎ সিংহ সেরির বোনের বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে রবিবার ভের্কা বাইপাসের কাছে একটি রিসর্টে গিয়েছিলেন জারমাল। সেই রিসর্টের বাগানে বসে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অন্য অতিথিদের সঙ্গে গল্প করছিলেন তিনি। তিনি যে টেবিলে বসেছিলেন, হঠাৎ তার পিছনে গিয়ে দাঁড়ান দুই তরুণ। জারমালের মাথায় গুলি করে মুহূর্তের মধ্যে সেখান থেকে পালিয়ে যান দু’জনে। রক্তাক্ত অবস্থায় জারমালকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
খেমকরণ আসনের বিধায়ক সারওয়ান সিংহ ধুনও সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। জারমালের মৃত্যুতে দুঃখপ্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘‘আমি জারমালের সঙ্গে গল্প করছিলাম। একসঙ্গে চা-ও খেলাম। তার পর আমি খাওয়াদাওয়া করতে হলের ভিতর চলে যাই। জারমাল অন্য অতিথিদের সঙ্গে বাইরে বসেছিলেন।’’ বিধায়কের কথায়, ‘‘হঠাৎ আমি বাইরে থেকে গুলির শব্দ শুনতে পাই। গুলির আওয়াজ শুনতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ছুটে বাইরে বেরিয়ে আসি। দেখি জারমালের মাথায় গুলি লেগেছে। গুরুতর আহত হয়েছেন তিনি এবং তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’’
বিধায়কের দাবি, জারমালকে তোলাবাজির হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ভালতোহা থানায় অভিযোগও দায়ের করেছিলেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কয়েক জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছিলেন।
ডিসিপি জগজিৎ সিংহ ওয়ালিয়া এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। দুই তরুণ অতিথি সেজে অনুষ্ঠানগৃহে প্রবেশ করেছিলেন। গ্রামপ্রধানকে গুলি করে সেখান থেকে পালিয়ে যান তাঁরা। গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রযুক্তিগত নজরদারির সাহায্যে এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আক্রমণকারীদের শনাক্তকরণ এবং গ্রেফতারির চেষ্টা চলছে।