Bizarre

টাকা পেলে চুপ করে থাকবেন, মেনে নেবেন স্বামীর পরকীয়াও, অন্য তরুণীর কাছে স্বামীকে ‘ভাড়া খাটাতে’ রাজি স্ত্রী

তরুণীর দাবি, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে স্বামীর সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে এক অচেনা মহিলাকে আনাগোনা করতে লক্ষ করেছিলেন তিনি। তাঁর স্বামীর প্রতিটি পোস্ট থেকে শুরু করে স্টোরিতেও নিয়মিত প্রতিক্রিয়া দিতেন সেই অচেনা মহিলা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০২৬ ০৭:৫৬
Share:

—প্রতীকী ছবি।

কলেজ পাশ করার পরেই বিয়ে করে ফেলেছিলেন তরুণী। প্রায় দশ বছরের স‌ংসার। আট বছরের এক সন্তানও রয়েছে তাঁর। স্বামীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুবই ভাল। স্বামী-সন্তানের সংসার নিয়ে খুশিই ছিলেন তরুণী। কিন্তু কয়েক মাস আগে সেই সুখের সংসারেই ফাটল ধরে। সন্দেহ হওয়ায় গোয়েন্দা ভাড়া করে স্বামীর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানতে পারেন তরুণী। সংসার বাঁচাতে স্বামীর প্রেমিকার কাছে অদ্ভুত দাবি করে বসলেন তিনি। তাঁদের পরকীয়া সম্পর্ক তরুণী মেনে নিতে পারেন, যদি তাঁর স্বামী এবং স্বামীর প্রেমিকা তাঁর দেওয়া শর্তে রাজি হন।

Advertisement

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, তরুণীর নাম কুন কোয়াং। ২১ বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার পরেই বিয়ে করেছিলেন কুন। আট বছর বয়সি পুত্রও রয়েছে কুনের। স্বামী এবং এক পুত্রসন্তান নিয়ে সুখের সংসার ছিল তরুণীর। কুন জানান, স্বামীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক স্বচ্ছ ছিল। এমনকি, পরস্পরের কাছে তাঁদের সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ডও গোপন ছিল না।

তরুণীর দাবি, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে স্বামীর সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে এক অচেনা মহিলাকে আনাগোনা করতে লক্ষ করেছিলেন তিনি। তাঁর স্বামীর প্রতিটি পোস্ট থেকে শুরু করে স্টোরিতেও নিয়মিত প্রতিক্রিয়া দিতেন সেই অচেনা মহিলা। বিষয়টি নজরে এলেও তা নিয়ে আর কথা বাড়াননি কুন। কিন্তু ধীরে ধীরে স্বামীর ব্যবহারেও পরিবর্তন লক্ষ করতে শুরু করেন তিনি।

Advertisement

কাজের অজুহাত দিয়ে কখনও কখনও রাতে বাড়ি ফিরতেন না কুনের স্বামী। কখনও আবার গভীর রাতে বাড়ি ফিরতেন। এক দিন নাকি দীর্ঘ ক্ষণ মোবাইল বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। কিছু না জানিয়ে হঠাৎ মধ্যরাতে বাড়ি ফিরেছিলেন কুনের স্বামী। তরুণীর দাবি, বাড়ি ফিরে নাকি কুনের সঙ্গে ঝামেলা করতে শুরু করে দিয়েছিলেন তাঁর স্বামী। কুনকে তিনি বলেন, ‘‘আমি সারা দিন ধরে খাটছি। সংসারের পুরো দায়িত্ব আমার কাঁধে। বাড়ি, গাড়ির ঋণের বোঝা টানতে গিয়ে নিজের সর্বস্ব দিয়ে দিয়েছি। আর পারছি না। এক কাপড়ে এই সংসার ছেড়ে যেতে রাজি আমি।’’ এই ধরনের কথা কখনওই কুনকে বলেননি তিনি।

স্বামীর মুখে সংসার ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা শুনে আরও সন্দেহ হয় কুনের। স্বামীর নিত্য দিনের কার্যকলাপের প্রতি নজরদারি করতে এক গোয়েন্দা ভাড়া করেন তিনি। দিনপ্রতি ১০ হাজার ভাট (ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ২৮ হাজার ৪৩৯ টাকা) পারিশ্রমিক নিতেন সেই গোয়েন্দা।

গোয়েন্দার কাছ থেকে কুন জানতে পারেন যে, ব্যাংককের রামখামহায়েং এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে মাঝেমধ্যেই যান তাঁর স্বামী। গোয়েন্দার কথামতো সেই ঠিকানায় পৌঁছে যান কুন। কিন্তু স্বামীকে সেখানে খুঁজে পান না। পরে স্বামীকে ফোন করে সত্যি জানানোর জন্য হুমকি দিতে শুরু করেন তিনি। কুনের স্বামীও বাধ্য হয়ে সব সত্য স্বীকার করেন। তিনি জানান, কয়েক মাস ধরে তিনি এক মহিলার সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে রয়েছেন। প্রেমিক যে বিবাহিত এবং এক সন্তানের পিতা সে বিষয়ে অবগত ছিলেন কুনের স্বামীর প্রেমিকা। সব জেনেও পরকীয়া সম্পর্কে থাকতে রাজি হন সেই মহিলা।

কুনের স্বামীর দাবি, তিনি নাকি সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর প্রেমিকা আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে বার বার কুনের স্বামীকে আটকে দিয়েছেন। কোনও ভাবেই পরকীয়া সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পারছেন না তিনি। এমনটাই কুনকে জানান তাঁর স্বামী। ফোনের এই কথোপকথনের পর বাড়ি ফিরে যান কুনের স্বামী। কিন্তু স্বামীকে দেখে কুনও বুঝতে পারেন যে, পরকীয়া সম্পর্কে খুব গভীর ভাবে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি। কুন তখন তাঁর স্বামী এবং স্বামীর প্রেমিকার কাছে অদ্ভুত শর্ত রাখেন। কুন জানান, তিনি স্বামীর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক মেনে নিতে পারেন। কিন্তু তার জন্য স্বামী এবং তাঁর প্রেমিকাকে প্রতি মাসে টাকা দিতে হবে কুনকে।

কুনের দাবি, সেই মহিলার কাছে স্বামীকে ‘ভাড়া খাটাতে’ চান তিনি। যে হেতু কুন তাঁদের দু’জনকে একান্তে সময় কাটানোর জন্য অনুমতি দিচ্ছেন, সে কারণে প্রতি মাসের শেষে কুনকে তাঁর স্বামী এবং স্বামীর প্রেমিকা ১৫ হাজার ভাট করে মোট ৩০ হাজার ভাট (ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৮৫ হাজার ৩১৬ টাকা) পাঠাবেন। এই শর্ত শুনে এক বাক্যে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন সেই মহিলা। কিন্তু আপত্তি জানিয়েছিলেন কুনের স্বামী। পরে প্যাট আনুসর্ন আসুরাপং নামে এক আইন বিশেষজ্ঞ এই প্রসঙ্গে জানান যে, অর্থের বিনিময়ে পরকীয়া সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা আইনত অপরাধ। বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের কথা জেনেও এখনও বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেননি কুন এবং তাঁর স্বামী।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement