পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে তরুণী সাংবাদিক। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া।
বিহার বোর্ডের দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা চলছে। একটি পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে পড়ুয়াদের পরীক্ষার হালহকিকত জানতে পৌঁছে গিয়েছিলেন তরুণী সাংবাদিক। কিন্তু পড়ুয়াদের ধাক্কাধাক্কি এবং কটূক্তিতে জেরবার হয়ে মেজাজ হারালেন তিনি। অভিশাপও দিলেন পরীক্ষার্থীদের। ঘটনাটির একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, একটি পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন এক তরুণী সাংবাদিক। তাঁর হাতে মাইক। ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে কথা বলছেন তিনি। তাঁকে ঘিরে পড়ুয়াদের ভিড়। পরীক্ষার পর শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইছিলেন তিনি। এমন সময় বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। ভিড়ের একাংশ ক্রমাগত ধাক্কা মারতে থাকে তরুণীকে। মাঝেমধ্যে ভেসে আসতে থাকে কটূক্তিও। তরুণী তেড়ে যেতেই ভিড় ফাঁকা হয়ে যায়। কিন্তু ক্যামেরার দিকে ঘুরতেই আবার যে কে সেই! এর পরেই মেজাজ হারান সাংবাদিক। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। গালিগালাজও চলে উভয় পক্ষের তরফে। এর পর ওই সাংবাদিককে রেগে গিয়ে চিৎকার করতে শোনা যায়। তরুণী বলেন, ‘‘এটাই কি তোমাদের আচরণ? এই কারণেই বিহারের সম্মান নষ্ট হয়। তোমাদের মতো মানুষের কারণে।’’ ক্যামেরার দিকে ফিরে তিনি আরও বলেন, ‘‘এরা সব দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া। এরা বিহারের ভবিষ্যৎ? আপনারাই দেখুন কী ভাবে এরা আমাকে ধাক্কা দিচ্ছে। পরীক্ষা কেমন হচ্ছে জানতে এসেছিলাম। কিন্তু এরা তো বিভিন্ন ভাবে আমাকে স্পর্শ করার চেষ্টা করছে। এরা কি বিহারের ভবিষ্যৎ হবে?’’ যদিও পড়ুয়াদের মধ্যে তাঁর মন্তব্যের কোনও প্রভাব পড়েনি। তাঁরা নিজেদের মতোই হাসিঠাট্টায় মেতে থাকে। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
ভাইরাল ভিডিয়োটি শেয়ার করা হয়েছে ‘ঘর কা কলেশ’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটাগরিকেরা। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমন আবার বিরক্তি প্রকাশ করেছেন অনেকে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশও করেছেন নেটাগরিকদের একাংশ। কেউ কেউ আবার ওই পড়ুয়াদের আচরণ, শিক্ষা এবং রুচি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘জঘন্য ঘটনা। পড়াশোনার থেকে বেশি আগে ওই পড়ুয়াদের ভদ্রতা, সভ্যতা এবং সঠিক আচরণের পাঠ পড়ানো উচিত।’’ অন্য এক জন লিখেছেন, ‘‘এ কী ধরনের মানসিকতা? কোথা থেকে এই সব শিখেছে? তরুণী সাংবাদিক ওদের শাপশাপান্ত করে ভালই করেছেন।’’ তৃতীয় জন আবার লিখেছেন, ‘‘এরা মানুষ না আবর্জনা!’’