ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।
শনিবার আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস এবং বোস্টনের আকাশে দেখা গেল এক বিরল দৃশ্য। ভয়ঙ্কর আওয়াজে কেঁপে উঠল গোটা এলাকা। বিকট সেই শব্দ মানুষের মনে সৃষ্টি করেছিল বোমাতঙ্ক। তবে পরক্ষণেই সেই ভয় কেটে যায়। বোম ফাটার শব্দের মতো শুনতে লাগলেও আদতে তা ছিল উল্কাপাতের শব্দ। বহু মানুষ সেই বিরল দৃশ্যের সাক্ষী থেকেছেন। উল্কাপাতের সেই ঘটনা ক্যামেরাবন্দিও করা হয়েছে। সেই ঘটনার নানা ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমের পাতায়। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
মার্কিন মহাকাশ সংস্থার ডেপুটি নিউজ় চিফ জেনিফার ডুরেন এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, উল্কাটি ঘণ্টায় ৭৫ হাজার মাইল বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। আনুমানিক ৪০ মাইল উচ্চতায় এটির বিস্ফোরণ ঘটে। ডুরেনের মতে, বর্তমানে মহাকাশে সক্রিয় থাকা কোনও উল্কার সঙ্গে এটির কোনও সম্পর্ক ছিল না। মহাকাশে স্বতন্ত্র ভাবে সৃষ্টি হয়েছে এই উল্কাপিণ্ডটির। কোনও কৃত্রিম উপগ্রহের ভাঙা অংশেরও এর সঙ্গে সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন ডুরেন। বিস্ফোরণের সময়ে এর থেকে যে শক্তি নির্গত হয়েছে তা প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন টিএনটি বিস্ফোরণের সমান।
আমেরিকান মেটিওর সোসাইটির মতে, স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটে নাগাদ আকাশে এই উল্কাটির ঝলক দেখা যায়। এটি আকৃতিতে প্রায় ৩ মিটার চওড়া ছিল। এই ধরনের উল্কা সাধারণত মাটিতে আছড়ে পড়ার অনেক আগেই ভেঙে যায়। তেমনটাই মনে করছেন আমেরিকার অগ্নিকাণ্ড সর্ম্পকিত ঘটনার পর্যবেক্ষক রবার্ট ল্যান্সফোর্ড। তবে সে ব্যাপারে তাঁরা এখনই নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন রবার্ট।
‘ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ দ্বারা পরিচালিত গোস-আর সিরিজ়ের গোস-১৯ স্যাটেলাইটেও এই উল্কাপাতের চিত্র ধরা পড়েছে। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এবং নাসা তাদের এক্স হ্যান্ডলে সে বিষয়ে পোস্ট করেছে। ‘ফ্যাটুকস নেটওয়ার্ক’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করা হয়েছে সেই স্যাটেলাইট চিত্র। ‘এজ়ে ইন্টেল’ নামের এক্স হ্যান্ডল সেটি রিপোস্ট করেছে।
‘টড প্যারন’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করা ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, রাস্তা দিয়ে ছুটে চলেছে গাড়ি। দিনের আলোয় রাঙা উজ্জ্বল আকাশ। হঠাৎই সেই আকাশের গা বেয়ে পড়তে দেখা গেল এক জ্বলন্ত অগ্নিগোলককে। সেখান থেকে বেরোনো আলোর ঝলকানিতে আকাশের উজ্জ্বলতা যেন কিছু সেকেন্ডের জন্য আরও বেড়ে গেল। ভিডিয়োটি দেখে চমকেছে নেটপাড়া।