ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে। সন্তানের দায়িত্ব পেয়েছেন মা। কিন্তু বিদায় জানানোর সময় বাবাকে কিছুতেই ছাড়তে চাইল না খুদে। জোর করে আঁকড়ে থাকল জন্মদাতাকে। কান্নায় ভাসল। আর সন্তানকে বিদায় জানাতে গিয়ে ভারাক্রান্ত হল বাবার মনও। তেমনই একটি মনখারাপ করা ঘটনার ভিডিয়ো সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। দাবি, ঘটনাটি মধ্যপ্রদেশের গ্বালিয়রের ভিরতওয়ারের। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুর মায়ের নাম সোমপ্রীত কউর। কয়েক দিন আগে আট দিনের জন্য শ্বশুরবাড়ি থেকে নিখোঁজ হন তিনি। পরে পুলিশ পঞ্জাবের একটি গুরুদ্বার থেকে তাঁকে খুঁজে পায়। সেই সময় ওই শিশু তার বাবার সঙ্গেই ছিল। ফিরে আসার পর শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তোলেন সোমপ্রীত। বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন তিনি। এর পর উভয় পরিবারের মধ্যে আলোচনা এবং পুলিশের মধ্যস্থতার পর আলাদা হওয়ার বিষয়ে সম্মত হন সোমপ্রীতের স্বামীও। শিশুটির দায়িত্ব পান সোমপ্রীতই। ছাড়াছা়ড়ি হয় বাবা এবং সন্তানের। সেই সংক্রান্ত একটি ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, থানার অন্দরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন এক যুবক এবং এক তরুণী। আরও অনেকে রয়েছেন সেখানে। ওই যুবক এবং তরুণী সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। সন্তান রয়েছে স্বামীর কোলে। এ বার একটি কাগজ তিনি স্ত্রীর হাতে তুলে দেন। হাতে কাগজ পেয়ে আনন্দিত হয়ে যান তরুণী। এর পর সন্তানকে নেওয়ার জন্য হাত বাড়ান। কিন্তু খুদে সন্তান বাবাকে ছাড়তে রাজি হয়নি। আরও জাপটে ধরে বাবাকে। এর পর তাকে একপ্রকার টেনে কোলে তুলে নেন তার মা। কিন্তু খুদে ছটফট করে কাঁদতে শুরু করে। এর পর সন্তানকে নিয়ে থানা থেকে বেরিয়ে যান তরুণী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত আরও অনেকে বেরিয়ে যান। কাঁদো কাঁদো মুখে সে দিকে তাকিয়ে থাকেন যুবক।
ভাইরাল ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘ইন্ডিয়াঅনফিড.ইন’ নামের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। হৃদয়বিদারক ভিডিয়োটি দেখে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটাগরিকেরা। নেটাগরিকদের অনেকে আবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। ভিডিয়োটি দেখার পর এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘এ রকম দিন যেন কাউকে না দেখতে হয়। যখন সব কিছু উভয় পক্ষের সম্মতিতে হয়েছে তখন সন্তানের দায়িত্ব মা কেন পেল? পালা করে রাখতে পারত।’’ অন্য এক জন আবার লিখেছেন, ‘‘বিচ্ছেদ একটি অভিশাপ। কোনও পরিবার যেন আলাদা না হয়।”