মাকে বিদায় জানানোর সময় কান্না কন্যার। ছবি: ইনস্টাগ্রাম।
বাবা একসঙ্গে থাকেন না। উচ্চশিক্ষার জন্য মা-ও চলে যাচ্ছেন বিদেশে। বিমানবন্দরে বিদায় জানাতে এসে কান্নায় ভাসল একরত্তি। মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য ছটফট করতে লাগল সে। সন্তানের অবস্থা দেখে মনখারাপ হলেও নিরুপায় হয়েই বিদেশের পথে পা বাড়াতে হল তরুণীকে। মনখারাপ করা তেমনই একটি ঘটনার ভিডিয়ো সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ বছর বয়সি ওই তরুণীর নাম মনসা বানোথ। হায়দরাবাদের বাসিন্দা তিনি। কয়েক বছর আগে বিয়ে হলেও বর্তমানে স্বামীর সঙ্গে থাকেন না তরুণী। গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ তুলে স্বামীর ঘর ছেড়েছিলেন মনসা। ২০২২ সালের মার্চ মাসে কন্যাসন্তানের জন্মের পর তাঁর স্বামী সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তার পর থেকে মনসা একাই সন্তানকে লালন-পালন করছিলেন। হায়দরাবাদে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে আসার পর থেকে তাঁদের সঙ্গেই থাকতেন মনসা। কাজ খুঁজতেন।
অবশেষে মানবসম্পদ কর্মী হিসাবে চাকরি পান মনসা। বেতন পেতেন ৩৫ হাজার টাকা। কিন্তু সেই টাকা কন্যার ভরণপোষণের জন্য যথেষ্ট না হওয়ায় চাকরি ছেড়ে উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্ত নেন তরুণী। কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। বর্তমানে মনসার পড়ার খরচ তাঁর বাবা চালাচ্ছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি কানাডায় হাতখরচের জন্য ছোটখাটো চাকরিও করেন তিনি।
সম্প্রতি ছুটি পেয়ে ভারতে এসেছিলেন মনসা। কিন্তু যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে তাঁর কন্যা কান্নাকাটি শুরু করে। মাকে যেতে দিতে রাজি ছিল না সে। হাপুস নয়নে কাঁদতে থাকে। কিন্তু নিরুপায় হয়ে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে মেয়েকে বিদায় জানাতে বাধ্য হন মনসা সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘কিচেনটেলস’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসার পরেই নেটাগরিকদের অনেকে দুঃখপ্রকাশ করেন। সমালোচনার মুখে পড়েন মনসা। ছোট্ট কন্যাকে রেখে একা বিদেশ যাওয়ার জন্য তাঁর নিন্দায় সরব হন নেটাগরিকদের একাংশ। তার পরেই মুখ খোলেন মনসা। তরুণী জানিয়েছেন, আদালতে তাঁর এবং স্বামীর মামলা চলছে। তাই আইনি বাধার কারণে মেয়ে বিদেশ ভ্রমণ করতে পারে না। সন্তানের পাসপোর্টের জন্য তাঁর স্বামীর সম্মতি প্রয়োজন এবং বিষয়টি এখনও আদালতে রয়েছে। সংবাদমাধ্যমে মনসা বলেছেন, ‘‘আমার মেয়ের বয়স তিন বছর। যোগাযোগ করলেও আমার প্রাক্তন স্বামী কোনও জবাব দেন না এবং আমি একাই এই লড়াই চালাচ্ছি।’’