Viral Video

১৩০ বছর ধরে দাসত্বের শিকলে বাঁধা! পাকিস্তানের পরিবারকে মুক্ত করলেন বিদেশি, ভাইরাল ভিডিয়োয় চোখে জল নেটপাড়ার

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের কসুর এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। জানা গিয়েছে, কসুর এলাকার একটি পরিবার চার প্রজন্ম ধরে ইটভাটায় বন্ধনশ্রমে আটকা পড়েছিল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ ১৩:১৩
Share:

ছবি: ইনস্টাগ্রাম।

বিশ্ব যতই উন্নতির পথে এগিয়ে যাক না কেন, যাঁদের টাকাপয়সা এবং ক্ষমতার অভাব রয়েছে, তাঁদের জন্য ‘স্বাধীনতা’ একটি দুর্লভ ধারণা। এর পর তাঁরা যদি হন পাকিস্তানের মতো কোনও দেশের মানুষ, যেখানে আইনের শাসন কেবল গরিবদের জন্যই প্রযোজ্য এবং আজও বহু পরিবার বন্ধনশ্রমের মতো শোষণমূলক ব্যবস্থার কবলে আটকা পড়ে রয়েছে। দাসত্বের শিকলে ১৩০ বছরে বাঁধা পড়া এমনই একটি পরিবারকে এ বার মুক্ত করলেন বিদেশি এক পর্যটক। ওই বিদেশি যুবক পাকিস্তানের একটি পরিবারের ঋণ পরিশোধ করে তাদের ১৩০ বছরের বন্ধনশ্রম থেকে মুক্ত করেছেন। সেই ঘটনা সংক্রান্ত একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।

Advertisement

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের কসুর এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। জানা গিয়েছে, কসুর এলাকার একটি পরিবার চার প্রজন্ম ধরে ইটভাটায় বন্ধনশ্রমে আটকে পড়েছিল। তাঁরা তাঁদের পূর্বপুরুষদের নেওয়া ‘পেশকি’(ঋণ) পরিশোধ করতে না পাড়ার কারণে বছরের পর বছর ধরে বিনা বেতনে কাজ করছিলেন পরিবারের সদস্যেরা। সেই পরিবারের পরিত্রাতা হিসাবে আসেন অ্যারন হাচিংস নামের এক বিদেশি। দাসত্ব প্রথার চরম বিরোধী অ্যারন পরিবারটির খবর পেয়ে তাদের মুক্ত করার জন্য পাকিস্তানের কাসুরে পৌঁছোন। ঋণ পরিশোধ করে দাসত্ব থেকে মুক্ত করেন পরিবারটিকে। একটি ভিডিয়োয় ওই পরিবারকে অ্যারনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে। তাঁকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতেও দেখা যায় পরিবারের বৃদ্ধা এক সদস্যাকে। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।

অ্যারন একটি অসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। সংস্থাটি বন্ধনশ্রম বা দাসত্বের বেড়াজালে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের কাজ করে। সংস্থাটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এই প্রচারাভিযানটি বিশ্ব জুড়ে জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রচার করে। এই প্রচারাভিযানটি বর্তমানে আমেরিকা, মায়ানমার, নাইজ়েরিয়া, পাকিস্তান, ইরান এবং মিশরে সক্রিয় রয়েছে।

Advertisement

অ্যারনের ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘অ্যারনহাচিংস৭৭’ নামের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটাগরিকেরা। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই আবার বিদেশি পর্যটকের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন অনেকে। দাসত্ব এবং বন্ধনশ্রম চালু থাকা নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশও করেছেন নেটাগরিকদের একাংশ। এক নেটাগরিক ভিডিয়োটি দেখার পর লিখেছেন, ‘‘ভিডিয়োটি দেখে চোখে জল এসে গেল। পাকিস্তানে দাসত্বের মতো প্রথাকে কেন অনুমতি দেওয়া হয়?’’ অন্য এক জন আবার লিখেছেন, ‘‘একটি পরিবারকে রক্ষা করার জন্য বিদেশি পর্যটককে অনেক ধন্যবাদ। সৃষ্টিকর্তা ওঁর ভাল করুক।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement