Viral Video

মানসিক স্বাস্থ্য শুধরোতে মাসে লক্ষ টাকা বেতনের চাকরি ছাড়েন আইনজীবী, অন্য পথে এখন দু’লক্ষ আয় তরুণীর!

ইনস্টাগ্রামে মেহর বর্মা নামের ওই তরুণী জানিয়েছেন, একটি আইন সংস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি করছিলেন তিনি। ওই সংস্থায় আয়কর সংক্রান্ত আইনি বিষয়গুলি দেখাশোনা করতেন তিনি। আয় ছিল মাসে এক লক্ষ টাকা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৩৯
Share:

তরুণী ওই বিষয়স্রষ্টা। ছবি: ইনস্টাগ্রাম।

ছিলেন আইনজীবী। আয়কর সংক্রান্ত আইনি বিষয় নিয়ে কাজ করতেন। আয় করতেন মাসিক এক লক্ষ টাকা। কিন্তু মানসিক অবসাদের কারণে স্থিতিশীল সেই পেশা ছেড়ে দেন কোনও বিকল্প আয়ের কথা চিন্তা না করেই। এখন স্বাধীন ভাবে (ফ্রিল্যান্স) কেরিয়ার গড়ে মাসে প্রায় ২ লক্ষ টাকা আয় করছেন তরুণী। কী ভাবে তা সম্ভব করলেন তিনি? সে কথা সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন ওই তরুণীই। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম

Advertisement

ইনস্টাগ্রামে মেহর বর্মা নামের ওই তরুণী জানিয়েছেন, একটি আইন সংস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি করছিলেন তিনি। ওই সংস্থায় আয়কর সংক্রান্ত আইনি বিষয়গুলি দেখাশোনা করতেন তিনি। আয় ছিল মাসে ১ লক্ষ টাকা। মেহর জানিয়েছেন, আপাতদৃষ্টিতে তাঁর জীবন সুখের মনে হলেও খুবই অসুখী ছিলেন তিনি। ভিডিয়োয় তিনি বলেছেন, ‘‘দীর্ঘ সময় কাজ, নিয়মিত ভাবে সাপ্তাহিক ছুটি না থাকা এবং রাত ৯-১০টায় বাড়ি ফিরেও কাজ করা— অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। আমি সারা দিন ক্লান্ত থাকতাম। মানসিক চাপ থাকত। সত্যি বলতে বেশির ভাগ দিনই আমার কাছে আতঙ্কের ছিল।” চাকরিটি তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছিল বলেও দাবি মেহরের।

ভিডিয়োয় মেহরের দাবি, এক পর্যায়ে তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি আইনজীবী হতে চান না। তাই চাকরি ছেড়ে দেন। পোক্ত কোনও পরিকল্পনা বা আয়ের বিকল্প কোনও ব্যবস্থা না করে দুম করেই চাকরি ছেড়ে দেন মেহর। পড়াশোনা এবং চাকরি করার সময় থেকেই মেহর টুকটাক লেখালেখি করতেন। তাই ঠিক করেন সৃজনশীল কাজ করবেন। এর পরেই সমাজমাধ্যমে নিজের ‘কন্টেন্ট’ পেজ তৈরি করে ছোট ছোট সৃজনশীল প্রকল্প নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন।

Advertisement

মেহরের কথায়, ‘‘আমি বুঝতে পারি যে আমি লেখালেখি, গল্প বলা এবং কন্টেন্ট তৈরি করা উপভোগ করি। ফলে আমি চাকরি ছেড়ে কন্টেন্ট তৈরির কাজে এক বছর পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তখনও আমার বয়স কম ছিল। আর্থিক দায়িত্ব ছিল না। তাই সামলে নিয়েছিলাম। আমার বাবা-মা তখন এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেননি। পরে বুঝতে পারেন।”

প্রথমেই সাফল্য পাননি মেহর। তবে হাল ছাড়েননি। দীর্ঘ পরিশ্রম এবং অধ্যাবসায়ের পর বর্তমানে কন্টেন্ট বানিয়ে, লেখালেখি করে এবং ছোট ছোট ভিডিয়ো পরিচালনা করে মাসে প্রায় দু’লক্ষ আয় তাঁর। নতুন করে পথ চলা শুরু করেছেন তিনি। মানসিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি হয়েছে বলে দাবি প্রাক্তন আইনজীবী তথা অধুনা বিষয়স্রষ্টার।

Advertisement

তবে মেহর জানিয়েছেন, তাঁর মতো পরিকল্পনা ছাড়া যেন কেউ চাকরি না ছাড়েন। তাঁর কথায়, ‘‘আপনাকে আমার পথ অনুসরণ করতে হবে না। আপনাকে চাকরি ছাড়তেও হবে না। কিন্তু ‘কঠোর পরিশ্রম’ বা ‘সাফল্য’ আপনার কাছে কেমন হওয়া উচিত, তা কাউকে ঠিক করে দিতে দেবেন না।”

মেহরের সেই পোস্ট ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকেই বিষয়স্রষ্টার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। তাঁকে ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়ার জন্য শুভকামনাও জানিয়েছেন অনেকে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement