জাহাঙ্গির খানের গ্রেফতারির পর তাঁর অফিস তথা তৃণমূল কার্যালয়ের দরজা ভাঙা হল লাথি মেরে! —নিজস্ব চিত্র।
যে তৃণমূল কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে উত্তরপ্রদেশের আইপিএস, এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট অজয়পাল শর্মার উদ্দেশে স্লোগান দিয়েছিলেন জাহাঙ্গির খান, পুনর্নির্বাচনের দিন কয়েক আগে যে কার্যালয় খুলে তৃণমূল প্রার্থী ‘পুষ্পা’ বলেছিলেন, ‘ঝুঁকেগা নহি’, সোমবার সুদূর নেপাল সীমান্তে তাঁর গ্রেফতারির খবর ফলতায় পৌঁছোতেই সেই কার্যালয়ের শাটার ভেঙে ঢুকে পড়লেন স্থানীয়েরা। কার্যালয়ের ভিতর থেকে উদ্ধার হল প্রচুর মদের বোতল এবং বিভিন্ন কাগজপত্র। তা ছাড়া আসবাবপত্র ঘেঁটে দেখতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা।
গত ২৯ এপ্রিল শেষ দফার নির্বাচনে ফলতা বিধানসভায় ভোটগ্রহণ হয়। সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ড হারবার এলাকার মধ্যে পড়া ফলতা তার আগে থেকেই জাহাঙ্গিরের সৌজন্যে বারবার শিরোনামে। ভোটের দিনেও জাহাঙ্গির এবং তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে ভোটদানে বাধা, ইভিএমে টেপ দিয়ে দেওয়া, সুগন্ধি লাগিয়ে দেওয়ার মতো অভিযোগ ওঠে। ভোটের ফলে রাজ্য জুড়ে তৃণমূলের শোচনীয় ফলাফলের পর জাহাঙ্গিরকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছিল না। তবে ভোটের ফলের পর ফলতা তৃণমূল কার্যালয় খুলে বসে তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমি লড়ব।’’ কিন্তু ১৯ মে পুনর্নির্বাচনের দু’দিন আগে ভোটযুদ্ধ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন জাহাঙ্গির। সে কথা অবশ্য বাড়ি বসে ঘোষণা করেছিলেন।
গ্রেফতারি এড়াতে কলকাতা হাই কোর্টে গিয়েছিলেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী। কিন্তু ভোটের ফলের পর রক্ষাকবচ সরিয়ে নেয় আদালত। তার পর থেকে লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন নানা অভিযোগে অভিযুক্ত অভিষেক-ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গির। সোমবার নেপাল সীমান্তে গ্রেফতার হয়েছেন জাহাঙ্গির। মনে করা হচ্ছে, নেপাল পালানোর চেষ্টায় ছিলেন তৃণমূল নেতা। দুপুরে পানিট্যাঙ্কির ইন্দো-নেপাল সীমান্ত দিয়ে নিয়ে গিয়ে প্রথমে শিলিগুড়ি আদালত, তার পর ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতা নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ফলতার তৃণমূল কার্যালয় যেটি জাহাঙ্গিরের অফিস বলেই স্থানীয়দের মধ্যে পরিচিত, সেখানে ভাঙচুর চলে। হাতুড়ি দিয়ে কার্যালয়ের তালা ভাঙেন কয়েক জন। শাটার টেনে ভিতরে ঢুকে একের পর এক দরজা লাথি মেরে ভাঙেন স্থানীয় যুবকেরা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতেই একের পর এক ঘরে ঢুকে তল্লাশি শুরু করেন কয়েক জন যুবক। তাঁদের পিছন থেকে কেউ সাবধান করে যান, ‘‘কিছু ভাঙবি না। শুধু কী আছে দেখ।’’
একের পর এক ঘর খুলে নানাবিধ জিনিস টেনে টেনে বার করেন বিক্ষোভকারীরা। প্লাস্টিকের চেয়ার-টেবিল তুলে রাস্তায় ফেলা হয়েছে। সেই সঙ্গে জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন যুবক-যুবতী, পুরুষ-মহিলারা।