হিঙ্গলগঞ্জে অমিত শাহ। — নিজস্ব চিত্র।
ভরদুপুরে উলু আর শঙ্খধ্বনিতে সরগরম হল হিঙ্গলগঞ্জের লেবুখালি পেট্রল পাম্প সংলগ্ন মাঠে বিজেপির জনসভা। নির্ধারিত সময়ের প্রায় দু’ঘণ্টা পরে দুপুর ২টো নাগাদ সবে তখন মঞ্চে উঠেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার হিঙ্গলগঞ্জ ও কোন্নগরে জোড়া সভা এবং ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে র্যালি করেন শাহ। হিঙ্গলগঞ্জে প্রথম সভা ছিল বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্রের সমর্থনে। মঞ্চে রেখা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সন্দেশখালির বিজেপি প্রার্থী সনৎ সর্দার এবং বসিরহাট দক্ষিণের প্রার্থী শৌর্য বন্দ্যোপাধ্যায়।
তীব্র গরমকে উপেক্ষা করে সভাস্থলে বহু মানুষের উপস্থিতি শাহকে কার্যত স্বস্তি দেয়। তাঁকে মঞ্চে উঠতে দেখে শঙ্খ বাজিয়ে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে থাকেন কর্মী-সমর্থকেরা। এবার রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসছে দাবি করে শাহ বলেন, “দিদির শাসনে উন্নয়নের নামে দুর্নীতি হয়েছে, প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। রেখা পাত্রকে জিতিয়ে আনলে হাসনাবাদ থেকে সামসেরনগর পর্যন্ত রেললাইনের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। কাগজ আমার হাতে এসেছে, কিন্তু শুধু কাগজ দেখে খুশি থাকবেন না। আগে ওঁকে জেতান।” বেকার যুবকদের আর্থিক সহায়তা-সহ একগুচ্ছ প্রকল্পেরও আশ্বাস দেন তিনি।
সুন্দরবন এলাকার মানুষের দুর্ভোগ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘২৯ এপ্রিল গুন্ডারা বাইরে বের হবেন না, না হলে ৫ তারিখে ফল ভোগ করতে হবে! রাজ্যে গুন্ডা ও সিন্ডিকেট রাজ চলছে। ঘূর্ণিঝড়ের সময়ে কেন্দ্রের পাঠানো অর্থ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছয়নি। মমতা দিদির গুন্ডা ও সিন্ডিকেট সেই টাকা লুট করেছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই দুর্নীতির হিসাব নেওয়া হবে।’’ সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুপ্রবেশ নিয়েও সরব হন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা।
হিঙ্গলগঞ্জের তৃণমূল নেতা আনন্দ সরকার বলেন, ‘‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা সম্পূর্ণ অসংলগ্ন। উনি বাংলার সম্প্রীতি নষ্ট করছেন। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করে কখনও রাজনীতিবিদ হওয়া যায় না। মানুষ বুঝতে পারছেন, ওঁর মিথ্যা কথাগুলি। তৃণমূল আবারও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় আসবে, সেটা শুধু সময়ের অপেক্ষা।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে