বিতর্ক: এই কর্মসূচি ঘিরেই অভিযোগ বিরোধীদের। ছবি: সামসুল হুদা
প্রশাসনিক ভবনের মধ্যেই দলবদলের অনুষ্ঠান করার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে।
ভাঙড়ের প্রাক্তন বিধায়ক তথা ভাঙড় ২ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি আরাবুল ইসলাম সোমবার ভাঙড় ২ ব্লক অফিস চত্বরেই কয়েকজন বিজেপি কর্মীর হাতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দেন বলে অভিযোগ। প্রশাসনিক ভবনকে দলের দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করেছে তৃণমূল, এই অভিযোগ তুলতে শুরু করেছে বিরোধী দলগুলি। বিষয়টি তাঁর জানা নেই বলে এড়িয়ে গিয়েছেন বিডিও কার্তিকচন্দ্র রায়।
প্রতিদিনের মতো সোমবারও পঞ্চায়েত সমিতির নিজস্ব দফতরে বসেছিলেন আরাবুল। সে সময়ে বেশ কয়েকজন দলীয় কর্মী-সমর্থক আরাবুলের ঘরে ঢুকে বলেন, বেশ কিছু বিজেপি কর্মী-সমর্থক আরাবুলের হাত ধরে তৃণমূলের আসতে চাইছেন। তাঁরা হাজিরও হয়েছেন।
অভিযোগ, আরাবুল পঞ্চায়েত সমিতির চেম্বার থেকে বেরিয়ে অফিস চত্বরেই বিজেপি কর্মীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন। তৃণমূলের দাবি, ভাঙড় ২ ব্লকের শানপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নিমকুড়িয়া গ্রামের ২৫টি পরিবারের শতাধিক বিজেপি কর্মী তৃণমূলে যোগ দেন। মিজানুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, রহিম মোল্লা, হবিবর মোল্লা সহ ১১ জনের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন আরাবুল।
এ বিষয়ে বিজেপির ভাঙড় ২ ব্লকের মণ্ডল সভাপতি অবনী মণ্ডল কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘এই সরকারের আমলে সরকারি অফিসগুলি তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে। ওরা যা খুশি তাই করছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘যাঁরা বিজেপি থেকে তৃণমূলে গিয়েছেন বলে ওরা দাবি করছে, তাঁরা আদৌ আমাদের দলের কর্মী নন। ওঁরা তৃণমূলেরই অন্য গোষ্ঠীর লোকজন।’’ আরাবুলের সাফাই, ‘‘বেশ কিছু বিজেপি কর্মী-সমর্থক পঞ্চায়েত সমিতিতে এসে তৃণমূলে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। আমি অফিসের বাইরে বেরিয়ে গিয়ে তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে আমাদের দলে যোগদান করাই। এর সঙ্গে সরকারি দফতরের কোনও সম্পর্ক নেই।’’ ভাঙড় ২ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি ওহিদুল ইসলামও বলেন, ‘‘পুরো বিষয়টি ঘটেছে ব্লক অফিসের বাইরে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে।’’
এ বিষয়ে সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তুষার ঘোষ বলেন, ‘‘ওরা সরকারি অফিসগুলি দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করেছে। সরকারি আধিকারিকেরাও দলদাসে পরিণত হয়েছেন।’’