বাড়ি থেকে রুবিয়া সুলতানার দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। —নিজস্ব ছবি।
৩০ টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বচসা শুরু হয়েছিল। অশান্তি এমন পর্যায়ে যায় যে স্থানীয়দের মধ্যস্থতা করতে হয়। তার পরেও ‘সমাধান’ হয়নি। স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া থানার বরোজ পশ্চিমপাড়া গ্রামের ঘটনা।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতার নাম রুবিয়া সুলতানা। বয়স ২৩ বছর। তাঁকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন স্বামী রবিউল ইসলাম।
মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশ খবর পায় খুনের। তারা গিয়ে দেহ উদ্ধার করে হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকেরা রুবিয়াকে মৃত বলে ঘোষণা করার পর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয় বসিরহাট জেলা হাসপাতালে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুনের মামলার রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে হাড়োয়া থানার পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে বলে মনে করা হলেও ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আলিমুদ্দিন মোল্লা নামে এক প্রতিবেশী জানান, দম্পতির সন্তানকে পড়াতেন এক গৃহশিক্ষক। তাঁর মাইনে দিচ্ছিলেন না রবিউল। স্বামীর কাছে ৩০ টাকা চান রুবিয়া। রবিউল বলে দেন, টাকা নেই। দিতে পারবেন না। ওই নিয়ে দু’জনের মধ্যে প্রচণ্ড অশান্তি হয়। এমনকি, সন্তানের পড়াশোনার জন্য টাকা না-দেওয়ায় রাগ করে সুলতানা বাপের বাড়ি চলে যান। পরে দুই বাড়ির আলোচনায় তখনকার মতো সমস্যা মিটে যায়। স্বামীর কাছে ফেরেন সুলতানা।
কিন্তু দু’দিন যেতে না যেতেই সোমবার রাতে ওই ৩০ টাকা নিয়ে আবার ঝগড়া শুরু হয় দম্পতির। তখনই স্ত্রীকে খুন করেন রবিউল।
পুরো ঘটনায় তাজ্জব এলাকাবাসী। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা স্বামী-স্ত্রীর গন্ডগোলের কথা জানার পর দুই পরিবারকে ডেকে মীমাংসা করে দিয়েছিলাম। যাতে সুস্থভাবে সন্তান নিয়ে তাঁরা সংসার করেন, এটাই ছিল উদ্দেশ্য। মাত্র ৩০ টাকার জন্য তার স্ত্রীকে খুন করে দেবে বুঝতে পারিনি। আমরা রবিউলের কঠোর শাস্তি চাই।’’