Champahati Blast Case

চম্পাহাটি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ: জখম চার জনের মধ্যে তিন জনের মৃত্যু! পলাতক মালিকের খোঁজে পুলিশ

অঘটনের পর দু’দিন কেটে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত বাজি কারখানায় বিস্ফোরণকাণ্ডে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ওই এলাকা কার্যত পুরুষশূন্য। বাজি মহল্লা এলাকাটিতে মহিলারা মুখে কুলুপ এঁটেছেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:০৩
Share:

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাজি মহল্লায় বিস্ফোরণের পর উদ্ধার করা হয়েছিল জখম চার শ্রমিককে। —ফাইল চিত্র।

চম্পাহাটির হারালে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের আরও দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাতে বাইপাসের ধারে একটি হাসপাতালে রাহুল পুঁই নামে জখম যুবক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই নিয়ে বিস্ফোরণকাণ্ডে চার জনের মধ্যে তিন জনেরই মৃত্যু হয়েছে। বাকি একজনের চিকিৎসা চলছে এমআর বাঙুরে। অন্য দিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ওই বাজি কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা জারি হয়েছে। তবে এখনও তাঁর খোঁজ মেলেনি।

Advertisement

গত শনিবার সকালে চম্পাহাটির হারালে একটি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের অভিঘাতে অ্যাজবেস্টসের ছাউনি উড়ে যায়। মাটিতে মিশে যায় পাকা ইটের গাঁথুনি দেওয়া ঘর। আশপাশের বাড়িঘরেও অল্পবিস্তর ক্ষতি হয়েছে। সেখান থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিলেন চার শ্রমিক— গৌরহরি গঙ্গোপাধ্যায়, বিশ্বজিৎ মণ্ডল, রাহুল এবং কিষান অধিকারীর। চার জনকেই কলকাতার দু’টি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল।

গত রবিবার এমআর বাঙুরে মৃত্যু হয় গৌরহরির। সোমবার বাইপাসের ধারে হাসপাতালে মারা যান বিশ্বজিৎ। মঙ্গলবার দুপুরে জানা গেল, রাহুলও মারা গিয়েছেন।

Advertisement

ঘটনার পর দু’দিন কেটে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত বাজি কারখানায় বিস্ফোরণকাণ্ডে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ওই এলাকা কার্যত পুরুষশূন্য। বাজি মহল্লা এলাকাটিতে মহিলারা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। বাজি ক্লাস্টার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এলাকার মানুষ। এত দিনেও কেন ক্লাস্টারের কাজ এগোল না, সেই প্রশ্ন উঠছে। ক্লাস্টারের জন্য ইতিমধ্যে এক দফায় স্থানীয় মানুষজনের জমি অধিগ্রহণ করেছিল সরকার। আরও এক দফায় জমি অধিগ্রহণ করার কথা। কিন্তু পর পর বিস্ফোরণের পরে বাসিন্দাদের একাংশ জানাচ্ছেন, সরকার নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে ক্লাস্টার তৈরির প্রতিশ্রুতি না দিলে জমি দেওয়া হবে না।

শনিবারের পর থেকে বারুইপুর থানার পুলিশের পক্ষ থেকে এলাকায় নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। তল্লাশি অভিযানও চলছে। তবে এত কিছুর পরেও এখনও পর্যন্ত কেউ আটক বা গ্রেফতার হননি। জানা যাচ্ছে, ওই বাজি কারখানাটির মালিকের নাম বিধান নস্কর। তাঁর বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। তবে এখনও বিধানের খোঁজ মেলেনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement