অকেজো: স্তম্ভ আছে, কিন্তু আলো জ্বলে না এই হাইমাস্টে। ব্যারাকপুর-বারাসত রোডের নীলগঞ্জ বাস ডিপোয়। —নিজস্ব চিত্র।
উচ্চ বাতিস্তম্ভ আছে। কিন্তু খুলে নেওয়া হয়েছে বাতি ও অন্য সরঞ্জাম। রাজ্যের অন্যতম বড় সরকারি বাস ডিপোর সামনে সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। শাসক দলের স্থানীয় বিধায়কের দাবি, অসামাজিক কাজের সুবিধার জন্যই খুলে নেওয়া হয়েছে আলো। কিন্তু লক্ষাধিক টাকা খরচ করে লাগানো উচ্চ বাতিস্তম্ভ খুলল কারা, জানা নেই স্থানীয় শিউলি পঞ্চায়েত বা প্রশাসন, কারও। এতেই ক্ষুব্ধ বিধায়ক। বছর ঘুরলেও আলো না জ্বলায় নিরাপত্তাহীতার প্রশ্ন তুলেছেন বাসযাত্রীরাও।
ঘটনাস্থল, ব্যারাকপুর-বারাসত রোডের নীলগঞ্জ বাস ডিপোর প্রবেশপথ। এক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বাস ছুটত এই ডিপো থেকে। স্থানীয় বাসিন্দা মোজহিত আলি বলেন, ‘‘ডিপো ও বাস টার্মিনাসের গুরুত্বের কারণে ২০১৬-২০১৭ সালে বিধায়ক থাকাকালীন কংগ্রেসের মধুসূদন ঘোষ এই বাতিস্তম্ভ বসানোয় উদ্যোগী হন। বেশ কিছু দিন আলো জ্বললেও এক এক করে খারাপ হতে থাকায় সেগুলি সারানোর জন্য খোলা হয়। আমিই উদ্যোগ নিয়ে খুলিয়েছিলাম।কিন্তু যিনি সারাতে নিয়েছিলেন তিনি অসুস্থ। সারানোর জন্য কেউ টাকা পাইনি। ফলে আলো নতুন করে লাগানো হয়নি।’’
নোয়াপাড়ার বর্তমান বিধায়ক তৃণমূলের মঞ্জু বসু বলেন, ‘‘এই সব উচ্চ বাতিস্তম্ভ দেখাশোনা করে তা নিয়মিত জ্বালানোর দায়িত্বস্থানীয় পঞ্চায়েতের। তাদেরই খেয়াল করার কথা। হঠাৎ করে কেউব্যক্তিগত উদ্যোগে এই আলো খুলতে পারেন না। আমিও তো বিধায়ক তহবিল থেকে বহু জায়গায় এমন আলো লাগানোর ব্যবস্থা করেছি। কোথাও তো এই ধরনের অনিয়ম হয়নি। অসামাজিক কাজের জন্য এটা করা হয়েছে নিশ্চয়ই।’’
নীলগঞ্জ বাস ডিপোর কর্মীরা জানান, ডিপোর ভিতরে ও পিছনে বিস্তীর্ণ এলাকায় নানাঅসামাজিক কাজ হয়। প্রতিবাদ করলে দুষ্কৃতীরা ভিতরে কখনও শুকনো ঘাসে আগুন ধরিয়ে ভয় দেখায়।দমকল এসে সেই আগুন নেভায়। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন রুটের বাস দাঁড়ায় সেখানে। রাতে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শুধু স্থানীয়দোকানগুলির আলো থাকে। ডিপোর এক মহিলা কর্মী সায়নী সরকার বলেন, ‘‘দ্বিতীয় শিফটে ডিউটি থাকলে বাস ডিপোয় ঢুকিয়ে ভাড়ার টাকার হিসাব মিলিয়ে বেরিয়ে দেখি, সব অন্ধকার। স্বাভাবিক ভাবেই ভয় করে। এগুলো স্থানীয় প্রশাসনেরই দেখা উচিত।’’ স্থানীয় শিউলি পঞ্চায়েতের প্রধান তৃণমূলের অরুণ ঘোষের বক্তব্য, ‘‘আলোর বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। ঠিক করার জন্যই সম্ভবত আলো খোলা হয়েছিল।’’
ব্যারাকপুরের মহকুমাশাসক সৌরভ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বাস ডিপোর সামনে উচ্চ বাতিস্তম্ভথাকার কথা। কেন সেখানে এত দিন ধরে আলো জ্বলছে না, খোঁজনিচ্ছি।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে