চুরিবিদ্যার পাঠশালা খুলে কাজ হাসিল করত কালু

ব্যাঙ্কের পিছনের দেওয়ালে সিঁদ কেটে ভিতরে ঢুকেছিল চোর। গর্তের মাপ মাত্র হাতখানেক। এত ছোট গর্ত দিয়ে চোর ভিতরে সেঁধালো কী করে, ভাবাচ্ছিল পুলিশকে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ নভেম্বর ২০১৬ ০১:১৮
Share:

হেফাজতে কালু। নিজস্ব চিত্র।

ব্যাঙ্কের পিছনের দেওয়ালে সিঁদ কেটে ভিতরে ঢুকেছিল চোর। গর্তের মাপ মাত্র হাতখানেক। এত ছোট গর্ত দিয়ে চোর ভিতরে সেঁধালো কী করে, ভাবাচ্ছিল পুলিশকে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, খুদে চোর ঢুকেছিল ভিতরে। ছোট ছেলেদের চুরি বিদ্যার প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি চক্রেরও হদিস মিলেছে এই সূত্রে।

Advertisement

শুক্রবার রাতে ক্যানিঙের মিঠাখালি দাসপাড়া থেকে আবুল কালাম দফাদার ওরফে কালু নামে ওই চক্রের মূল পান্ডাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের বাড়ি ওই এলাকাতেই। তার কাছ থেকে ৪ লক্ষ টাকারও বেশি চোরাই জিনিসপত্র উদ্ধার হয়েছে। যে কিশোর ব্যাঙ্কে ঢুকেছিল, গ্রেফতার হয়েছে সে-ও।

পুলিশ জানায়, ক্যানিং বাজারে কাপড়ের দোকান, ঘড়ির দোকান-সহ বেশ কিছু দোকানে সম্প্রতি চুরির ঘটনা ঘটে। প্রতি ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছিল, এক থেকে দেড় ফুট গর্ত করে ভিতরে ঢুকে চোর চুরি করেছে। এমন ছোট ছোট গর্ত দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়, ছোট বাচ্চাদের দিয়েই ‘অপারেশন’ চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে চুরি হয় ব্যাঙ্কে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশের সন্দেহ সত্যিতে পরিণত হয়। দেখা যায়, রোগাপাতলা চেহারার এক কিশোর ওই গর্ত দিয়ে গলে ঢুকছে ব্যাঙ্কের ভিতরে।

Advertisement

ওই কিশোরের ছবি জেলার প্রত্যেক পুলিশ স্টেশন ও সিভিক ভলান্টিয়ার্সদের হাতে দিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ওই চোরাই জিনিসপত্র কোথায় কারা বিক্রি করছে, তার উপরেও নজরদারি চলে। সেই সূত্রেই হদিস মেলে কালুর।

পুলিশ জানিয়েছে, কালু পার্ক সার্কাসের ঝুপড়িতে থাকত। সেখানেও পুরনো ভাঙাচোরা জিনিসপত্র কেনাবেচা করত। বছর দ’শেক আগে চলে আসে ক্যানিঙে। ভাঙাচোরা জিনিসের কেনাবেচার কারবার শুরু করে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, পার্ক সার্কাস থেকে ভবঘুরে শিশু-কিশোরদের সে নিজের কাছে নিয়ে আসত। খাওয়া-দাওয়া দিত। তাদেরকেই শেখাত চুরি বিদ্যা।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement