অপহরণের নাটক ফেঁদে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিলেন শাসনের সদ্য বিবাহিতা তরুণী। শুক্রবার তাঁকে দেগঙ্গার কার্তিকপুর বাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন, দেগঙ্গার যে যুবকের সঙ্গে তিনি পালিয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গেই আগে বিয়ে করেছিলেন। পুলিশকে রেজিস্ট্রি বিয়ের শংসাপত্রও দেখান তিনি।
এ দিন তরুণীকে বারাসত জেলা আদালতে হাজির করানো হলে বিচারকের কাছে গোপন জবানবন্দি দেন তিনি। আপাতত ফিরেছেন বাপের বাড়িতে। তরুণী জানিয়েছেন, বাড়িতে গিয়ে ঠান্ডা মাথায় ভেবেচিন্তে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
শাসন থানার বাসিন্দা ওই তরুণীর সঙ্গে ২৫ মে সম্বন্ধ করে বিয়ে হয়েছিল বসিহাটের এক যুবকের। বিয়ের নানা আনুষ্ঠানিকতা সারতে সোমবার পর্যন্ত মেয়ে-জামাই ছিল শাসনে, তরুণীর বাপের বাড়িতে। মঙ্গলবার সকালে নতুন জামাই কাজে বেরিয়ে যান। বৌমাকে ফিরিয়ে আনতে গাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন শ্বশুরমশাই এবং তাঁর দুই আত্মীয়। মাঝপথে গাড়ি থামিয়ে শ্বশুরের সামনে দিয়েই তাঁকে তুলে নিয়ে যান কিছু যুবক। সে সময়ে অনুমান করা হয়েছিল, অপহৃতা হয়েছেন তরুণী। পরে অবশ্য এক যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ জানতে পারে, প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়েছেন তরুণী। অপহরণের নাটক করা হয়েছিল মাত্র।
পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে পালিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে বনগাঁয় এক জায়গায় ছিলেন ওই তরুণী। পরিকল্পনা ছিল, সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে যাবেন। কিন্তু পুলিশের লাগাতার তল্লাশি ও গ্রেফতারের ভয়ে প্রেমিক আর পালানোর সাহস পায়নি। তাঁর খোঁজে বাড়িতে হানা দিয়েছিল পুলিশ। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়।
বৃহস্পতিবার তরুণীর স্বামী জানিয়েছিলেন, তাঁর ধারণা জোর করেই কেউ তুলে নিয়ে গিয়েছে সদস্য বিবাহিতা স্ত্রীকে। শুক্রবার অবশ্য স্ত্রীকে উদ্ধারের খবর পেয়েও তাঁরা কেউ থানায় আসেননি। ফোনে যোগাযোগ করা করে স্বামী কোনও মন্তব্যও করতে চাননি। কিন্তু প্রশ্ন হল, আগে যদি ভালবেসে বিয়েই করে থাকবেন, সে কথা কেন তরুণী জানালেন না পরিবারের কাছে? তা হলে তো সম্বন্ধ করে বিয়ের প্রশ্নই আসত না। এত ঝক্কিও এড়ানো যেত।
তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন, প্রেমের সম্পর্কের কথা তিনি বাড়িতে জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর কথায় কেউ গুরুত্ব দেয়নি। বাধ্য হয়েই প্রেমিকের সঙ্গে পালানোর ছক কষেন। তরুণীর বাবা অবশ্য এ দিনও দাবি করেছেন, মেয়ের পুরনো সম্পর্কের কথা জানতেন না তিনি।