মাথায় ছাদ ভাঙবে না তো, ভয়েই রাত কাটে আবাসনে

ঘরের মধ্যে বছর দেড়ের এক শিশু ঘুমাচ্ছে। তার মশারির উপর পলিথিন ঢাকা। জিজ্ঞাসা করাতেই শিশুর মা বললেন, ছাদ চুঁইয়ে বৃষ্টির জল ঘরে পড়ছে। এ ভাবেই থাকতে হচ্ছে। আর কোনও উপায় নেই। এই অবস্থা শুধু ওই পরিবারের নয় ডায়মন্ড হাবরারে সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মীদের থাকার প্রত্যেকটি আবাসনের এমনই চিত্র।

Advertisement

দিলীপ নস্কর

শেষ আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০১৬ ০০:৪০
Share:

স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসনের পরিস্থিতি। নিজস্ব চিত্র।

ঘরের মধ্যে বছর দেড়ের এক শিশু ঘুমাচ্ছে। তার মশারির উপর পলিথিন ঢাকা। জিজ্ঞাসা করাতেই শিশুর মা বললেন, ছাদ চুঁইয়ে বৃষ্টির জল ঘরে পড়ছে। এ ভাবেই থাকতে হচ্ছে। আর কোনও উপায় নেই।

Advertisement

এই অবস্থা শুধু ওই পরিবারের নয় ডায়মন্ড হাবরারে সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মীদের থাকার প্রত্যেকটি আবাসনের এমনই চিত্র।

ডায়মন্ড হারবার মহকুমায় গ্রামীণ হাসপাতাল রয়েছে ডায়মন্ড হারবার ১ ব্লকে পঞ্চগ্রাম গ্রামীণ হাসপাতাল, ডায়মন্ড হারবার ২ ব্লকে সরিষা গ্রামীণ হাসপাতাল, মগরাহাট ১ ব্লকে বাণেশ্বরপুর গ্রামীণ হাসপাতাল, মগরাহাট ২ ব্লকে মগরাহাট গ্রামীণ হাসপাতাল, মন্দিরবাজার ব্লকে নাইয়ারহাট গ্রামীণ হাসপাতাল, কুলপি ব্লকে কুলপি গ্রামীণ হাসপাতাল, ফলতা ব্লকে ফলতা গ্রামীণ হাসপাতাল মথুরাপুর ১ ব্লকে মথুরাপুর গ্রামীণ হাসপাতাল ও মথুরাপুর ২ ব্লকে রায়দিঘি গ্রামীণ হাসপাতাল রয়েছে। বেশির ভাগ হাসপাতালের আবাসনের অবস্থা খুবই খারাপ। আবার কিছু আবাসন ফাঁকাও পড়ে রয়েছে। সেগুলিতে সাহস করে কর্মীরা থাকতে পারেন না।

Advertisement

জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সোমনাথ মুখ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আবাসনগুলি সংস্কারের জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য দফতরে জানানো হয়েছে। অনুমোদন মিললে কাজ শুরু হবে।’’

মথুরাপুর গ্রামীণ হাসপাতালের আবাসনটির সব থেকে খারাপ অবস্থা। ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই আবাসনে ৩৭ জন স্বাস্থ্যকর্মী পরিবার নিয়ে থাকতে পারবেন। ১৫টি আবাসনে বহু বছর ধরে স্বাস্থ্যকর্মীরা থাকেন। কিন্তু আবাসনগুলির কোনও সংস্কার হয় না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে সেগুলি এখন নষ্ট হতে চলেছে। কোনও আবাসনের ছাদের চাঙড় খসে পড়ছে। আবার কোনওটার শৌচাগার ভেঙে গিয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে জঞ্জালও পরিষ্কার হয় না। চারি দিকে বিষাক্ত সাপ ঘুরে বেড়ায়। নিকাশি নালা সংস্কার না হওয়ায় মশা ও মাছির উপদ্রবও বাড়ছে।

আবাসনের এক স্বাস্থ্যকর্মী জানান, নিজেদের টাকায় দু’বার ঘর সারিয়ে নিয়েছি। কিন্তু সব সময় তা সম্ভব নয়। যা অবস্থা হয়েছিল তাতে যে কোনও সময় বড় কোনও বিপদও ঘটতে পারত। সরকারি দফতর থেকে মাপজোকও করা হয়েছিল। কিন্তু তারপরে আর কাজ এগোয়নি।

মন্দিরবাজারের নাইয়ারহাট গ্রামীণ হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার আবাসন রয়েছে প্রায় ১০টি। সেগুলিও থাকার অযোগ্য। মগরাহাট ১ বাণেশ্বরপুর গ্রামীণ হাসপাতালের আবাসন বহু বছর আগে তৈরি। সেগুলিও ভাঙতে শুরু করেছে। বিপদের আশঙ্কা মাথায় নিয়েই মানুষকে সেখানে থাকতে হয়। একই অবস্থা মগরাহাট ও কুলপি গ্রামীণ হাসপাতালেরও।

স্বাস্থ্যকর্মীদের কথায়, ‘‘দূরে বাড়ি বলে বাধ্য হয়ে পরিবার নিয়ে এখানে থাকি। ছেলেমেয়েদের নিয়ে থাকতে ভয় লাগে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement