BJP

নিরাপত্তার কড়াকড়ি, আটকে দেওয়া হল বিধায়ককেই

বেলা ৪টে ২৪ মিনিটে ঠাকুরবাড়ির আকাশে চক্কর কাটতে দেখা গেল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হেলিকপ্টার।

Advertisement

সীমান্ত মৈত্র 

শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০৬:০২
Share:

সভায় মতুয়া ভক্ত। নিজস্ব চিত্র।

নিরাপত্তার কড়াকড়িতে বিজেপির বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাসই আটকে গেলেন। প্রায় আধ ঘণ্টা পরে দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তিনি পৌঁছলেন অমিত শাহের সভামঞ্চে। তবে এ দিন বক্তৃতায় বিশ্বজিতের নাম নেননি শাহ। ক’দিন আগে বিধানসভা চত্বরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রণাম করে এমনিতেই বিতর্কে জড়িয়েছেন বিশ্বজিৎ। এ দিন শাহ তাঁর নাম না নেওয়ায় ফের স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে গুঞ্জন।

Advertisement

এ দিন সকাল থেকেই গোটা ঠাকুরবাড়ির দখল চলে গিয়েছিল পুলিশের হাতে। রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা অফিসারেরা হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দির এবং আশপাশের এলাকায় কড়া নজর রাখছিলেন। সাধারণ মানুষকে ধারে কাছে ঘেঁষতে দেওয়া হচ্ছিল না। ছাদে দূরবীন হাতে পরিস্থিতির উপরে নজর রাখছিলেন পুলিশ কর্মীরা। হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরটি মতুয়া পতাকা নিশান এবং ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছিল। মন্দিল সংলগ্ন রাস্তা এবং মতুয়া ধর্ম মহামেলার মাঠের ধার বরাবর বাঁশের ব্যারিকেড করা হয়েছিল। যাতে মাঠ পেরিয়ে কেউ ঠাকুরবাড়িতে ঢুকে পড়তে না পারেন। মাঠের মধ্যে গার্ডরেল দেওয়া ছিল। সেখানে নিরাপত্তায় ছিলেন সিভিক ভলান্টিয়ার।

বেলা ৪টে ২৪ মিনিটে ঠাকুরবাড়ির আকাশে চক্কর কাটতে দেখা গেল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হেলিকপ্টার। তাঁকে স্বাগত জানান বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়। হেলিপ্যাড থেকে শাহের কনভয় ঠাকুরবাড়িতে ঢুকে পড়ে। লালপাড় সাদা শাড়ি পরে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলারা গাড়ির উপর ফুল ছড়িয়ে দিতে থাকেন। মাঠ পেরিয়ে মানুষজন পড়িমড়ি করে ছোটেন ব্যারিকেড পর্যন্ত। শাহের কনভয় মন্দির পর্যন্ত এলেও তিনি মন্দিরে না ঢুকে সরাসরি সভামঞ্চে চলে যান। মেলার মাঠে ব্যারিকেডের পাশে জড়ো হওয়া লোকজন মোবাইল তাক করে ছিলেন। তাঁরা ভেবেছিলেন শাহ মন্দিরে ঢুকেছেন। পাশের সভামঞ্চে শাহের গলা শুনে তাঁরা বুঝতে পারেন, তিনি মন্দিরে ঢোকেননি।

Advertisement

ফুলের ডালি পরীক্ষা করছেন নিরাপত্তারক্ষী। নিজস্ব চিত্র।

সভায় ২৬ মিনিট বক্তৃতা সেরে ফেরার পথে শাহ অবশ্য হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে প্রণাম করে যান। সাড়ে ৫টার সময়ে তাঁর কপ্টার ঠাকুরনগর ছেড়ে যায়। এ দিন সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে গাড়ি করে মতুয়া ভক্তেরা ঠাকুরবাড়িতে আসেন। বিজেপি ও মতুয়া ভক্তদের একই গাড়িতে করে আসতে দেখা যায়। গাড়িতে বিজেপির দলীয় পতাকা এবং মতুয়া নিশান এক সঙ্গে উড়েছে। ডাঙ্কা-কাশি-নিশান নিয়ে মতুয়ারা মাঠে ভিড় জমান। বনগাঁর পুলিশ সুপার তরুণ হালদার ও রানাঘাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রূপান্তর সেনগুপ্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। সভামঞ্চে যাওয়ার আগে স্লাইডিং ব্যারিকেড দেওয়া ছিল। দুপুরে বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস সভামঞ্চে যাওয়ার আগে নিরাপত্তা কর্মীরা তাঁকে আটকে দেন। প্রায় তিরিশ মিনিট তাঁকে সভায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সেখানেই দাঁড়িয়েছিলেন বিশ্বজিৎ। পরে শুভেন্দু অধিকারী সভামঞ্চে যাওয়ার সময়ে তাঁকে ঢুকিয়ে নেন। শাহ তাঁর ভাষণেও বিশ্বজিতের নাম উল্লেখ করেননি। ঘনিষ্ঠ মহলে এই ঘটনায় বিশ্বজিৎ ক্ষোভ জানিয়েছেন।

শাহ তাঁর বক্তৃতায় সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘‘এই মাটি বিভূতিভূষণের পুণ্যভূমি। তিনি পথের পাঁচালি দেশ ও বিশ্বকে দিয়েছেন।’’ শাহের মুখে বিভূতিভূষণের কথা শুনে সভায় উপস্থিত অনেকেই বিস্মিত। শুভেন্দু বলেন, ‘‘শান্তনুর (বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুর) সঙ্গে আমার দাদা-ভাইয়ের সম্পর্ক। মতুয়াদের জন্য, মানুষের জন্য আমরা এক সঙ্গে কাজ করব।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement