Bangaon Incident

অতিরিক্ত ভাড়া চাইল অ্যাম্বুল্যান্স, দিতে না পারায় পরিষেবা পেলেন না রোগী! যুবকের মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বনগাঁয়

মৃতের পরিবারের অভিযোগ, এক ঘণ্টারও বেশি সময় গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে পড়েছিলেন যুবক। ঘটনার জন্য সরাসরি অ্যাম্বুল্যান্সচালকদের গাফিলতিকেই দায়ী করেছেন মৃতের পরিজনেরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ১৯:২৮
Share:

মৃত যুবক বিশ্বজিৎ মণ্ডল। — ফাইল চিত্র।

অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া এত কেন? ভাড়া নিয়ে দর কষাকষির জেরে সময় চলে যায় অনেকটাই। তার ফলে সময়মতো চিকিৎসা না-পেয়ে দুর্ঘটনায় আহত এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠল উত্তর ২৪ পরগনা বনগাঁয়।

Advertisement

জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম বিশ্বজিৎ মণ্ডল (২১)। বাড়ি বনগাঁ থানার জয়পুর এলাকায়। পরিবার সূত্রে খবর, মঙ্গবার ভোরে বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। ক্যাটারিংয়ের কাজ সেরে ফিরছিলেন বিশ্বজিৎ। ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় পড়েন তিনি এবং তাঁর দুই বন্ধু। গুরুতর জখম অবস্থায় তিন জনকে বনগাঁর জেআর ধর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর ওই হাসপাতালের চিকিৎসকেরা মনে করেন, আহতদের আর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। সেই কারণে তিন জনকেই আরজি কর হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়।

চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো আহতদের আরজি করে নিয়ে যাওয়ার জন্য তোড়জোড় শুরু করে পরিবার। গোল বাধে তখনই। অভিযোগ, অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করতে গিয়ে বিপদে পড়ে তারা। অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য যোগাযোগ করলে নির্ধারিত ভাড়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ। পরিবারের দাবি, সাড়ে তিন হাজার টাকা অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া চেয়েছিলেন চালক। কিন্তু সেই টাকা তখনই দেওয়ার মতো অবস্থায় ছিল না আহতদের পরিবার। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝিয়ে তারা নিজেদের কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও গাড়ির চাবি পর্যন্ত জামানত হিসেবে দিতে চাইলেও অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা মেলেনি বলে অভিযোগ পরিবারের।

Advertisement

সময়মতো পরিষেবা না-পাওয়ায় বিশ্বজিতের মৃত্যু হয় বলে দাবি তাঁর পরিবারের। অভিযোগ, এক ঘণ্টারও বেশি সময় গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে পড়েছিলেন বিশ্বজিৎ। ঘটনার জন্য সরাসরি অ্যাম্বুল্যান্সচালকদের গাফিলতিকেই দায়ী করেছেন মৃতের পরিজনেরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়ায় বনগাঁ মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি তোলা হয়। মৃত যুবকের পরিবারের বক্তব্য, ‘‘অর্থের অভাবে যদি একজন মুমূর্ষু রোগী অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা না-পান, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং অমানবিক।’’ ভবিষ্যতে যাতে কোনও রোগী বা তাঁর পরিবারকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না-হয়, সে জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন তাঁরা।

স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, যুবকের মৃত্যুর জন্য যদি কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তবে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, তারা এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement