প্রতীকী ছবি।
ফের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন গোপালনগরের এক যুবক। সোমবার ওই যুবকের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট এসে পৌঁছায় বনগাঁ মহকুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য দফতরের কাছে। এর আগে গোপালনগরের বাসিন্দা এক পুলিশ কর্মী যুবক করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। বনগাঁর বিএমওএইচ মৃগাঙ্ক সাহা রায় বলেন, ‘‘করোনা আক্রান্ত যুবককে সোমবার রাতেই বাড়ি থেকে গাড়ি করে নিয়ে গিয়ে বারাসতে করোনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’’
প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার আক্রান্ত যুবকের বাড়ি এবং সংলগ্ন এলাকায় দমকল বাহিনী গিয়ে স্যানিটাইজ করেছে। এলাকাটি সিল করে কন্টেনমেন্ট জ়োন ঘোষণা করা হয়েছে। ওই এলাকায় ১৫টি পরিবার রয়েছে। তাঁদের বাড়ি থেকে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে। তাঁদের জন্য পঞ্চায়েত অফিসে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য মানুষ সেখানে ফোন করলে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হবে।
আক্রান্তের বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার পথ ড্রপগেট করে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। গোটা পঞ্চায়েত এলাকায় মাইক প্রচার করে মানুষের কাছে অনুরোধ করা হচ্ছে, তাঁরা যেন অকারণ বাড়ির বাইরে ঘোরাঘুরি না করেন।
প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, করোনা আক্রান্ত যুবক কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তা কর্মীর কাজ করেন। সম্প্রতি সেখানে এক করোনা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৪ দিন হোম কোয়রান্টিনে রাখেন। লালারস পরীক্ষা হয়। রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তাঁকে ডিউটিতে নিয়োগ করা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি আরও এক পজিটিভ রোগীর সংস্পর্শে আসেন।
সম্প্রতি হালকা জ্বর, পেট খারাপ হয় ওই যুবকের ছুটি নিয়ে যুবক কলকাতা থেকে বাসে বারাসত এবং সেখান থেকে হেঁটে শুক্রবার রাতে বাড়ি ফেরেন। শনিবার স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়িতে গিয়ে তাঁকে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে আনতে বলেন। শনিবারই তিনি সাইকেল চালিয়ে হাসপাতালে গিয়ে লালারস দিয়ে আসেন। সোমবার রাতে তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়ি ফেরার পর থেকেই আক্রান্ত যুবক যথেষ্ট সচেতনার পরিচয় দিয়েছেন। বনগাঁর মহকুমাশাসক কাকলি মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আক্রান্ত যুবক বাড়িতে সকলের থেকে আলাদা ছিলেন। এমনকী, থালার বদলে কলাপাতায় ভাত খেয়েছেন। যে সাইকেলে বনগাঁ হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য গিয়েছিলেন, সেই সাইকেলটি তিনি বাড়ি নিয়ে না গিয়ে জঙ্গলে ফেলে রেখেছেন। তিনি জানতেন, কী করা উচিত।’’
ওই গ্রামের কিছু মানুষ মাসখানেক আগে ফকির ডেকে গ্রামে ঝাড়ফুঁক করান, যাতে করোনা না হয়। বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সংগঠনের তরফে সে সময়ে গ্রামবাসী বোঝানো হয়েছিল, এ ধরের কিছু দিয়ে করোনা আটকানো যাবে না।।
সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক প্রদীপ সরকার বলেন, ‘‘গ্রামবাসীকে বুঝিয়েছিলাম, সরকারি নির্দেশ মেনে চলতে হবে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। তা হলেই করোনা ঠেকানো সম্ভব। ফকিরকে ডেকে লাভ নেই।’’ প্রশাসনও এ নিয়ে গ্রামের মানুষকে সচেতন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অতীতে গোপালনগরে বসবাসকারী এক ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ন। তিনি কলকতার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিএমওএইচ বলেন, ‘‘গোপালনগরের ওই ব্যক্তি কলকাতায় বসবাস করেন। তিনি গোপালনগরে শেষবার এসেছিলেন মাস ছ’য়েক আগে। ফলে এটি আমাদের এলাকার ঘটনা নয়।’’
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বনগাঁ মহকুমায় এখনও পর্যন্ত চারজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সকলেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।