দেদার বিকোচ্ছে ময়ূরের পালক

মা-ছেলে মাটির তৈরি হলেও কার্তিকের বাহন ময়ূর গড়তে গিয়ে আসল পেখম ব্যবহারই রীতি ছিল। যা পালন করতে গিয়ে বেচারা ময়ূরের বংশ লোপাট হওয়ার জোগাড়। এক সময়ে অবশ্য ময়ূরের পেখম বিক্রির উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। কার্তিকের বাহনের পুচ্ছে আসল পেখম লাগানো এবং বিক্রি বেআইনি বলে ঘোষণা হয়।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০১৫ ০২:০৬
Share:

মা-ছেলে মাটির তৈরি হলেও কার্তিকের বাহন ময়ূর গড়তে গিয়ে আসল পেখম ব্যবহারই রীতি ছিল। যা পালন করতে গিয়ে বেচারা ময়ূরের বংশ লোপাট হওয়ার জোগাড়। এক সময়ে অবশ্য ময়ূরের পেখম বিক্রির উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। কার্তিকের বাহনের পুচ্ছে আসল পেখম লাগানো এবং বিক্রি বেআইনি বলে ঘোষণা হয়।

Advertisement

তাতে অবশ্য লুকিয়ে-চুরিয়ে বিক্রি-বাট্টা কমেনি। ইদানীং বসিরহাট শহরে প্রকাশ্যেই ময়ূরের পেখম বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে হাট-বাজারে দেদার বিক্রি হচ্ছে ময়ূরের পালক। সম্প্রতি বসিরহাটের টাউন এলাকায় এক ফেরিওয়ালাকে পেখম বিক্রি করতে দেখা গেল। একটা পেখম ১০ টাকা। মাছ ধরার ছিপের মাথায় লাগানো সুতোর সঙ্গে বাঁধার জন্য ক্রেতাদের ওই পেখম কিনতে দেখা যায়। প্রতিমা শিল্পী, এমনকী স্কুলের ওয়ার্ক এডুকেশনের খাতায় লাগানোর জন্যেও অনেক ছাত্রছাত্রী ময়ূরের শরীর থেকে খুলে নিয়ে আসা পালক কেনে। ফেরিওয়ালা যাদব লাল জানালেন, ৬ টাকা পিস দামে কলকাতার বড়বাজার থেকে পেখম কেনেন। তবে এ জিনিস যে বিক্রি করা আইনসঙ্গত নয়, সে কথা বিলক্ষণ জানেন যাদব। একগাল হেসে বললেন, ‘‘কী করব, ভাল লাভ এই ব্যবসায়। তাই ছাড়তেও পারি না।’’

এ বিষয়ে বসিরহাট মহকুমা বন দফতরের এক আধিকারিকের দাবি, আইনের চোখে ময়ূরের পেখম বিক্রি অপরাধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ কোথা থেকে এত ময়ুরের পেখম আনা হচ্ছে, সে বিষয়েও খোঁজখবর করে বিক্রি ব্যবস্থা বন্ধ করা হবে, এমনটাই আশ্বাস দিলেন তিনি। বসিরহাট থানার আইসি গৌতম মিত্র বলেন, ‘‘নিয়ম ভেঙে কেউ যদি ময়ূরের পেখম বিক্রি করে, তা হলে পুলিশ তাকে ধরবে। আইন মোতাবেক ওই পেখম বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’’

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement