বধূর অর্ধনগ্ন দেহ মাঠে

পরনের শাড়ি পেঁচানো ছিল গলায়। বিস্রস্ত, অর্ধনগ্ন দেহ পড়ে ছিল মাঠের মধ্যে। খোলা অন্তর্বাস, জুতো। পাশে চাপ চাপ রক্ত। বৃহস্পতিবার বসিরহাট থানার পূর্ব ঘোনা গ্রামে এই অবস্থাতেই মিনা বিবি (১৯) ওরফে রুনার দেহ দেখতে পান স্থানীয় মানুষজন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ নভেম্বর ২০১৫ ০২:২৮
Share:

এখানেই পড়েছিল দেহ। ইনসেটে, মিনা বিবি। নিজস্ব চিত্র।

পরনের শাড়ি পেঁচানো ছিল গলায়। বিস্রস্ত, অর্ধনগ্ন দেহ পড়ে ছিল মাঠের মধ্যে। খোলা অন্তর্বাস, জুতো। পাশে চাপ চাপ রক্ত।

Advertisement

বৃহস্পতিবার বসিরহাট থানার পূর্ব ঘোনা গ্রামে এই অবস্থাতেই মিনা বিবি (১৯) ওরফে রুনার দেহ দেখতে পান স্থানীয় মানুষজন। পুলিশ আসে। খুনের অভিযোগে পরে গ্রেফতার করা হয়েছে মিনার স্বামী আরিজুল মিদ্যেকে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, শ্বাসরোধ করে খুনের আগে মহিলার উপরে অকথ্য অত্যাচার চলেছে। আরিজুলের অবশ্য দাবি, শ্বশুরবাড়িতে ছিল স্ত্রী। গত আঠারো দিন ধরে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দেখাই হয়নি। ফলে এই খুনের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর দেড়েক আগে দক্ষিণ গোলাইচণ্ডী গ্রামের আরিজুলের সঙ্গে প্রেম হয় পূর্ব ঘোনার বাসিন্দা তরুণী মিনার। খানিকটা পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের চাপে দু’জনের দ্রুত বিয়েও হয়ে যায়। মিনার বাপের বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, বিয়েতে যৌতুক না চাইলেও জামাই ধীরে ধীরে নানা আবদার শুরু করে। কখনও মোটর বাইক, কখনও নগদ টাকা, কখনও আবার গয়নাগাটিও দাবি করে। মিনার বাবা পেশায় পান ব্যবসায়ী সামাদ মণ্ডল সাধ্য মতো জিনিস দিতে থাকেন জামাইকে। এত সবের পরেও অবশ্য স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। যার জেরে আঠারো দিন আগে মিনা বাপের বাড়িতে চলে আসেন।

Advertisement

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, দিন কয়েক আগে মিনা বেপাত্তা হয়ে যান। থানায় অভিযোগ হয়। দিন তিনেক আগে বসিরহাট স্টেশন চত্বর থেকে মেয়েকে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন বাবা। তাঁর দাবি, সে সময়ে মেয়ে বলেছিল, মেয়ে বলেছিল, এক বান্ধবীর বাড়িতে গিয়েছিল। এই দাবির সত্যতা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ভোরে মাঠে কাজে যাওয়ার সময়ে এক গ্রামবাসী ধানখেতের মধ্যে মিনার দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে মিনার অন্তর্বাস, জুতো এবং পড়ে থাকা রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে। বিকেলের দিকে গ্রাম থেকেই ধরা পড়ে আরিজুল। পুলিশ জানায়, দুষ্কৃতীরা মিনার মোবাইল ফোনটি নিয়ে গিয়েছে। তার হাতে ও কানের সোনার গয়নাও নিয়েছে। তবে গলায় রুপোর উপরে সোনার জল করা হারটি রেখে গিয়েছে।

Advertisement

সামাদ বলেন, ‘‘জামাইয়ের সঙ্গে অন্য একটি মেয়ের সম্পর্কের কথা জানাজানি হওয়ার পরে মেয়ে-জামাইয়ের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়।

তিনি আরও জানান, বুধবার রাত ১০টা নাগাদ জামাই বাড়িতে হাজির হয়ে মিটমাট করে নেওয়ার কথা বলে। খাওয়া-দাওয়া সেরে মেয়ের সঙ্গে একই ঘরে ছিল। সামাদের দাবি, সকালে দেখেন দরজা খোলা। মেয়ে-জামাই নেই। এরপরেই জানা যায়, মাঠে পড়ে আছে মিনার দেহ। আরিজুলের অবশ্য দাবি, বুধবার রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে যাননি। তাঁর মা সুফিয়া বিবিও একই দাবি করেছেন।

এই ধরনের নানা পরস্পরবিরোধী তথ্য উঠে আসছে তদন্তে। পুলিশ জানায়, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement