মৃত্যুর পর দেহদানই পরিবারের রেওয়াজ

দেহদান করেছিলেন স্বামী। ডাক্তারি পড়ুয়াদের সুবিধার্থে এ বার দেহ দিলেন স্ত্রী। চোখ দু’টিও দান করে গিয়েছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। বসিরহাটের ভবানীপুরের মৈত্রবাগান বাড়ি দাস পরিবারের। স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই শিক্ষক। পরিবারে রয়েছেন চার ছেলে ও একটি বৌ। তাঁরাও শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত। প্রত্যেকেই দেহ এবং চোখ দানের অঙ্গীকার করেছেন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ ডিসেম্বর ২০১৫ ০২:০২
Share:

দেহদান করেছিলেন স্বামী। ডাক্তারি পড়ুয়াদের সুবিধার্থে এ বার দেহ দিলেন স্ত্রী। চোখ দু’টিও দান করে গিয়েছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। বসিরহাটের ভবানীপুরের মৈত্রবাগান বাড়ি দাস পরিবারের। স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই শিক্ষক। পরিবারে রয়েছেন চার ছেলে ও একটি বৌ। তাঁরাও শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত। প্রত্যেকেই দেহ এবং চোখ দানের অঙ্গীকার করেছেন।

Advertisement

দীর্ঘ রোগে ভোগার পর ভবানীপুরের মৈত্রবাগান বাড়িতে মারা যান কাঞ্চনলতা দাস। সংস্কারমুক্ত মানুষ ছিলেন। বিপদ আপদে মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ানোই ছিল তাঁর একমাত্র ধর্ম। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সাহায্য করতেন তিনি। গত ২০০৫ সালে ২৬ নভেম্বর মারা গিয়েছিলেন কাঞ্চনদেবীর স্বামী গোষ্ঠবিহারী। ১৯৫২ সালে বাংলাদেশ থেকে এসেছিলেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবার এমলিবাড়ি গ্রামে ছিল তাঁর আদিবাড়ি। সেখানে পাঠশালা করে শিশুদের পড়াতেন। পরবর্তী কালে ওই পাঠশালার নাম হয় সেন্ট্রাল সাতজেলিয়া অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়।

ও পার বাংলা থেকে এ পার বাংলায় আসার পরে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে কাটাতে হয়েছিল গোষ্ঠবাবুকে। ওই সময়ে তিনি ঘাস কেটে, দুধ বিক্রি করে কোনও রকমে সংসার চালাতেন। লিভার ক্যান্সারে অসুস্থ হয়ে পড়ার পরই গোষ্ঠবিহারীবাবু সিদ্ধান্ত নেন, দেহ এবং চোখ দান করবেন। তাতে সায় দেয় পরিবারের সকলে। স্বামী দেহদানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে কাঞ্চনলতাদেবীও একই পথ অনুসরণ করেন। স্বামীর মতো তিনিও কলকাতার নীলরতন সরকার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ভাবে দেহদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

Advertisement

কাঞ্চনলতাদেবীর মৃত্যুর পরে তাঁর ছেলেরা দেহটি কলকাতার নীলরতন সরকার হাসপাতালে দিয়ে আসেন। তবে দেহ নিয়ে যাওয়ার আগে চোখ দু’টি দেন বসিরহাটের সেবায়ন নামে একটি বেসরকারি চোখ সংগ্রহ সংস্থায়।

খোলাপোতা অরবিন্দ পাঠ মন্দিরের বাংলার শিক্ষক সেজো ছেলে বকুলানন্দ দাস বলেন, ‘‘পড়াশোনা বেশি না করলে কী হবে, গ্রামে তিনটি স্কুলের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বাবা। নিজে পড়াতেন পাঠশালায়। বাবা-মায়ের আদর্শে বেড়ে উঠেছি। আমাদের মনে হয় একটি দেহ পুড়িয়ে নষ্ট করে ফেলার কোনও মানে নেই। কত মানুষ চোখের অভাবে দেখতে পায় না। তাই আমরাও দেহ এবং চোখ দান করব বলে ঠিক করেছি।’’

Advertisement

বড় ছেলে গোকুলানন্দ দাস জানান, ‘‘আমরা বাবা-মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে গর্বিত।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement