‘ফুড জাংশন’ তা-ও আবার কলকাতা শহর থেকে এদ্দূরে? হুক্কা পার্লার, ফুড অন হুইলস, তা-ও আছে?
নতুন প্রজন্মের দাবিকে মাথায় রেখে মফস্সল শহরেও বাড়ছে এ সব চাহিদা। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তারই পথ দেখাল একাধিক সংস্থা।
কলকাতা থেকে কেতাদুরস্ত শেফ আনিয়ে, পুরসভার মাঠে ম্যাটাডোরকেই রেস্তোরাঁর মতো করে সাজিয়েছেন মন্টু খামারু। ‘ফুডস অন হুইলস’-এর এমন ব্যবসা সারা ভারতেই ক্রমশ জমপ্রিয় হচ্ছে। বিদেশেও এ ধরনের রেস্তোরাঁর কদর আছে। মন্টুবাবুর কথায়, ‘‘হোটেল ম্যানেজমেন্টে ডিপ্লোমা করে মুম্বইয়ে কাজ করার সময়েই ঠিক করেছিলাম, একটা মোবাইল রেস্তোরাঁ খুলব ডায়মন্ড হারবারে।’’ মূলত চাইনিজ এবং কন্টিনেন্টাল ডিস তৈরি করছেন তিনি। জোর দেওয়া হচ্ছে মোমোর উপরে। শহরের আর পাঁচটা রেস্টুরেন্টের ‘চলতি চাউমিন’-এর থেকে চাইনিজটাকে চিনে কায়দায় পরিবেশন করতে চাইছেন মন্টুবাবুরা। এই শহরের বাসিন্দা সাহিত্যিক ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায় বললেন, ‘‘আমাদের বয়েসকালেও চাইনিজ খেতাম। কিন্তু এখানকার বেশিরভাগ রেস্তোরাঁগুলিতেই সেই গতানুগতিক খাবার। শুনে ভাল লাগছে, চাইনিজ মেনু নিয়ে মোবাইল খাবারের দোকান এসেছে এখানে।’’
নতুন নতুন এই প্রয়োগের ধাক্কায় খোলনোলচে বদলাচ্ছে শহরের চালু এবং পুরনো রেস্তোরাঁগুলিও। তাই স্টেশনের উল্টো দিকে একটি পুরনো খাবার দোকান এ বার পুজোয় দক্ষিণী খাবারের মেনু নিয়ে প্রস্তুত হয়েছে ফুড ফ্লোরে। দোকানের ম্যানেজার বরুণ গায়েন বলেন, ‘‘গতানুগতিক চাউ, রোল তো থাকছেই। তবে ধোসা, সাম্বর, উত্তপম, বড়া এ সবও অনেক গ্রাহক এসে চাইছেন। ডায়মন্ড হারবারে সে রকম ভাবে দক্ষিণী খাবার আর কোথায়? তাই আমরা চালু করছি এ সব ডিস।’’
যে যাঁর ইউএসপি নিয়ে যখন এগিয়ে, তখন গতে বাঁধা দোকানগুলি কী করছে? শহরের একটি জনপ্রিয় ফাস্টফুড সেন্টারের মালিক মিহির রায় জানালেন, তাঁদের এখানে চিরাচরিত খাবারদাবারের চাহিদাই বেশি। পুজোর সময়ে সেগুলিই সাপ্লাই করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।
শহরের চালু রেস্তোরাঁগুলির মধ্যে কোথাও নিরিবিলিতে বসা বা বান্ধবীকে নিয়ে নিভৃতে একটু সময় কাটানোর ‘স্পেস’ নেই— এই অভিযোগ ছিল তরুণ প্রজন্মের। কিন্তু এ বার পুজোয় বোধহয় সেই সমস্যা কিছুটা হলেও কমছে। মাস দু’য়েক আগে কলেজ রোডে খুলেছে নতুন একটি রেস্তোরাঁ। অন্দরমহলের পরিবেশ কলকাতার যে কোনও ভাল হোটেলের সঙ্গে পাল্লা দেবে। আবছা আলোয় শারদীয়ার আড্ডা জমবে বেশ, এ রকমই মনে করছেন কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জ্যোতিন হালদার। তাঁর কথায়, ‘‘সুস্থ পরিবেশে একটু ভাল ভাবে সময় কাটানোর জন্য কলকাতায় যেতে হতো। দেখা যাক এ বার কী হয়।’’ আর মেনু? রেস্তোরাঁর মালিক অভিজিৎ দাস জানালেন, মকটেলে ব্লু লেগুন, পিঙ্ক প্যান্থার, ভ্যানিলা আইস মিলছে। রাশিয়ান, চাইনিস এবং ফ্রুট স্যালাডও পাওয়া যাচ্ছে। সঙ্গে বাড়তি পাওনা হুক্কা পার্লার। প্রায় ১৭০ রকমের মাল্টি কুইসিন হাজির তাঁরা, এমনটাই দাবি অভিজিৎবাবুর।
বেনফিসের গঙ্গাভবন-লাগোয়া রেস্তোরাঁয় ওয়াইন সস মেখে মোহময়ী হয়ে উঠছে চিংড়ি। পোশাকি নাম, ‘প্রন ইন ওয়াইন সসেজ’। থাকছে চিংড়ির আরও নানা আইটেম। সঙ্গে ইলিশের সাবেক ভাপা, পাতুরি আর সর্ষে ইলিশ। রেস্তোরাঁর ম্যানেজার অমিত দাস জানালেন, পুজোয় নানা ধরনের পদ নতুন করে বানাচ্ছেন তাঁরা। পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ২৩ রকমের স্যুপ এবং ১০ রকমের স্যালাড।
নাট্যকর্মী, তথা শিক্ষিকা মৌসুমী মিত্র নতুন রেস্তোরাঁগুলিতে নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া করেন। বললেন, ‘‘বাড়িতে অতিথি এলে একটু ভাল পরিবেশে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করার জন্য এত দিন যে অভাবটা ছিল, তা ধীরে ধীরে মিটছে। এটা খুবই ভাল।’’